ধুতুরা ফুল


রাত একটার দিকে আমাকে একজন পতিতা সহ পুলিশ ধরল খিলক্ষেত থেকে। নাম-ধাম সব ধরণের জেরা শুরু হয়ে গেলো। মেয়েটাকে দেখলাম জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ল্যাম্পপোস্টের নীচে। সেদিকে আঙুল তুলে পুলিশ অফিসার আমাকে ধমকে জিজ্ঞেস করলেন, দেইখা তো ভদ্রলোক মনে হয়। রাইত-বিরাইতে বেশ্যা নিয়া টালটুবালটু করেন লজ্জা করে না?

অল্প আলোয় অফিসারের চেস্ট নেইম-প্লেট দেখা যাচ্ছে। বদর উদ্দিন। ভয় পেলে চলবে না। আমি বদর সাহেবের দিকে তাকিয়ে জানালাম। আমি মেয়েটিকে চিনি না। এখন না চিনারই কথা। দুনিয়ার নিয়ম। কাজ ফুরাইলে কেউ কাউরে চিনে না। আপনি মেয়েটির কাছেই শুনুন। চুপ। একদম কথা কবি না।

পুলিশ অফিসার কলজে কাঁপানো ধমক দিয়ে তাঁর অধঃস্তন একজনকে ডাকলেন, মহসিন এই লোকরে সার্চ করো। আমার পুরো শরীর সার্চ করা হলো। অফিসের আইডি কার্ড, মানিব্যাগ আর রুমাল ছাড়া কিছুই পাওয়া গেলো না। অফিসার বিদ্রূপের স্বরে বললেন, প্রোটেকশন ছাড়াই কাম করস? মরবি তো।

কিছু বলার সুযোগ পেলাম না। তিনি আবার হাঁক দিলেন, মোবাইল কই?

আসলেই তো, আমার মোবাইল কোথায়? হঠাৎ ঝামেলায় সব তালগোল পাকিয়ে ফেলেছি। মনে পড়ল। মেয়েটির কাছ থেকে মোবাইলটা এখনও ফেরত নেয়া হয়নি। আঙুলের ইশারায় দেখিয়ে দিলাম। মেয়েটি মাথা ঝুঁকিয়ে আমার মোবাইল ওদের হাতে তুলে দিলো। অফিসারের মুখে বিজয়ীর হাসি। একটু আগে যে বললেন মেয়েটারে চিনেন না? চিনানের ব্যাবস্থা নিতেছি, ওয়েট। মহসিন দুইটারে গাড়িতে উঠাও। প্লিজ শুনুন...... চুপ। কথা বাড়াইলে ডলা এইখানেই শুরু হবে।

রাত কয়টা বাজলো কে জানে। পুলিশ ভ্যানটা শ্যাওড়া ফ্লাই-ওভারের শেষ মাথায় এসে দাঁড়িয়ে আছে। পুলিশ অফিসার তাঁর জুনিয়রদের নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন। একটু পরপর হাতের ওয়াকি-টকিতে কোডিং স্টাইলে কথা বলছেন। দিস ইজ নাইট বার্ড থ্রি, অল ষ্টেশন বি এলার্ট। ওভার......

অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা মহসিনের নিচু স্বরে বলা কিছু কথা কানে আসছে, স্যার মানিব্যাগে টাকা-পয়সা খারাপ নাই। মোট চাইর হাজার তিনশো। ড্রাইভার সহ আমরা মোট লোক আছি চাইরজন।

আর কোন কথার শব্দ পাওয়া গেলো না।

ভ্যানের এক পাশ থেকে মেয়েটির মুখে স্ট্রিট-ল্যাম্পের আলো এসে পড়েছে। হাতে একটা কটকটা লাল ব্যাগ। পুলিশের টর্চের আলোয় দেখেছিলাম। সোডিয়াম লাইটের আলো পড়ে ব্যাগটা এখন কালচে মনে হচ্ছে। মেয়েটি এতক্ষণ মরা মাছে মত নির্লিপ্ত মুখ নিয়ে আমার সামনের সিটে বসে ছিল। আমার দিকে চোখ পড়তেই হ্যান্ড-ব্যাগ থেকে এক পিস কেক আর একটা কলা বের করে হাতে নিয়ে আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো।

ছিটকে সরে গেলাম। মেয়েটি বলল, আপনার জন্য খারাপ লাগতেছে। হুদাই ফাঁসলেন। আপনার চেহারা দেখে মনে হইতেছে রাত্রে কিছু খাওয়া হয় নাই। নেন খান।

এই পর্যায়ে অফিসার ভদ্রলোক আবার এসে দাঁড়ালেন। আমার দিকে তাকিয়ে চাবিয়ে-চাবিয়ে বললেন, ঐ পীরিত বন্ধ! তর ঘরে বউ আছে? জ্বি আছে। বউয়ের কন্ট্যাক্ট নাম্বার দে।

বুকের ভেতর কে যেন দুরমুজ দিয়ে আঘাত করলো। এক টানা অনুনয়ের স্বরে বললাম, প্লিজ এই কাজটা করবেন না। আমার স্ত্রী স্ট্রেইট মারা যাবে। ও অসুস্থ। কুর্মিটোলা জেনারেলে আছে। সকাল হলে সিজার। আমার কথা.........

চুপ। তুই তো কথা বেশি বলিস রে!

বদর উদ্দিন সোজা তুই সম্বোধনে এসে কিছুক্ষণ ধমকে আবার দূরে গিয়ে দাঁড়ালেন।

বেশ সময় পার হলো। রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি। নিয়ন আলোর শহরে আকাশটা আজ একটু বেশি অন্ধকার হয়ে আছে। রাত কয়টা হবে এখন? ডিউটি অফিসার বদল হয়েছে মনে হচ্ছে। বদর উদ্দিনকে আর দেখা যাচ্ছে না। নতুন আসা অফিসার মাঝারী গড়নের। তাঁর চোখেমুখে স্পষ্ট বিরক্তির ছাপ। তিনি আমাকে তুই করে বললেন না। তুমি করে বললেন। আমার দিকে ঝুঁকে এসে বললেন, নাশকতার খবর ছিল। গত রাত দশটার পর থেকে এলাকায় রেড-এলার্ট জারী ছিল এইটা কি জানতা না?

মাথা নাড়িয়ে জানালাম, জানতাম না।

মহসিন এসে তাঁর কানে-কানে কিছু একটা বলল। তিনি একটা নোটবুক বের করলেন কার্গো-প্যান্টের সাইড পকেট থেকে। আমার স্ত্রীর নাম, ওয়ার্ড নাম্বার, কেবিন নাম্বার সব নোট করে নিলেন। এক পর্যায়ে দ্বিগুণ বিরক্তি নিয়ে বললেন, ধরা পড়া ক্রিমিনালরা উলটাপালটা বহুত কথা বলে বাঁচার জন্য। সেইদিন একজন জ্যাতা বাপরে মেরে ফেলছে। বলে আমার বাপের কবর দিয়া ফিরলাম স্যার। পরে এমন পিডানি দিছি যে জ্যাতা বাপের নামও ভুলে গেছে। কথা কি বুঝা গেছে?

জ্বি বুঝা গেছে। - আমি মাথা ঝুঁকিয়ে সায় দিলাম।

পুবের আকাশ ফর্সা হতে শুরু করেছে। পুলিশ ভ্যানটি গাল্ফ গার্ডেনের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ স্টাফরা সবাই সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ানো। ওয়াকি-টকিতে কিছুক্ষণ পরপর অস্পষ্ট কথার সাথে গিজ-গিজ টাইপের শব্দ হচ্ছে। একটি অনিশ্চিত গন্তব্যের অপেক্ষায় আছি। আমার মোবাইলটা সম্ভবত সুইচড-অফ করে রাখা। না হলে এতক্ষণ আমার স্ত্রীর ফোন চলে আসার কথা ছিল। ওর পাশে শাশুড়ি আছেন এটাই যা ভরসা। অন্তত সকালটা হোক। এরপর দেখা যাবে। ভাবতে ভাবতে প্রচণ্ড মাথা ব্যথা শুরু হয়েছে আমার। মেয়েটিকে দেখলাম কেক আর কলা এখনও হাতে নিয়ে বসে আছে। তাকালেই মেজাজ খারাপ হচ্ছে। এতক্ষণ মহসিন আমাদের পাশে ছিল। এখন কেউ নেই। আমি মেয়েটিকে সন্দেহের চোখে জিজ্ঞেস করলাম, ওরা যা বলছে তুমি কি আসলেই তাই?

আলোআঁধারিতে দেখতে পেলাম মেয়েটির মুখে তাচ্ছিল্যের হাসি ছড়িয়ে পড়েছে। হাসো কেন? উত্তর দাও। যেই শব্দটা বলতে আপনার মুখ সরতেছে না, সেই কাজ আমি দিন-রাইত করি এইজন্য হাসতেছি। আজব না? হিহিহি। নেন কেক আর কলাটা খান। খাবারে তো আর দোষ করে নাই।

আমার শরীর কাঁটা দিয়ে উঠলো। এ আমি কার পাল্লায় পড়েছি না জেনে? মেয়েটি খাবারগুলো সিটের উপর রেখে নেমে পড়ল। জিজ্ঞেস করলাম, কোথায় যাচ্ছ?

তা দিয়া আপনার কাম কী?

উঁকি দিয়ে দেখলাম মেয়েটি অফিসারের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি। ও সত্যটা বলতে পারলে বিপদ কেটে যাবে। অফিস শেষ করে সোজা গিয়েছিলাম কুর্মিটোলা হাসপাতালে। সেখানে আমার সন্তান সম্ভবা স্ত্রী হৃদিকে ভর্তি করানো হয়েছে। একজন বন্ধুর আসার কথা ছিল আগাম রক্তের জন্য। সিজারের সময় লাগবে। রাত বারোটার দিকে ফোন দিয়ে বলল, দোস্ত বাসায় মেহমান। সকালে আসি কেমন? নিকুঞ্জে আমার বাসা। খিলক্ষেতে আসতেই থমকে গিয়েছিলাম। এক মেয়ের সাথে সিএনজি ড্রাইভার বেশ ধ্বস্তাধস্তি করছে। এগিয়ে যাওয়ার আগেই সিএনজি পালিয়ে গেলো। মেয়েটি ফুঁপিয়ে কেঁদে ফেলল, হারামিটা আমার মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভাগছে।

ঢাকা শহরে এগুলো নতুন না। তাছাড়া এত রাতে একটি মেয়ে...... কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই সে বলল, আজকের ট্রেন লেইট ছিল। এয়ারপোর্ট স্টেশান থেকে এই সিএনজি নিয়ে ফিরতেছিলাম। ভাড়া নিয়ে উলটাপালটা বলে। শেষে কী কাণ্ডটা করলো দেখেন।

কীভাবে সান্ত্বনা দেয়া উচিৎ বুঝে উঠতে পারলাম না। মেয়েটি চোখ মুছে নিয়ে বলল, ভাইয়া একটা দয়া করবেন? কী দয়া? আপনার মোবাইল দিয়ে একটা ফোন দিতাম। জরুরী।

আমি মোবাইল এগিয়ে দেয়ার মিনিট দুইয়ের মধ্যেই পড়ে গেলাম পুলিশের খপ্পরে। কে জানতো যে এই মেয়ে নিশিকন্যা গোছের কেউ? বাজে মেয়েছেলে। কথায় কথায় মিথ্যা।

মনে মনে বিড়বিড় করতে-করতে এক দলা থু ফেললাম রাস্তায়। মেয়েটি ফিরে এসেছে। উপরে উঠে সীটের উপর থেকে কেক আর কলা নিয়ে আবারও নেমে পড়লো। কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, আমার বিষয়ে সব কি খুলে বলেছো তুমি?

মেয়েটি মুখ ঘুরিয়ে নিলো। রহস্য করে উত্তর দিলো, সব খুলতে হয় না। আমাদের সামান্য জিনিষ খুললেও চলে। হিহিহি। আমি যাই।

ফিরে যাওয়ার আগে একবার পেছনে ফিরে তাকাল। বলল, চিন্তা নিয়েন না। আপনার মোবাইল দিয়ে খারাপ কোথাও ফোন দেই নাই। আজ চিটাগাং থেকে ফিরছি। সেখানে আম্মা আর ছোট বোন থাকে। পরশু বোনকে দেখতে আসার কথা। মেলা টাকা লাগবে। আম্মা টেনশানে ছিল। আপনার ফোন দিয়ে উনারে নিশ্চিন্তায় থাকতে বলছি। আর কিছু না।

মেয়েটি সত্যিই চলে গেলো। মাথা বাড়িয়ে দেখলাম সে কেক আর কলায় একটা কামড় বসিয়ে নিশুতি রাতের প্রায় নির্জন হাই-ওয়ে পার হয়ে চলে যাচ্ছে।

ফজরের আযান হওয়ার মিনিট বিশেক পর আমাকে রেডিসনের সামনে থাকা যাত্রী ছাউনির পাশে নামিয়ে দিয়ে পুলিশ ভ্যান চলে গেলো। বেশ খানিকক্ষণ ফুটপাতে পা ছড়িয়ে বসে রইলাম। গতকাল দুপুর থেকে এক পিস সিঙ্গারা ছাড়া পেটে আর পড়েনি কিছু। ভেবেছিলাম রাতে বাসায় গিয়ে একবারে গোসল দিয়ে কিছু খেয়ে নেবো। তা আর হলো কই?

কুর্মিটোলা হাসপাতালটা দেখা যাচ্ছে এখান থেকে। রাস্তা পার হয়ে যাবো সে শক্তিও পাচ্ছি না। ওরা আমার মোবাইল, অফিস আইডি কার্ড, মানিব্যাগ ফেরত দিয়ে গেছে। মানিব্যাগে মাত্র একশো টাকার একটা নোট কোনার দিকে পড়ে আছে। আমার মুখে আবারও থুথু জমতে শুরু করেছে। থুথু ফেলতে গিয়ে পাশে ড্রেনে হড়হড় করে বমি করে ফেললাম।

খালি পেটে বমি হলে বেশি নাজেহাল লাগে। ঝিম মেরে মুখ হা করে বসে আছি ড্রেনের পাশে। টের পাচ্ছি কেউ একজন মাথায় পানি ঢালছে। পানি আমার চুল, মুখ, ঘাড় বেয়ে নেমে যাচ্ছে। আহ শান্তি! ঘোরের মধ্যে ঝাপসা চোখ নিয়ে মাথা উঁচু করলাম। একজন পুলিশ অফিসার আমার দিকে হাসি-হাসি মুখ করে তাকিয়ে আছেন। তিনি বলছেন, প্লিজ মাথা উঠাবেন না ভাই। আপনি অসুস্থ। আরেকটু পানি ঢালি।

বলতে বলতে তিনি হাঁক দিলেন, সালাম আমার খাবার পানির বোতলটা আনো।

অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি পুলিশ অফিসারের দিকে। তাঁর হাতে হাফ-লিটারের একটা মাম পানির বোতল। বুকের এক ধারে নেইম-প্লেটে আলম নামটা ঝকঝক করছে। তিনি বোতলের মুখ খুলে আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে জানতে চাইলেন। কোথায় যাবেন আপনি? হাসপাতালটা ইশারায় দেখিয়ে দিলাম। তিনি আবারও হাঁক দিলেন, সালাম ইনাকে হাত ধরে রাস্তা পার করে দাও। যে বিজি রোড!

ভদ্রলোকের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকলাম নীরব হয়ে। তিনি মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করলেন, কিছু বলবেন?

ধরা গলায় কোনোমতে বললাম, নাহ।

এডমন্ড মারফির ল’ বলে ক্যাওস আসার সময় দল বেঁধে আসে। আমার কাছে মাঝেমধ্যে মনে হয়, সুখও একা আসে না। আসার সময় এক সাথে অনেকগুলো আসে।

সকাল দশটার দিকে সিজার শুরু হলো। ডাক্তার-নার্স-ফার্মেসি করতে-করতে পাগল হয়ে যাওয়ার অবস্থা। গ্রামের বাড়ী থেকে একটা মানুষ আনতে পারলাম না এই দুঃসময়ে। না পারলে নাই। আমার সব কষ্ট মুহূর্তে উড়ে গেলো আমার সদ্য ভূমিষ্ঠ পরীকন্যার মুখ দেখে। দুপুরের দিকে বন্ধু ফোন দিলো, দোস্ত আসতে পারলাম না বলে মন খারাপ করিস না। জটিল শিপমেন্টে আঁটকে গেছি। বুঝিস তো।

সি-সেকশানের ঝামেলা কাটিয়ে হৃদির হাসি-মুখ দেখলাম সন্ধ্যা পেরিয়ে যাওয়ার পর। ও চিন্তিত হয়ে বলল, সারারাত ফোন অফ পেয়েছি। ভাবলাম ঘুমাচ্ছ। কিন্তু তোমাকে খুব ক্লান্ত মনে হচ্ছে।

সঙ্গত কারণেই একটা নকল হাসি দিয়ে সব চেপে গেলাম। পৃথিবীর সব চেয়ে সুন্দরতম দৃশ্যটি এখন আমার চোখের সামনে। একজন মা তাঁর বাচ্চাকে কোলে নিয়ে আদর করছে। চোখে পানি চলে আসার মতো।

আমার তাকিয়ে থাকা দেখে স্ত্রী মৃদু উৎকণ্ঠা নিয়ে জিজ্ঞেস করলো, এবার আমার পাশে শুয়ে চোখ দুটো একটু বোজো তো। কয়েকদিন মোটেও বিশ্রাম পাওনি। বন্ধু আসবে না জেনে ফেইসবুকে রক্ত চেয়েও মনে হয় পোস্ট করেছিলে তাই না?

চমকে উঠলাম। আমি কোথাও কোন পোস্ট করিনি। আমার স্ত্রী চোখেমুখে তৃপ্তি ছড়িয়ে বলল, একটা মেয়ে এসেছিলো। বলল ফেইসবুকের পোস্ট পেয়ে এসেছে। জাফরানি রঙের থ্রি-পিস পরা। হাতে একটা লাল ব্যাগ। কত লক্ষ্মী একটা মেয়ে। এতকিছু খেয়াল করলে কী করে? বাহ রে! যে মানুষটা আমাকে বাঁচাতে এসেছে তাঁকে দেখবো না ভাল করে। দেবতার চেয়ে এঁরা কোন অংশে কম?

কেবিনের বাইরে এসে দাঁড়িয়েছি। আকাশে আবারও রাত বাড়তে শুরু করেছে। আজ রাতের আকাশটা অন্ধকার নয়। বরং বেশ আলোকিত। এখান থেকে এয়ারপোর্টের ব্যস্ত রাস্তাটা সহজেই চোখে পড়ে। কতো সহস্র মানুষ গিজগিজ করছে রাস্তায়। এঁদের ভিড়েই আলম সাহেবরা থাকেন। এঁদের ভিড়েই একটি মেয়ে রাতের আঁধারের বলয়ে ঘুরপাক খায়। তাঁর হাতে থাকে লাল ব্যাগ। ব্যাগের মধ্যে থাকে প্যান্ডোরা-বক্সের মত সহস্র রহস্যময় কষ্ট। রঙবেরঙের কষ্ট!

0 comments
Enjoy
Free
E-Books
on
Just Another Bangladeshi
By
Famous Writers, Scientists, and Philosophers 
Our Social Media
  • Facebook
  • Twitter
  • Pinterest
Our Partners

© 2023 by The Just Another Bangladeshi. Proudly created by Sen