প্যারাডক্সিকাল সাজিদ এর যুক্তি খন্ডন (পর্ব-১)


এই সিরিজে আমরা আরিফ আজাদের প্যারাডক্সিকাল সাজিদ-১ নামক বই থেকে সাজিদের ১০ টি বাছাইকৃত যুক্তিকে কয়েকটি আলাদা আলাদা পর্বে বিজ্ঞানভিত্তিক ভাবে বিশ্লেষণ করে দেখাবো যে, কিভাবে সেগুলো অত্যন্ত দুর্বল, মনগড়া ও লেইম যুক্তিতে ঠাসা যা সাজিদ ভক্ত সাধারণ পাঠকেরা কখনো বুঝতে পারে না। পরবর্তীতে সবগুলো পর্বকে একত্র করে pdf আকারে ব্লগের Ebook Library তে আপলোড করে দিবো। আপনারা সেখান থেকে ফ্রি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক সাজিদের সেই বাছাইকৃত যুক্তিখণ্ডনগুলো কেমন।

যুক্তি-১ঃ

স্টিফেন হকিং এর থিওরি শুধুমাত্রই একটি থিওরি এটা ফ্যাক্ট নয়।

[প্যারাডক্সিকাল সাজিদ-১, অধ্যায়-৪ ]

উত্তরঃ

জনাব সাজিদ আপনি সম্ভবত জানেনই না যে, বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে থিওরি বা ফ্যাক্ট আসলে কি জিনিস। জানলে এরকম করে বলতেন না কখনো। আপনি হয়তো ভাবছেন কালিমুদ্দিন নামক কোন এক বিজ্ঞানী বসে বসে চিন্তা করে একখান কথা বলেছে সেটাই তার থিওরি। কিন্তু আপনি কি জানেন একটা সায়েন্টিফিক থিওরিকে থিওরির মর্যাদা পেতে হলে কতগুলো ধাপ পেরিয়ে এবং অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়? জেনে না থাকলে আপনার জ্ঞাতার্থে এখানে অল্পকথায় বুঝানোর চেষ্টা করি। আগে মন দিয়ে শুনেন, তারপর আপনার কিছু বলার থাকলে বলবেন। একটা সায়েন্টিফিক থিওরি বা ল' বা হাইপোথিসিস কিংবা ন্যাচারাল ফ্যাক্ট কি জিনিস এবং বিজ্ঞানের জগতে এদের কোনটার মর্যাদা কেমন সেটা জানতে হলে আপনাকে ধৈর্য ধরে মনোযোগসহকারে নিচের আলোচনা টুকু

পড়তে হবে।


ফ্যাক্টঃ

ফ্যাক্ট হল বাস্তবতা যেটা, চোখের সামনেই ঘটছে এবং অতীতে ঘটেছে এরকম যেকোনো ঘটনা। যেমনঃগাছ থেকে আপেল পড়া,ইলেকট্রনের কণা ও তরঙ্গ হিসেবে আচরণ করা,বিবর্তন হওয়া ইত্যাদি।


হাইপোথিসিসঃ

হাইপোথিসিস হল এমন একটি ধারণা বা প্রস্তাব যা প্রাকৃতিক বিশ্ব সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করা যায়। অর্থাৎ একটা প্রাকৃতিক ঘটনা কিভাবে ঘটছে,কি নিয়মে ঘটছে তার একটা সম্ভাব্য কারণ কিংবা সুসংবদ্ধ ব্যাখ্যা যেটা পরবর্তীতে পরীক্ষায়-নিরীক্ষায় সত্য প্রমাণিত হতে পারে আবার মিথ্যাও হতে পারে।

উদাহরণ-১ঃ 1865 সালে গ্রেগর মেন্ডেল যখন তার বাগানের মটরশুটিগুলির একক বৈশিষ্টের উত্তরাধিকারের ধরণটি অধ্যয়ন করেছিলেন তখন কীভাবে এই বৈশিষ্ট্যগুলি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়েছিল সে কার্যপদ্ধতিতে তিনি একটি হাইপোথিসিস গঠন করেছিলেন। তাঁর পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তিনি যে হাইপোথিসিসটি গঠন করেছিলেন সেগুলির মধ্যে নিম্নলিখিতগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

১) জীবের মধ্যে এমন একটি কারণের যুগল ফ্যাক্টর রয়েছে যা প্রদত্ত বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

২)জীব তার পিতামাতা উভয়ের একজনের কাছ থেক এই বৈশিষ্ট্যগুলি উত্তরাধিকার সূত্রে পায়।

৩) প্রত্যেকটি বৈশিষ্ট্য ধারাবাহিকভাবে , অপরিবর্তনীয় ইউনিট হিসাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়।

যখন গেমেটগুলি গঠিত হয়, তখন এই ফ্যাক্টর গুলি পৃথক হয় এবং প্রতিটি গেমেটে ইউনিট হিসাবে বিতরণ হয়। (এই বিবৃতিটি মেন্ডেলের পৃথকীকরণের নিয়ম হিসাবেও পরিচিত)

যদি কোনও জীবের একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য দুটি অসদৃশ ফ্যাকটর থাকে তবে একটিকে অপরটির সম্পূর্ণ বর্জনরূপে প্রকাশ করা যেতে পারে।

উদাহরণ-২ঃ কেমিস্ট্রিতে নবম দশম শ্রেণির বইয়ে আমরা আমরা পরমাণু মডেল নিয়ে বিভিন্ন বিজ্ঞানীর কিছু প্রস্তাবনা বা স্বীকার্য সম্পর্কে পড়েছিলাম, সেগুলো হাইপোথিসিস।

আবার কোয়ান্টাম জগতে কথাগুলোর অদ্ভুতুরে আচরণকে কিছু নিয়মের মধ্যে আবদ্ধ করা যায়, এটাও হাইপোথিসিস। হাইজেনবার্গ এর অনিশ্চয়তা নীতি, ম্যাক্স প্লাঙ্কের প্রকল্প, তরঙ্গ ফাংশন, শ্রোডিঙ্গারের সমীকরণ এগুলো ও হাইপোথিসিস। নিচে হাইপোথিসিসের একটি নমূনা দেখানো হলো -


থিওরিঃ

প্রেডিকশনের ভিত্তিতে বারবার পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর যদি দেখা যায় হাইপোথিসিসের কথাগুলো বারবার সত্যি প্রমাণিত হচ্ছে এবং এমন কোন পর্যবেক্ষন করা যাচ্ছে না যা দিয়ে ঐ হাইপোথিসিস ভুল প্রমাণিত হতে পারে, তখন সেটাকে বলা হয় থিওরি। আরও সংক্ষেপে বলতে গেলে একটা হাইপোথিসিসের ব্যাখ্যা যদি এক্সপেরিমেন্টালি বা ম্যাথমেটিক্যালি সত্য হিসেবে প্রমাণিত হয়, তবেই সেটা থিওরির মর্যাদা পায়। অন্যভাবে বলতে গেলে, বিজ্ঞানীদের কাছে সায়েন্টিফিক থিওরি হল প্রাকৃতিক বিশ্ব সম্পর্কে প্রচুর পরিমাণে তথ্য এবং পর্যবেক্ষণের জন্য একটি সুসংগত ব্যাখ্যা। অর্থাৎ একটি থিওরি হ'ল: অভ্যন্তরীণভাবে সংগতিপূর্ণ এবং প্রমাণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে বিস্তৃত ঘটনাগুলির বিপরীতে পরীক্ষিত ও সমস্যা সমাধানে স্পষ্টভাবে কার্যকর ব্যাখ্যা।

উদাহরণঃ আইন্সটাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব

( Einstein's general theory of relativity and special theory of relativity),

মলিকিউলার অরবিটাল থিওরি, VSEPR theory, অ্যালেন গুথের "ইনফ্লেশনারী বিগ ব্যাং মডেল", লিন্ডের "কেওটিক ইনফ্লেশন থিওরি "

মেন্ডেলের "জেনেটিক্স থিওরি " ইত্যাদি।


Law বা সূত্রঃ

সায়েন্টিফিক ল' বা সূত্র হ'ল একটি প্রাকৃতিক ঘটনা বা নিয়মের বর্ণনা যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নির্দিষ্টভাবে সত্যকে ধরে রাখে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ঘটবে। আরও সহজ করে বলতে গেলে, প্রকৃতিতে কিছু একটা ঘটছে এবং সেটা কোন নিয়ম মেনে চলছে তার একটি গ্রহনযোগ্য বর্ণনা বা গানিতিক প্রমাণই হল ল'।

উদাহরণ-১ : মেন্ডেলের বংশগতির সূত্রসমূহ হল ল'। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে, বারবার পরীক্ষার পরে এবং সমস্ত প্রতিযোগিতামূলক তত্ত্বগুলি প্রত্যাখানের পর মেন্ডেলের বংশগতি সূত্রসমূহকে (Mendel's Laws of Heredity) সাধারণ বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায় গ্রহন করে নিয়েছিল। এই সূত্র গুলি হলো-

১) পৃথকীকরন সূত্র, যা বলে যে, সংকর জীবে বিপরীত বৈশিষ্ট্যের ফ্যাকটরগুলো ( জিনগুলো) মিশ্রিত বা পরিবর্তিত না হয়ে পাশাপাশি সহাবস্থান করে এবং গ্যামেট সৃষ্টির সময় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামেটে গমন করে। এটি মনোহাইব্রিড ক্রস সূত্র নামেও পরিচিত।

২) স্বাধীন মিলনের সূত্র, একটি জীবে দুই বা ততোধিক জোড়া বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী ফ্যাক্টরগুলো (জিনগুলো) গ্যামেট সৃষ্টির সময় সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে মুক্ত ও বিন্যস্ত হয়।

উদাহরণ -২ঃ 17 শতকের শেষদিকে নিকোলাস স্টেনো ভূতত্ত্ব সম্পর্কিত কিছু প্রাকৃতিক ল' বা সূত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এগুলো হলো-

১) The law of original horizontality--

এটিতে বলা হয়েছে যে, পললগুলি যখন পানিতে জমা হয় তখন এর মাধ্যমে তারা ডুবে যাবে এবং মহাকর্ষের ধরুন অনুভূমিক স্তর হিসাবে জমা হবে (যদি অন্য কোন ফোর্স কাজ না করে )।

২) The law of stratigraphic succession --- এতে বলা হয়েছে যে পললগুলির একটি নির্দিষ্ট বিন্যাসক্রমের মধ্যে সবচেয়ে পুরাতনটি পাদদেশে এবং সর্বকনিষ্ঠটি শীর্ষে থাকবে। এটি পললগুলির বয়সসমূহের তথ্য সরবরাহ করে না, কেবল তাদের জমা হওয়ার বিন্যাস ক্রমকে বোঝায় ।

উদাহরণ -৩ঃ নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র (Newtons Law of Gravity) । এতে বলা হয়েছে, মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষন করে। এই আকর্ষন বলের মান বস্তুদ্বয়ের ভরের গুনফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যাস্তানুপাতিক এবং এই বল এদের সংযোগকারী সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে।


জনাব সাজিদ এতক্ষণে মে বি আপনি বুঝে গেছেন যে,বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ফ্যাক্ট, হাইপোথিসিস, থিওরি এবং ল' বা সূত্র বলতে কি বোঝায়। আরেকটু ধৈর্য ধরুন, একেবারে ক্লিয়ার করে দিচ্ছি আপনাকে।


বিজ্ঞানে ল' এবং থিওরি দুটোই মূলত ন্যাচারাল ফ্যাক্টকে মডেলিং করার সিস্টেম। বিভিন্ন পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হাইপোথিসিসের ম্যাথম্যাটিকাল ফর্মূলা গঠন করার পর যদি দেখা যায় যে, এক লাইনের ম্যাথম্যাটিকাল রিলেশনশিপ আসে তখন সেটা হয় ল' ।

( যেমনঃ Laws of Thermodynamix, Newtons Law of gravity, Mendel's Law of Heredity,.....ইত্যাদি ) , আর যদি ইকোয়েশনটা আকারে বড় এবং বিস্তারিত কথাবার্তার সাথে আসে তখন সেটা হয় থিওরি।

(যেমনঃ Einstein's General theory of relativity, Valance Bond Theory , VSEPR theory , Molecular orbital theory , Modern Evolutionary Synthesis, Inflationary Big Bang Model, ..... ইত্যাদি )


থিওরি গুলো হাইপোথিসিস এর চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য তবে ল' এর চেয়ে কম। আবার একটা সায়েন্টিফিক থিওরি পরবর্তীতে কোন বিশেষ কেসে এক্সপেরিমেন্টের সাথে নাও মিলতে পারে! কিন্তু এর মানে এটা নয় যে, থিওরিটা ভুল। এর অর্থ থিওরি টি সার্বজনীন না। এখন কেউ যদি পারে তাহলে সে আগের থিওরি তে সামান্য সংযোজন বিয়োজন করে সেটাকে আরও প্রসারিত করতে পারে।

আবার এক্ষেত্রে কেউ যদি নতুন থিওরি ধার করাতে চায় তাহলে তাকে আগের থিওরি যে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছিলো, সেটা ব্যাখ্যা করতে হবে নতুন করে, নাহলে সেটা বিজ্ঞানীমহলে গ্রহনযোগ্য হবে না । কিন্তু সেটা না পারার মানে এই নয় যে, আগের থিওরিটা ভুল। এটি এখনো একটি থিওরি হিসেবেই থাকবে, কেননা এটি একটি বিশেষ কেইস ছাড়া বাকি সব ঘটনাই সফলভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে। যেমনঃ ১৯২৭ সালে বিজ্ঞানী জর্জ লেমিত্রি মহাবিশ্বের উৎপত্তি ব্যাখ্যায় বিগ ব্যাং এর ধারণা প্রস্তাব করেছিলেন। তিনি আইন্সটাইনের ক্ষেত্র সমীকরণ থেকে ফ্রিদমান সমীকরণ ডেরিভেশন করে প্রস্তাব করেন যে, মহাবিশ্ব একটি সুপ্রাচীন পরমাণু থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে, যে প্রস্তাব বর্তমানে মহাবিস্ফোরণ "বিগ ব্যাং" নামে পরিচিত। পরবর্তীতে ১৯২৯ সালে বিজ্ঞানী এডউইন হাবল ল্যমেত্রির তত্ত্বের সপক্ষে একটি পর্যবেক্ষণমূলক প্রমাণ উপস্থাপন করেন। তিনি আবিষ্কার করেন যে, পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান ছায়াপথসমূহ থেকে নিঃসৃত আলোর লোহিত অপসারণ হচ্ছে এবং এই অপসারণ পৃথিবী থেকে তাদের দূরত্বের সমানুপাতিক। অর্থাৎ একটি ছায়াপথ পৃথিবী থেকে যত দূরে তা থেকে নিঃসৃত আলোর বর্ণালি ততোই লাল তথা দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের দিকে সরে যাচ্ছে। এর ফলে লেমিত্রির হাইপোথিসিস থিওরির মর্যাদা পায় এবং তখন থেকে সেটা "বিগ ব্যাং থিওরি" হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই বিগ ব্যাং থিওরির কতিপয় সীমাবদ্ধতা ছিলো, যেমনঃবিগ এর আগে কি ছিলো? বিগ ব্যাং কেন ঘটলো ? এই জাতীয় প্রশ্নের উত্তর বিগ ব্যাং থিওরি তখন দিতে পারত না । তাই উৎসুক বিজ্ঞানীরা এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে নিরন্তর গবেষণা শুরু করেন। পরবর্তীতে, আশির দশকে বিজ্ঞানী অ্যালেন গুথের গবেষণার ফলে আবির্ভাব হয়েছে স্ফীতি তত্ত্বের। বিগ ব্যাং থিওরি তখন আরও এক্সটেন্ড হয়ে "ইনফ্লেশনারী বিগ ব্যাং মডেল " রূপে পরিচিতি পায়। ১৯৮১ সালে বিজ্ঞানী অ্যালেন গুথ কর্তৃক প্রস্তাবিত এই থিওরিকে সংক্ষেপে "ইনফ্লেশন থিওরি" বা "স্ফীতি তত্ত্ব" বলা হয়। এই তত্ত্বেও একটি ছোট সমস্যা ছিলো। সমস্যাটি হলো - বিজ্ঞানী গুথ তার স্ফীতি তত্ত্ব অনুযায়ী মহাবিশ্বের স্ফীতির শুরুটা কীভাবে ঘটবে সেটা বুঝতে পারলেও এর সমাপ্তি কিভাবে ঘটবে তার কোন সমাধান দিতে পারছিলেন না। এস্ট্রোফিজিক্সে এই সমস্যাটির নাম দেয়া হয়েছিল "মার্জিত নির্গমন সমস্যা"

পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে রুশ বিজ্ঞানী আদ্রে লিন্ডে অ্যালেন গুথের পুরাতন স্ফীতি তত্ত্বে মার্জিত নির্গমন সমস্যার সমাধান করেন এবং ১৯৮৩ সালে তার "কেওটিক ইনফ্লেশন থিওরি" র মাধ্যমে আগের স্ফীতি তত্ত্বের বিভিন্ন জটিলতার সরল সমাধান দেন। ফলে গুথের "স্ফীতি তত্ত্ব" বিবর্তিত হয়ে আরও উন্নত ও গ্রহনযোগ্য হয়েছে।


জনাব সাজিদ, তাহলে আপনি কি এখন এটা বলতে পারবেন যে, লেমিত্রির বিগ ব্যাং থিওরি ভুল? সত্যিটা হল এটা কখনোই বলতে পারেন না যে,লেমিত্রির বিগ ব্যাং থিওরি কিংবা গুথের স্ফীতি তত্ত্ব ভুল। বরং আমরা এটা বলতে পারি যে, বিভিন্ন বিজ্ঞানীর গবেষণার ফলে বিগ ব্যাং থিওরি আগের চেয়ে আরও এক্সটেন্ড হয়েছে যা আমাদের মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্বকে আগের চেয়ে আরও অনেক ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে।

এতক্ষণ অনেক বকবক করলাম, এবার ফিরে আসি আপনার যুক্তিতে যেটা আমরা খন্ডন করতে চাচ্ছি।

জনাব,আপনি বলেছেন যে, স্টিফেন হকিং এর থিওরি শুধুমাত্রই একটি থিওরি, এটা ফ্যাক্ট নয়।

আমার প্রশ্ন আপনি এখানে স্টিফেন হকিং এর কোন থিওরির কথা বলছেন? আপনি পেনরোজ-হকিং থিওরি কিংবা ব্লাকহোল থিওরি যেটাই বলুন না কেন ওপরের আলোচনা যদি মন দিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে আশা করছি আপনি বুঝতে পেরেছেন যে, একটা সায়েন্টেফিক থিওরি বলতে প্রকৃতপক্ষে কি বোঝানো হয়। স্টিফেন হকিং এর মতো একজন প্রতিথযশা পদার্থবিজ্ঞানী কোন ন্যাচারাল ফ্যাক্ট কে আইডেনটিফাই করা ছাড়াই বানিয়ে বানিয়ে একটা সায়েন্স ফিকশন লিখে দিলো আর ন্যাচার সাময়িকী'র মতো নামকরা একটা জার্ণালে তা কোনরকম পিয়ার রিভিউ ছাড়াই প্রকাশ হয়ে গেলো এবং বিজ্ঞানী মহল সেটাকে গোগ্রাসে হজম করে নিলো, আপনি এমনটা ধারনা করে থাকলে ব্যাপার টা কেমন অদ্ভুত ও হাস্যকর হয়ে গেলো না ?

------------------------০-------------------------

রেফারেন্সঃ

https://www.livescience.com/amp/65683-sonic-black-hole-spews-hawking-radiation.html%EF%BF%BC

https://www.nasa.gov/mission_pages/chandra/news/black-hole-image-makes-history

https://www.sciencealert.com/scientists-have-stimulated-hawking-radiation-in-a-lab-analogue-of-a-black-hole

https://www.livescience.com/amp/65300-hawking-black-hole-theory-unlikely.html%EF%BF%BC

https://sci.waikato.ac.nz/evolution/Theories.shtml

https://bigganjatra.org/just-a-theory/

http://www.bbc.com/earth/story/20160107-these-are-the-discoveries-that-made-stephen-hawking-famous



Enjoy
Free
E-Books
on
Just Another Bangladeshi
By
Famous Writers, Scientists, and Philosophers 
Our Social Media
  • Facebook
  • Twitter
  • Pinterest
Our Partners

© 2023 by The Just Another Bangladeshi. Proudly created by Sen