top of page

আত্মা বা প্রাণ বলতে কি বোঝায়? আমাদের দেহে কি রুহ বা জান নামক অশরীরী কিছুর অস্তিত্ব আছে?

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী রুহ বা জান বা প্রাণ হলো আমাদের দেহে অবস্থান করা অশরীরী কিছু একটা যা দেহ ও মনের সবকিছু নিয়ন্ত্রন করে এবং এটা যখন শরীর থেকে বের হয়ে যায় তখন লোকটিকে মৃত বলা হয়। কিন্তু বিজ্ঞানের ভাষায় প্রাণ বলতে যা বোঝায় ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী প্রাণ বলতে যা বোঝায়, দুটোই কি এক নাকি ভিন্ন? আসুন সেই ব্যাপারে একটু জানার চেষ্টা করি।

বিজ্ঞানের ভাষায় -

"প্রাণ বলতে সাধারণত প্রাণীদেহে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার ঐকতান বা সমন্বয় কে বোঝায়।"

কোন কারনে এই সাম্যাবস্থার বিঘ্ন ঘটলে বিক্রিয়াগুলো বন্ধ হয়ে যায় । ফলে শক্তি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ধরুন কোষগুলো অকেজো হয়ে পড়ে। এভাবে সবগুলো কোষ যখন অকেজো হয়ে যায়, তখন এই অবস্থা কে আমরা মৃত্যু বলি।

যেমনঃ আমাদের হৃদপিণ্ডে যখন বড় ধরনের ব্লক সৃষ্টি হয়, তখন হার্ট ঠিকমতো পাম্প কর‍তে পারে না, ফলে মস্তিষ্কসহ দেহের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ধরুন মস্তিষ্কের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গ সমূহে সংঘটিত বিক্রিয়াগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সংশ্লিষ্ট বিক্রিয়া থেকে শক্তি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

তাহলে আমরা বুঝলাম বিজ্ঞানের ভাষায় প্রাণ বলতে যা বোঝায় এবং ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী প্রাণ বলতে যা বোঝায় তা এক নয়।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী যদি একটা জীবের দেহে একটা প্রাণই থাকে তবে - নিচের বিষয় গুলো কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

১) একটা জীবিত সাপকে কেটে দুই টুকরো করলেও দেখা যায় উভয় অংশ লাফাচ্ছে। তাহলে কি দুই অংশে দুইটা প্রাণ ছিল?

২) একটা গাছের বিভিন্ন ডাল কেটে নিয়ে মাটিতে লাগালে সেটাতে পুনরায় শিকড় গজায়। তাহলে কি গাছের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন প্রাণ ছিল?

৩) শিং, মাগুর, কই ইত্যাদি মাছের পেট, নাড়ি, ভুড়ি, লেজ, পাখনা, ইত্যাদি অংশ কেটে ফেলে দেওয়ার অনেক পরেও দেখা যায় যে,মাছটা জীবিত আছে। এটা কিভাবে সম্ভব?

৪) একটা গরুকে জবাই করে, গোশত টুকরো টুকরো করার পরেও দেখা যায় কিছু কিছু গোশতের টুকরো কাঁপতেছে, এটা কেন হয়?

৫) কখনো কখনো দুই মাথা ওয়ালা মানুষ ও জন্ম নিতে দেখা যায়, এবং একই বডির দুই মাথার চিন্তা ভাবনা, কথাবার্তা সম্পূর্ণ আলাদা হয়। এটা কিভাবে সম্ভব?

৬) বর্তমানের চিকিৎসা বিজ্ঞান এতো উন্নত হয়েছে যে,মানব দেহের বিভিন্ন পার্টস এখন ট্রান্সফার করা যায় এবং একজনের দেহের পার্টস অন্য জনের দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। তাহলে, এখন প্রশ্ন রূহ টা আসলে দেহের কোন অঙ্গে থাকে অথবা এটা দেহের মধ্যে কিভাবে আছে?

যদি কেউ বলে হার্টের মধ্যে থাকে, তাহলে ত আমরা জানি এখন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা হার্ট ও ট্রান্সফার করে ফেলতে পারেন। যদি কেউ বলে কিডনিতে থাকে, তাহলে কিডনিও ট্রান্সফার করা সম্ভব।


0 comments

Recent Posts

See All

Comments


Enjoy
Free