বিজ্ঞানীরা কি জিন বা শয়তানের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পেরেছে? (পর্ব-১)

এই প্রশ্নটা প্রায়ই মুমিনদের কাছ থেকে শোনা যায়। আমি নিজেও অফলাইনে বহু মুমিনের সাথে এই বিষয়টা নিয়ে বিতর্ক করেছি যাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার বিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রিধারী। তাই এই প্রশ্নটার একটা বিশ্নেষন-মূলক উত্তর লেখার তাগিদ অনুভব করছি। এই লেখাটাতে আমি বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত তত্ত্ব ও সূত্রসমূহের আলোকে জিনের ভূতের অস্তিত্ব/অনস্তিত্বের ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করবো।

লেখাটাকে দুটি অংশে ভাগ করে সাজানো হয়েছে। প্রথম অংশে আমরা কোরান, হাদিস ও তাফসিরসমূহের আলোকে জিনদের পরিচয়, দৈহিক গঠন,খাদ্যাভ্যাস ও বাসস্থান সম্পর্কে জানবো এবং দ্বিতীয় অংশে জিনদের অস্তিত্ব অনস্তিত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ নিয়ে আলোচনা করবো । তাহলে চলুন শুরু করা যাক -

প্রথম অংশঃ

১) জিনদের পরিচয় ও সৃষ্টির ইতিহাসঃ

কোরান, হাদিস ও তাফসির গ্রন্থসমূহ অধ্যয়নের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, আল্লাহ পৃথিবীতে মানুষকে (আদমকে) সৃষ্টি করার আগে জ্বিন নামক একটা জাতিকে সৃষ্টি করেছিলেন যারা আগুনের তৈরি। আদমকে সৃষ্টির বহু আগে তারা পৃথিবীতে বসবাস করতো এবং আল্লাহর ইবাদাত করতো। একসময় তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং রক্তপাত ঘটায়। তখন আল্লাহ ফেরেশতাদের একটি বাহিনী তাদের নিকট প্রেরণ করে। তারা সেই জিনদের কতককে হত্যা করে এবং কতককে পৃথিবী থেকে তাড়িয়ে বিভিন্ন দ্বীপে নির্বাসন দেয় কিন্তু জিনদের প্রধান নেতা ইবলিশকে কয়েকজন ফেরেশতারা বন্দী করে আকাশে নিয়ে যায়। সেখানে সে আল্লাহর ইবাদাত বন্দেগী করতে করতে নিজেকে এতই উচ্চস্তরে নিয়ে যায় যে, চারডানা বিশিষ্ট ফেরেশতাদের মধ্যে অধ্যবসায়, জ্ঞান , মর্যাদা ও সম্মানের দিক থেকে সে সকলের সেরা হয়ে ওঠে । তাকে জান্নাতসমূহের (স্বর্গ) রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিম্ন আকাশ ও পৃথিবীর উপর কর্তৃত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী সবকিছু সে নিয়ন্ত্রণ করতো। তারপর আল্লাহ যখন পৃথিবীতে আদমকে সৃষ্টি করার সংকল্প করলেন এবং মাটি দ্বারা তার দেহাবয়ব তৈরি করলেন তখন জিনদের প্রধান এবং তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইবাদতকারী আযাযীল বা ইবলিশ তার চারদিকে ঘুরতে শুরু করে। যখন সে দেখতে পেল যে এটি একটি শূন্যগর্ভ, মূর্তি তখন সে আঁচ করতে পারলো যে, এটি এমন একটি দেহাবয়ব যার আত্মসংযম থাকবে না। তখন সে বললো যদি তোমার উপর আমাকে ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে আমি অবশ্যই তোমাকে ধ্বংস করবো। আর যদি আমার উপর তোমার ক্ষমতা দেওয়া হয় তাহলে আমি অবশ্যই তোমার অবাধ্যতা করবো। তারপর যখন আল্লাহ আদমের মধ্যে তাঁর রুহের (প্রাণ বা আত্মা) সঞ্চার করলেন এবং তাকে সিজদাহ্ করার জন্য ফেরেশতাগনকে আদেশ দিলেন, তখন প্রবল হিংসাবশে ইবলিশ তাঁকে সিজদাহ্ করা থেকে বিরত থাকে এবং বলে, আমি তার চাইতে উত্তম। আমাকে তুমি আগুন থেকে সৃষ্টি করেছ আর তাকে সৃষ্টি করেছ কাদামাটি থেকে। এভাবে ইবলিশ আল্লাহর আদেশ অমান্য করে তার প্রতিপালকের বিরুদ্ধে আপত্তি তোলে। সে ভুল যুক্তি প্রদর্শন করে তার প্রতিপালকের (আল্লাহর) রহমত থেকে দূরে সরে যায় এবং তার সমস্ত মর্যাদা যা সে ইবাদত বন্দেগী করে অর্জন করেছিল, তা থেকে বিচ্যুত হয়।

অবশেষে ইবলিশকে উর্ধ্বজগত থেকে নামিয়ে দেয়া হয় এবং সেখানে কোনরকম বাস করতে পারে এতটুকু স্থানও তার জন্য হারাম করে দেয়া হয়। অগত্যা সে অপদস্ত লাঞ্চিত ধিকৃত ও বিতাড়িত অবস্থায় পৃথিবীতে নেমে আসে এবং তার অনুসারী অন্যান্য জিনদেরকে (যাদেরকে শয়তান বলা হয়) নিয়ে আদম সন্তানদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্য সকল পথে ও ঘাঁটিতে সর্বশক্তি নিয়োগ করে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, পাপাচারে লিপ্ত হওয়ার পূর্বে ইবলিশের নাম ছিল আযাযীল। আযাযীল ফেরেশতাদের মতই ছিলো বটে। তবে সে ফেরেশতা জাতিভুক্ত ছিল না। কারণ সে হল আগুনের সৃষ্টি আর ফেরেশতারা নূরের (আলোর) তৈরী।


২) জিনদের আকৃতি ও গঠনঃ

কোরান এবং হাদিস অনুসারে, জিনদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে নির্ধুম (ধোঁয়া বিহীন) অগ্নিশিখা হতে। তারা মানুষের আকার ধারণ করতে পারে এবং মানুষের মত কথা বলতে পারে ও শুনতে পারে। এরা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য প্রাণীর আকার ধারণ করতে পারে বলে হাদীসে বলা হয়েছে।

ছবিঃ জিনের একটি কাল্পনিক রূপ


৩) জিনদের খাদ্যাভ্যাস ও বাসস্থানঃ

জিনরা আদম সন্তানদের মতই পানাহার, বংশবিস্তার ও অন্যান্য প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করে থাকে। আল্লাহর নামে জবাইকৃত পশুর হাড়-হাড্ডিই হলো জিনদের খাবার। এছাড়াও মানুষের ফেলে উচ্ছিষ্ট, শুকনো হাড়, গোবর এসমস্তই জিনদের খাবার। জিনরা সাধারণত মানুষের বসবাসের স্থানে থাকে না। তারা মানুষের পরিত্যক্ত স্থানে থাকতে পছন্দ করে। তাদের অধিকাংশই মানুষের কাছ থেকে দুরে নির্জন এলাকায় বসবাস করে। তবে কিছু প্রজাতির জ্বীন মানুষের সাথে লোকালয়ে থাকে । এক হাদিস থেকে জানা যায়, জ্বীনেরা নোংরা ও গন্ধময় জায়গায় থাকতে পছন্দ করে, যেখানে মানুষরা ময়লা এবং খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ ফেলে রাখে। পায়খানা এবং প্রস্রাব করার জায়গাগুলোতে জ্বীনদের অবাধ বিচরণ। পর্ব-২ পড়তে এখানে যান -

https://www.justanotherbangladeshi.com/post/scientific-explanation-of-ghost


---------------------------০--------------------------


রেফারেন্সঃ

  • আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (ইঃফাঃ) (১ম খন্ড) ---> জ্বিন সৃষ্টি ও শয়তানের কাহিনি

  • কোরান ---> সূরা আর রাহমান (আয়াতঃ ১৪ - ১৫)

  • কোরান ---> সূরা আল হিজর --->(আয়াত ২৬ -২৭)

  • সহীহ মুসলিম (ইঃফাঃ)--->হাদিস নং ৭২২৫

  • আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ----> ৫/৬২

  • সহীহ বুখারী (ইঃফাঃ) --->অধ্যায় ৮ ---> পরিচ্ছদ ৩১৬ ---> হাদিস নং ৪৪৭

  • সহীহ বুখারী (ইঃফাঃ) --->অধ্যায় ৪৯ --> পরিচ্ছদ ১৯৯৪ ----> হাদিস নং ৩০৬৬

  • সহীহ বুখারী (তাওহীদ প্রকাশনি)----> অধ্যায় ৬৩ ---> পরিচ্ছদ ৩২ ---> হাদিস নং ৩৮৫৯

  • সূনান তিরমিজি (ইঃফাঃ) ---> অধ্যায় ৪৮ ---> হাদিস নং ২৮৮০

  • সূনান আত তিরমিজি --> অধ্যায় ৪৪ --> পরিচ্ছদ ৭০ হাদিস নং ৩৩২৩

  • সহীহ বুখারী (তাওহীদ প্রকাশনি)----> অধ্যায় ৬৩---> পরিচ্ছদ ৩২ ---> হাদিস নং ৩৮৬০

  • সহীহ বুখারী(ইঃফাঃ) ---> অধ্যায় ৫০, পরিচ্ছদ ২১৪১ ---> হাদিস নং ৩৫৮১





Enjoy
Free
E-Books
on
Just Another Bangladeshi
By
Famous Writers, Scientists, and Philosophers 
Our Social Media
  • Facebook
  • Twitter
  • Pinterest
Our Partners

© 2023 by The Just Another Bangladeshi. Proudly created by Sen