top of page

স্বর্গীয় দূত বা ফেরেস্তা (angel) মিকাইলের কাজ কি? তিনি কি আল্লাহর হুকুম ঠিকমতো পালন করেন নাকি নিজের

ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে অসংখ্য ফেরেস্তাদের মধ্যে চারজন প্রধান ফেরেস্তা আছেন, যারা আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। এরা হলেন ১) জিব্রাইল --- আল্লাহর নিকট থেকে ওহী বা বার্তা নবী রাসুলদের নিকট নিয়ে আসার কাজে নিযুক্ত ২) ইসরাফিল ---- মুখে শিঙ্গা নিয়ে দাড়িয়ে আছেন, তিনি যেদিন এতে ফুঁ দিবেন সেদিন কেয়ামত হবে। ৩) মিকাঈলঃ মেঘ বৃষ্টি বর্ষন,বজ্রপাত ঘটানো, উদ্ভিদ থেকে খাদ্য উৎপাদন ইত্যাদি কাজে নিযুক্ত। ৪) আজরাইল ---- ইনি হচ্ছেন মালাক আল মাউত। মানে, মানুষের জান কবজের কাজে নিযুক্ত ।

আমার এই আলোচনায় উল্লিখিত চারজন প্রধান ফেরেস্তাদের মধ্যে আমি কেবল ফেরেস্তা 'মিকাঈল' এর ব্যাপারে কথা বলবো। প্রথমত, আমরা জানতে পেরেছি যে,মিকাঈল ফেরেস্তা দুনিয়াতে মেঘ বৃষ্টি বর্ষন ও খাদ্য বন্টনের কাজে নিযুক্ত আছেন। এখন প্রশ্ন হলো- ১) সে কি আল্লাহর হুকুম হুবহু পালন করেন? নাকি নিজের খেয়ালখুশি মতো করেন? ২) সে কি মেঘ বৃষ্টি ও খাদ্যের সুষম বন্টন (orderly) করেন নাকি খামখেয়ালিমতো বিশৃংখলভাবে (disorderly)? যদি সে খামখেয়ালি মতো কাজ করে, তাহলে সেটা হবে তার পাপ। কিন্তু আমরা জানি ফেরেশতারা কখনো পাপ করে না। তাই সে খামখেয়ালি মতো কিছু করতে পারে না, সে যা করে সবই আল্লাহর ইচ্ছায়। দ্বিতীয়ত, সে যদি আল্লাহর ইচ্ছাতেই সব করে থাকেন, তাহলে আল্লাহ কেন তাকে দিয়ে এইসব বিশৃংখল কাজগুলো করান? যেমনঃ ১) একই সময়ে কোন অঞ্চলে বৃষ্টি দেন আবার কোন অঞ্চলে দেন না। অথচ উভয় অঞ্চলেই বৃষ্টির খুব দরকার। ২) কখনো কখনো দেখা যায় কৃষকের বহু পরিশ্রমের পাকা ধান কিংবা অন্যান্য ফসল কাটার আগেই সে শিলা বৃষ্টি দিয়ে নষ্ট করে দেন, কিংবা বন্যায় তলিয়ে দেন সব ফসল। ৩) আগেকার দিনে কখনো কখনো দেখা যেতো , বৃষ্টির অভাবে তথা অনাবৃষ্টিতে কোন অঞ্চলের সকল কৃষকের ফসল মারা গেছে । ৪) আল্লাহ যেহেতু তার বান্দাদের ফসল ফলানোর জন্য বৃষ্টি বর্ষনকারী ফেরেশতা নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন, তাহলে কেন মানুষকে অনাবৃষ্টি বা খরায় ফসল ফলানোর জন্য সেঁচপাম্প ( ডিপ সেলু মেশিন) আবিষ্কার করতে হলো? এই ফেরেশতা কে নিয়োগ দিয়ে তাহলে লাভ কি হলো? তাছাড়া এখন বৃষ্টির জন্য মানুষকে আর আল্লাহর কাছে হাত তুলে প্রার্থনা করতে হয় না। বিজ্ঞানীরা এখন কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টিপাত ঘটানোর টেকনোলজি ও আবিষ্কার করে ফেলেছে। তাহলে কি আমরা এটা ভাবতে পারি না যে, মানুষ আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করে বসে আছে? ৫) একই সময়ে কোন কোন দেশের মানুষ খাদ্যের অভাবে না খেয়ে মারা যাচ্ছে, আবার কোন কোন দেশের মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য নষ্ট করছে। তাহলে দেখা যাচ্ছে ফেরেশতা মিকাঈল খাদ্যের সুষম বন্টন করছে না নিশ্চয় । ৬) এমনও দেখা গেছে আল্লাহর ঘর নামে পরিচিত মসজিদের ওপরও কখনো কখনো বজ্রপাত হয় কিংবা যে বাসাবাড়িতে কোন মুমিন বান্দা নামাজরত আছেন অথবা সেই ঘরে আল্লাহর কালাম 'কোরান' আছে সেখানেও বজ্রপাত হয়। ফেরেশতা মিকাঈল কি এইকাজগুলো করতে পারেন? যদি সত্যিই এই কাজগুলো তিনি করে থাকেন তাহলে সেটা তার পাপ হবে। কিন্তু আমরা জানি ফেরেশতা রা কখনো পাপ করে না। ৬) আফ্রিকার অনেক অঞ্চলে দেখা গেছে পঙ্গপাল নামক এক প্রকার পোকা কৃষকদের হাজার হাজার একর জমির ফসল খেয়ে নষ্ট করছে, পুরো পৃথিবীতে এটা এখন একটা আতংকের নাম। এটাও কি ফেরেশতা মিকাঈল আল্লাহর ইচ্ছাতেই করছেন? এই পঙ্গপাল আল্লাহ কেন সৃষ্টি করলেন? ৭) কেমিস্ট্রিতে 'এসিড বৃষ্টি' নামে একটা টপিক আমরা পড়েছি। এসিড বৃষ্টির PH মান 5.5। তার মানে এটা অম্লীয়। এই বৃষ্টি পরিবেশের অনেক ক্ষতি করে। যেমনঃ ★ধাতুনির্মিত সেতু, পুল, কালভার্ট, ভাস্কর্য, বিভিন্ন দালান কোঠা ইত্যাদির ক্ষয় করে। ★জলাশয়ের পানিকে অম্লীয় করে ফেলে, ফলে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রানী মারা যায়। ★ এসিড বৃষ্টির কারণে মাটির PH হ্রাস পায় ফলে মাটি অম্লীয় হয়ে পরার দরুন ফসল উৎপাদন ব্যহত হয়। ★ এটি মানুষের ত্বকের ও ক্ষতি করে --------- এখন প্রশ্ন হলো "মিকাঈল" ফেরেস্তা এই এসিড বৃষ্টি কেন বর্ষন করেন? সে কি পারে না কোন মেকানিজমের মাধ্যমে এটাকে নিউট্রাল করে তারপর ভূমিতে বর্ষন করতে? ====================== ফেরেশতাদের নিয়ে ভাবতে গেলে এরকম হাজার হাজার প্রশ্ন মনে উদয় হয়। এবং এভাবে চিন্তা করলে ধর্মগুলোকে সত্যিই ভূয়া মনে হয়।

0 comments

Comentarios


Enjoy