রাতের বেলা সূর্য কি আল্লাহর আরশের নিচে গিয়ে সিজদাহ্ দেয় ?

এই প্রশ্নটা হাস্যকর মনে হলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রশ্নটার উদ্ভব একটা প্রসিদ্ধ সহীহ হাদিসকে কেন্দ্র করে। চলুন সেই সেই হাদিস টি আমরা দেখে নিই-

আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য অস্ত যাবার সময় আবূ যার (রাঃ)-কে বললেন, তুমি কি জান, সূর্য কোথায় যায়? আমি বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, তা যেতে যেতে আরশের নীচে গিয়ে সাজ্দাহয় পড়ে যায়। অতঃপর সে আবার উদিত হবার অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি দেয়া হয়। আর শীঘ্রই এমন সময় আসবে যে, সিজ্দা করবে কিন্তু তা কবূল করা হবে না এবং সে অনুমতি চাইবে কিন্তু তাকে অনুমতি দেয়া হবে না। তাকে বলা হবে, যে পথ দিয়ে আসলে ঐ পথেই ফিরে যাও। তখন সে পশ্চিম দিক হতে উদিত হয়— এটাই মর্ম হল মহান আল্লাহর বাণীরঃ ‘‘আর সূর্য নিজ গন্তব্যে (অথবা) কক্ষ পথে চলতে থাকে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ।

[সহীহ বুখারী, তাওহীদ প্রকাশনীঃ ৩১৯৯, ৪৮০২, ৪৮০৩, ৭৪২৪, ৭৪৩৩

আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯৫৮

ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৩৯ ]


এবার আমরা, এ সম্পর্কিত কোরানের কিছু আয়াত দেখে নিই -


সূরা ইয়াসীনঃ ৩৭--->

"তাদের এক নিদর্শন রাত্রি, ওটা হতে আমি দিবালোক অপসারিত করি,তখন সকলেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। "


সূরা ইয়াসিনঃ৩৮ ---->

"আর সূর্য নিজ গন্তব্য স্থানের দিকে চলতে থাকে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ। "


সূরা ইয়াসিনঃ৪০ ---->

"সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চন্দ্রের নাগাল পাওয়া এবং রজনীর পক্ষে সম্ভব নয় দিবসকে অতিক্রম করা ; এবং প্রত্যেক নিজ নিজ কক্ষপথে চলছে।"


উপরোক্ত হাদীস ও কোরানের আয়াত সমূহের আলোকে আমরা যা বুঝতে পারলাম, তা হলো-

সূর্য ও চন্দ্র তাদের নিজ নিজ কক্ষপথে আবর্তন করে। ফলে সূর্যের পক্ষে চন্দ্রের নাগাল পাওয়া সম্ভব নয়। সূর্য পূর্ব দিক থেকে উদিত হয়ে পশ্চিমে অস্ত যায়। কিন্তু কোথায় অস্ত যায় ? এর উত্তরে নবী মোহাম্মদ বলেছেন, তা যেতে যেতে আরশের নীচে গিয়ে সিজদাহ্য় পড়ে যায়। অতঃপর সে আবার উদিত হবার অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি দেয়া হয়। আর শীঘ্রই এমন সময় আসবে যে, সিজ্দা করবে কিন্তু তা কবূল করা হবে না এবং সে অনুমতি চাইবে কিন্তু তাকে অনুমতি দেয়া হবে না। তাকে বলা হবে, যে পথ দিয়ে আসলে ঐ পথেই ফিরে যাও। তখন সে পশ্চিম দিক হতে উদিত হয়। মোটামুটি এই হল সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবীর পরিভ্রমণ নিয়ে ইসলামি জোতির্বিজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।


কিন্তু আমরা এখন দেখবো উপরোক্ত ইসলামি ব্যাখ্যা আধুনিক জোতির্বিজ্ঞানের আলোকে সঠিক নাকি ভুল।


আধুনিক এস্ট্রোনমির আলোকে আমরা জানি, আমাদের সূর্য হল মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত একটি নক্ষত্র (তারা)। এই সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান ৮ টি গ্রহ ও তাদের উপগ্রহসমূহ নিয়ে গঠিত আমাদের এই সৌরজগত। প্রতিটি গ্রহ নির্দিষ্ট নিয়মে সূর্যকে কেন্দ্র করে তাদের নিজ নিজ কক্ষপথে আবর্তন করছে। আবার গ্রহসমূহকে কেন্দ্র করে প্রতিটি উপগ্রহ আবর্তন করছে তাদের নিজ নিজ কক্ষপথে। সৌরজগতে মোট উপগ্রহের সংখ্যা ৪৯ টি। সূর্যের কেন্দ্র থেকে দূরত্ব অনুযায়ী পৃথিবী হল সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহ। চাঁদ হল আমাদের পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। এই টোটাল সৌরজগত আবার আবর্তন করছে মিল্কিওয়ে নামক একটি গ্যালাক্সিকে কেন্দ্র করে। সূর্যের মতো প্রায় ৪০০ মিলিয়ন নক্ষত্র রয়েছে এই মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে। এই মিল্কিওয়ের মতো কিংবা এর চেয়ে বড় বা ছোট বিলিয়ন বিলিয়ন গ্যালাক্সি রয়েছে আমাদের এই মহাবিশ্বে।


এবার আসি মূল ব্যাখ্যায়। সূর্য পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে আবর্তন করে বা

অস্ত যায়; এজাতীয় কোন ব্যাখ্যা জৌতির্বিজ্ঞানে নেই। সূর্য কোথাও অস্ত যায় না, বরং পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর লাটিমের মতো অবিরাম ঘুরছে বলেই পৃথিবীতে দিন-রাত সংগঠিত হয়। এই ঘূর্ণন (যাকে আমারা আহ্নিক গতি বলি) একবার সম্পন্ন হতে সময় লাগে ২৪ ঘন্টা বা একদিন । এই ঘূর্ণনের সময় পৃথিবীর যে অংশ সূর্যের দিকে থাকে সেখানে দিন হয় এবং যে অংশ সূর্যের বিপরীতে থাকে অর্থাৎ যে অংশে সূর্যের আলো যেতে পারে না সেখানে রাত হয়।

যেমন, আমাদের বাংলাদেশে যখন সন্ধা নামে আমেরিকায় তখন ভোর হয়। অর্থাৎ একই পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন ভূখণ্ডে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দিন-রাত হয়। আমরা বাংলাদেশ বসে যখন দেখছি সূর্য পশ্চিম দিকে অস্ত যাচ্ছি তখন আমেরিকার মানুষ দেখছে সূর্য পূর্ব দিক থেকে উদিত হচ্ছে। বাংদেশে বসে আমরা যখন দেখছি সূর্য মাথার ওপরে সৌদি আরবের মানুষ তখন দেখছে সূর্য অস্ত গিয়ে সেখানে রাত নেমে এসেছে।

আবার পৃথিবীর আরেক ধরনের ঘূর্ণন গতি আছে যাকে কক্ষীয় গতি বা বার্ষিক গতি বলে। এই গতি অনুযায়ী, পৃথিবী ৩৬৫ দিন তথা এক বছরে সূর্যকে কেন্দ্র করে উপবৃত্তাকার পথে একবার পাক খায়।


সেই সাড়ে চৌদ্দশত বছর আগে নবী মোহাম্মদ জানতেন না দিন-রাত কেন হয়। তখনকার সময়ে জোতির্বিজ্ঞান এতো উন্নত ছিলো না। মহাকাশ সম্বন্ধে যেটুকু জ্ঞান মানুষ জানতো তার পুরোটাই ছিলো অনুমান ভিত্তিক ও দর্শনগত চিন্তা প্রসূত।

নবী মোহাম্মদ ও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন কালজয়ী দার্শনিক। তিনি হেরা গুহায় বসে বসে ধ্যান করতেন, চিন্তা করতেন, চারপাশের প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষন করতেন। তার সেসমস্ত দর্শন চিন্তার ফলস্বরূপ আমরা আজকে কোরান ও হাদিসের ঝাপসা ঝাপসা বৈজ্ঞানিক আয়াত গুলো দেখতে পারি।

যাই হোক, এবার আমরা আসি আরশের নিচে গিয়ে সূর্যের সিজদাহ্ দেয়ার ব্যাখ্যায়।


কোরানে আল্লাহ দাবি করছেন আমাদের এই মহাবিশ্ব সাত স্তর বিশিষ্ট [কুরআন ৬৭ঃ৩], প্রথম স্তরকে প্রথম আসমান, দ্বিতীয় স্তরকে দ্বিতীয় আসমান এভাবে তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ এবং সপ্তম আসমান অবধি আছে।


আবার, কোরানের ৬৭ঃ৫ ও ৩৭ঃ৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন- তিনি নিকটবর্তী আসমানকে প্রদ্বীপমালা তথা নক্ষত্ররাজির দ্বারা সুশোভিত করেছেন। অর্থাৎ আমারা রাতের বেলা খোলা মেঘমুক্ত পরিষ্কার আকাশে যেসব তারকারাজি (নক্ষত্ররাজি) দেখতে পাই সেগুলোর সবই প্রথম আসমানে অবস্থিত। কিন্তু আধুনিক জোতির্বিজ্ঞানের সর্বশেষ ধারণা অনুযায়ী আমরা জানি যে, মহাবিশ্বের কোন স্তর নেই। কিন্তু বিতর্কের খাতিরে আমরা ধরে নিলাম যে, মহাবিশ্বের স্তর আছে এবং সেই অনুযায়ী আমাদের সৌরজগতসহ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির সকল নক্ষত্র এবং মহাবিশ্বে যতো গ্যালাক্সি আছে তার সবই প্রথম আসমানে অবস্থিত।


আবার একাধিক হাদিসে বর্ণিত আছে , নবী মোহাম্মদ বলেছেন - পৃথিবী থেকে প্রথম আকাশের দূরত্ব ৫০০ বছরের রাস্তা । এভাবে এক আসমান থেকে অপর আসমানের দূরত্ব প্রতিক্ষেত্রেই ৫০০ বছরের রাস্তা। আবার সপ্তম আকাশের ওপরে একটি সমদ্র আছে যার গভীরতা ৫০০ বছরের রাস্তা। সেই সমুদ্রের ঊপরে আছে আটটি পাহাড়ি মেষ যাদের হাঁটু ও ক্ষুরের মধ্যবর্তী দূরত্ব ৫০০ বছরের রাস্তা। সেগুলোর উপরে হল আল্লাহর আরশ যার নীচ ও ওপরের মধ্যবর্তী দূরত্ব ৫০০ বছরের রাস্তা। আবার অন্যান্য বর্ণনায় আছে, সাত আসমানকে বেস্টন করে রেখেছে কুরসী, সেই কুরসী'র ওপরে আছে আল্লাহর আরশ। সাত আসমান ও সাত যমীনকে যদি একটির সাথে আরেকটিকে জুড়ে দেয়া হয় তাহলে কুরসীর তুলনায় তা বিশাল মরুভূমির বুকে একটি আংটি

তুল্য। আবার আরশের তুলনায় কুরসী হল বিশাল মরুভূমির তুলনায় একটি আংটি তুল্য।

[Source: আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খন্ড), সাত যমীন প্রসঙ্গ ]


এখন ওপরের এই আলোচনাটাকে আমরা আধুনিক এস্ট্রোনমি ও এস্ট্রোফিজিক্সের আলোকে বিশ্লেষণ করে দেখবো ইহা আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা।


বিজ্ঞানী আইন্সটাইনের স্পেশাল থিওরি

অফ রিলেটিভিটি থেকে আমরা জানি, এই মহাবিশ্বে আলোর গতিই সর্বোচ্চ এবং আলোর এই গতির মান হলো প্রতি সেকেন্ডে 3 >< 10^8 মিটার। কিলোমিটারে কনভার্ট করলে এটা হবে প্রতি সেকেন্ডে 300000 km । এই গতিতে ভ্রমণ করলে আলো এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোকবর্ষ (1light year) বলে। হিসাবটা এরকম-

1 Light Year = 365 >< 24 >< 60><60 >< 300000 km

= 9500000000000

= 9.5 >< 10^12 km

= 9.5 trillion km

এছাড়াও জোতির্বিদগণ বর্তমানে 'পারসেক' নামে ভিন্ন আরেকটি একক ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। (1 parsec is equal to 3.26 light years) তবে এই আলোচনায় আমরা কেবল আলোকবর্ষ (light year) এককই ব্যবহার করবো। এই আলোকবর্ষ এককের সাহায্যে হিসাবে করলে মহাবিশ্বে আমাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী Galaxy মিল্কিওয়ে এর Observable অংশের ব্যস হয় প্রায় 100000 light years। আমাদের সূর্য মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৫০০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে এবং প্রতি ২৫০ মিলিয়ন বছরে সমগ্র গ্যালাক্সিটিকে একবার প্রদক্ষিণ করে।

আবার এটি যদি আলোর গতিতে অর্থাৎ 9.5 trillion km/year গতিতে ছুটে চলে, তবু তার কমপক্ষে ১ লক্ষ বছর লেগে যাবে পুরো গ্যালাক্সি পাড়ি দিতে।


আবার আমাদের নিকটবর্তী সবচেয়ে বড় গ্যালাক্সি এন্ড্রোমিডা'র দূরত্ব প্রায় ২৫,৪০,০০০ light year। এর ভেতরে প্রায় এক ট্রিলিয়ন নক্ষত্র আছে। এন্ড্রোমিডা'র ব্যাস প্রায় ২,২০,০০০ light years বা ২২০ kly বা ৬৭ kpc। মিল্কিওয়ে হল কেবলমাত্র একটি গ্যালাক্সি যাকে কেন্দ্র করে আমাদের পরিচিত সৌরজগত তথা সূর্য ঘূর্ণায়মান। আবার এই সূর্যকে কেন্দ্র করে আমাদের পৃথিবীসহ সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহগুলো ঘূর্ণায়মান। মিল্কিওয়ে এর ভেতরে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন তারকা আছে অর্থাৎ আমাদের পৃথিবী হল এই মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ। এতই ক্ষুদ্র যে একটি ধূলি কণার সমানও নয়। দূরবর্তী কোন মহাকাশযান থেকে ছবি তুললে একে একটি অতিক্ষুদ্র আলোকবিন্দুর মতো মনে হয়। অথচ বিষ্ময়ের ব্যাপার হল এ মহাবিশ্বে একটি নয় বরং বিলিয়ন বিলিয়ন সংখ্যক গ্যালাক্সি রয়েছে। তাহলে বুঝা যাচ্ছে যে মহাবিশ্বের বিশালতা কল্পনাতীত। আরও একটি তথ্য হল মহাবিশ্বের সর্বাপেক্ষা দূরবর্তী তারা (একেকটি তারা হল একেকটি নক্ষত্র যা আমাদের সূর্যের চেয়ে বহুগুণ বড় বা ছোট হতে পারে, আবার এর সমানও হতে পারে) এবং আমাদের পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্ব হল কয়েক বিলিয়ন আলোকবর্ষ।


তাহলে এখন প্রশ্ন, হাদিসে যে বলা হয়েছে এক আকাশ থেকে আরেক আকাশের দূরত্ব ৫০০ বছরের রাস্তা, এটা কি সঠিক?

এর উত্তর আমি দিবো না, আপনারাই দেন। আমি শুধু ব্যাখ্যা করবো, তারপর সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব আপনার।


যেহেতু আমরা জানি, মহাবিশ্বে আলোর গতিই সর্বোচ্চ, সেহেতু আমরা ধরে নিলাম মহানবী ৫০০ বছর দ্বারা ৫০০ আলোকবর্ষ বুঝিয়েছেন। তাহলে পৃথিবী থেকে সাত আসমানের মোট দূরত্ব দাড়ায় ৭><৫০০ = ৩৫০০ আলোকবর্ষ। আবার, সাত আসমানের উপরে অবস্থিত সমদ্র এবং সমুদ্রের ওপরে অবস্থিত পাহাড়ি মেষ, এদের দূরত্ব কে গণনায় ধরলে পৃথিবী থেকে তার মোট দূরত্ব দাড়াচ্ছে (৩৫০০ + ৫০০ + ৫০০) = ৪৫০০ আলোকবর্ষ। আমরা এখানে কুরসি ও আরশের হিসাব বাদ দিলাম। কারণ, এদের ক্ষেত্রে স্পষ্ট কোন গানিতিক হিসাবে নেই।


এবার আসুন দেখি আধুনিক এস্ট্রোনমি কি বলে। এস্ট্রোনমিস্টদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী আমাদের পৃথিবী থেকে শুধুমাত্র মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি'র কেন্দ্রে যেতেই সময় লেগে যাবে প্রায় ২৮০০০ আলোকবর্ষ। আবার, সম্পূর্ণ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি পাড়ি দিতে, অর্থাৎ আলোর গতিতে ভ্রমণ করে এর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে পৌছাতে সময় লেগে যাবে প্রায় এক লক্ষ আলোকবর্ষ। কিন্তু চিন্তা করুন, মহাবিশ্বে একটি নয়, মিল্কিওয়ে'র মতো বিলিয়ন বিলিয়ন গ্যালাক্সি রয়েছে। এই বিলিয়ন বিলিয়ন গ্যালাক্সি পাড়ি দিয়ে সূর্যকে আল্লাহর আরশের নীচে গিয়ে সিজদাহ্ দিতে কতো সময় লাগবে ?

হাহাহা আমি জানি এসবের কোন স্পষ্ট উত্তর নাই।


যাইহোক, আলোচনাটা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে, অল্পকিছু কথা বলে শেষ করি।

উপরোক্ত বৈজ্ঞানিক আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে, সূর্য আসলে কোথাও যায় না, এটি মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিকে কেন্দ্র করে ২৫০ মিলিয়ন বছরে একবার প্রদক্ষিণ করে। আর পৃথিবী সূর্য কে কেন্দ্র করে ৩৬৫ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করে এবং ২৪ ঘন্টায় নিজ অক্ষের উপর একবার স্পিন করে যার কারণে আমরা পৃথিবীতে দিন-রাত্রি সংগঠিত হতে দেখি।


পরিশেষে, দীনি ভাই বোন, প্রখ্যাত আলেম, বাংলাদেশে ও বিশ্বের বিখ্যাত বাঘা বাঘা মুসলিম স্কলারদের নিকট আমার প্রশ্ন বিলিয়ন বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরত্ব পাড়ি দিয়ে মাত্র এক রাতের মধ্যেই সূর্য কিভাবে আল্লাহর আরশের নিচে গিয়ে সিজদাহ্ দিয়ে আবার ভোরবেলা পূর্ব দিক থেকে উদিত হয় ?

আশা করি এর একটা সুন্দর গ্রহণযোগ্য উত্তর আপনারা আমাকে দিবেন।

Enjoy
Free
E-Books
on
Just Another Bangladeshi
By
Famous Writers, Scientists, and Philosophers 
Our Social Media
  • Facebook
  • Twitter
  • Pinterest
Our Partners

© 2023 by The Just Another Bangladeshi. Proudly created by Sen