আল্লাহর কাছ থেকে পৃথিবীতে ওহী নিয়ে আসতে ফেরেশতাদের কত সময় লাগতো?

পবিত্র কোরানের সূরা কাদর এর ১,২,৩ ও ৪ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন-

"নিশ্চয় আমি এটা (কোরান) অবতীর্ণ করেছি মহিমান্বিত রজনীতে। আর মহিমান্বিত রজনী সম্বন্ধে তুমি কী জানো? মহিমান্বিত রজনী হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এ রাতে ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের রবের অনুমতিক্রমে।"


আবার, সূরা দুখান এর ২ ও ৩ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন - "শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের, আমি তো এটা অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রজনীতে, আমি তো সতর্ককারী। "


হাদিসে আছে যে, লাইলাতুল কাদরের রাতে সমগ্র কোরান লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয়। তারপর ঘটনা অনুযায়ী দীর্ঘ ২৩ বছরে ধীরে ধীরে নবী মোহাম্মদের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে।

[Source: তাফসীরে ইবনে কাসির, সূরা কদর এর তাফসির অংশ ]


তাহলে আমরা জানলাম যে, কোরান প্রথমে লাওহে মাহফুজ থেকে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমান তথা প্রথম আসমানে এসেছে। তারপর সেখান থেকে বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে ফেরেশতা জিব্রাইলের মাধ্যমে ২৩ বছর যাবত ধীরে ধীরে নবী মোহাম্মদ এর উপর নাযিল হয়েছে। এবার তাহলে আমাদের জানতে হবে কোরানের আসমান বলতে আসলে কি বোঝায়।


ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ 'কোরান' এ আল্লাহ দাবি করছেন আমাদের এই মহাবিশ্ব সাত স্তর বিশিষ্ট [কুরআন ৬৭ঃ৩], প্রথম স্তরকে প্রথম আসমান, দ্বিতীয় স্তরকে দ্বিতীয় আসমান এভাবে তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ এবং সপ্তম আসমান অবধি আছে।


আবার কোরানের ৬৭ঃ৫ ও ৩৭ঃ৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন-

তিনি নিকটবর্তী আসমানকে প্রদ্বীপমালা তথা নক্ষত্ররাজির দ্বারা সুশোভিত করেছেন এবং সেগুলোকে শয়তান তাড়ানোর উপকরণ করেছেন।


অর্থাৎ আমারা রাতের বেলা খোলা মেঘমুক্ত পরিষ্কার আকাশে যেসব তারকারাজি (নক্ষত্ররাজি)দেখতে পাই সেগুলোর সবই প্রথম আসমানে অবস্থিত। কিন্তু আধুনিক জোতির্বিজ্ঞানের সর্বশেষ ধারণা অনুযায়ী আমরা জানি যে,মহাবিশ্বের কোন স্তর নেই, এটা সমতলীয় মহাবিশ্ব। কিন্তু আমাদের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়ার জন্য বিতর্কের খাতিরে আমরা ধরে নিলাম যে মহাবিশ্বের স্তর আছে। তাহলে এখন বিতর্কের খাতিরে আমাদের এটাও মেনে নিতে হবে যে,জিব্রাইল ফেরেশতা প্রথম আসমান থেকেই বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে নবী মোহাম্মদের নিকট ওহী নিয়ে আসতেন।

এবার তাহলে আমাদেরকে জানতে হবে কোরানের বর্ণিত প্রথম আসমান আসলে কত বড় এবং পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব কত।


হাদিসে বর্ণিত আছে নবী মোহাম্মদ বলেছেন -

পৃথিবী থেকে প্রথম আসমানের দূরত্ব ৫০০ বছরের রাস্তা । এভাবে এক আসমান থেকে অপর আসমানের দূরত্ব প্রতিক্ষেত্রেই ৫০০ বছরের রাস্তা।

[Source: আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খন্ড), সাত যমীন প্রসঙ্গ ]

অর্থাৎ পৃথিবী থেকে কল্পিত প্রথম আসমানে যেতে কিংবা সেখান থেকে পৃথিবীতে আসতে ৫০০ বছর সময় লাগবে। কিন্তু এই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা আমাদের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাব না। কারণ, বক্তব্যটা অসম্পূর্ণ। এই গতি কিসের সাপেক্ষ সেটা উল্লেখ করা নেই। যেমনঃ বিমানের গতি, রকেটের গতি, বুলেটের গতি, আলোর গতি এরকম স্পেসিফিক কোন গতির কথা নবী বলে যান নি। ফিজিক্সে আমরা যখন কোন কিছুর বেগ পরিমাপ করি তখন মোট অতিক্রান্ত দূরত্বকে মোট সময় দ্বারা ভাগ করি

(যখন বস্তুটি সমবেগে চলে)

অর্থাৎ বেগ = দূরত্ব /সময়

এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বেগ বা গতি নির্ণয় করতে হলে আমাদেরকে দূরত্ব ও সময় উভয়ই জানতে হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় নবীজী আমাদেরকে কেবলমাত্র সময় দিয়েছেন, দূরত্ব দেন নি । ফলে ইহা আমাদের নিকট ধোঁয়াশা রয়ে যায়।

কিন্তু আমাদেরকে যে উত্তর জানতেই হবে, তাহলে এখন উপায় ? চিন্তার কোন কারণ নেই, এক্ষেত্রে আমাদের হাতে দুইটা অপশন আছে।

অপশন-১ঃ যেহেতু ফেরেশতা জিব্রাইলের ডানা আছে ( হাদিসে আছে জিব্রাইলের প্রায় ছয়শো ডানা আছে ) , তাই ফেরেশতা জিব্রাইলের গতিকে আমরা পাখির গতির সাথেই তুলনা করতে পারি। ফলে পাখির গতিতে ভ্রমণ করলে তার (জিব্রাইলের) প্রথম আসমান থেকে পৃথিবীতে ওহী নিয়ে আসতে সময় লাগবে ৫০০ বছর, এমনটা কল্পনা করাই যায় । কিন্তু আমাদের এই ব্যাখ্যাটা গ্রহনযোগ্য হবে না । কারণ, সম্পূর্ণ কোরান নাযিল হতেই সময় লেগেছে মাত্র ২৩ বছর (পৃথিবীর হিসাবে ) এবং বুখারীর একটা হাদিসে আছে যে,জিব্রাইল রমযানের প্রতি রাতেই নবী মোহাম্মদ এর সাথে সাক্ষাৎ করতেন।

অপশন-২ঃ যেহেতু ফেরেশতারা আলোর (নূরের) তৈরী বলে দাবী করা হয়, তাই আমরা তার (জিব্রাইলের) গতিকে আলোর গতির সাথে তুলনা করতে পারি। ফলে এক্ষেত্রে প্রথম আসমান ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্ব দাড়ায় ৫০০ আলোকবর্ষ। আমরা জানি, এক আলোকবর্ষ দূরত্ব অতিক্রম করতে আলোর সময় লাগে ১ বছর। তাহলে সহজ হিসাব, ৫০০ আলোকবর্ষ দূরত্ব অতিক্রম করতে আলোর সময় লাগবে ৫০০ বছর। এক্ষেত্রে ও দেখা যাচ্ছে আমরা ব্যাখ্যাটা মেনে নিতে পারবো না, কারণ সমপূর্ণ কোরান নাযিল হতেই সময় লেগেছে মাত্র ২৩ বছর (পৃথিবীর হিসাবে )

এখন ওপরের এই আলোচনাটাকে আমরা আধুনিক এস্ট্রোনমি ও এস্ট্রোফিজিক্সের আলোকে বিশ্লেষণ করে দেখবো ইহা যুক্তিসঙ্গত নাকি ভুল।


বিজ্ঞানী আইন্সটাইনের স্পেশাল রিলেটিভিটির সূত্র থেকে আমরা জানি, এই মহাবিশ্বে আলোর গতিই সর্বোচ্চ এবং আলোর এই গতির মান হলো প্রতি সেকেন্ডে 3 >< 10^8 মিটার। কিলোমিটারে কনভার্ট করলে এটা হবে প্রতি সেকেন্ডে 300000 km । এই গতিতে ভ্রমণ করলে আলো এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোকবর্ষ (1light year) বলে। হিসাবটা এরকম-

1 Light year = 365 >< 24 >< 60><60

>< 300000 km

= 9500000000000

= 9.5 >< 10^12 km

= 9.5 trillion km

এছাড়াও জোতির্বিদগণ বর্তমানে 'পারসেক' নামে ভিন্ন আরেকটি একক ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। (1 parsec is equal to 3.26 light years) তবে এই আলোচনায় আমরা কেবল আলোকর্ষ (Light year) এককই ব্যবহার করবো। এই আলোকবর্ষ এককের সাহায্যে হিসাবে করলে মহাবিশ্বে আমাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী Galaxy মিল্কিওয়ে এর Observable অংশের ব্যস হয় প্রায় 100000 Light years। আমাদের সূর্য মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৫০০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে এবং প্রতি ২৫০ মিলিয়ন বছরে সমগ্র গ্যালাক্সিটিকে একবার প্রদক্ষিণ করে।

মহাকাশযান ভয়েজার 17.3 km/s বেগে মহাশূন্যে ছুটে চলছে। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন, যদি ভয়েজার আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে ভ্রমন করতো তবে মাত্র 8 kpc দূরত্ব পাড়ি দিতেই তার ৪৫০,০০০,০০০ বছর এর অধিক লাগতো এবং পুরো গ্যালাক্সি পাড়ি দিতে তার প্রায় ১৭০০, ০০০,০০০ বছর সময় লেগে যাবে। আবার এটি যদি আলোর গতিতে অর্থাৎ 9.5 trillion km/year গতিতে ছুটে চলে, তবু তার কমপক্ষে ১ লক্ষ বছর লেগে যাবে পুরো গ্যালাক্সি পাড়ি দিতে। আবার আমাদের নিকটবর্তী সবচেয়ে বড় গ্যালাক্সি এন্ড্রোমিডা'র দূরত্ব প্রায় ২৫,৪০,০০০ Light year।

এর ভেতরে প্রায় এক ট্রিলিয়ন নক্ষত্র আছে।এন্ড্রোমিডা'র ব্যাস প্রায় ২,২০,০০০ Light Years বা ২২০ kly বা ৬৭ kpc। মিল্কিওয়ে হল কেবলমাত্র একটি গ্যালাক্সি যাকে কেন্দ্র করে আমাদের পরিচিত সৌরজগত তথা সূর্য ঘূর্ণায়মান। আবার এই সূর্যকে কেন্দ্র করে আমাদের পৃথিবীসহ সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহগুলো ঘূর্ণায়মান। এর ভেতরে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন তারকা আছে অর্থাৎ আমাদের পৃথিবী হল এই মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ। এতই ক্ষুদ্র যে একটি ধূলি কণার সমানও নয়। দূরবর্তী কোন মহাকাশযান থেকে ছবি তুললে একে একটি অতিক্ষুদ্র আলোকবিন্দুর মতো মনে হয়। অথচ বিষ্ময়ের ব্যাপার হল এ মহাবিশ্বে একটি নয় বরং বিলিয়ন বিলিয়ন সংখ্যক গ্যালাক্সি রয়েছে। তাহলে বুঝা যাচ্ছে যে মহাবিশ্বের বিশালতা কল্পনাতীত। আরও একটি তথ্য হল মহাবিশ্বের সর্বাপেক্ষা দূরবর্তী তারা ( একেকটি তারা হল একেকটি নক্ষত্র যা আমাদের সূর্যের চেয়ে বহুগুণ বড় হতে পারে, আবার এর সমানও হতে পারে) এবং আমাদের পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্ব হল কয়েক বিলিয়ন আলোকেবর্ষ। অতএব বুঝা যাচ্ছে যে এই সমগ্র মহাবিশ্বের আয়তন তথা সাইজ আমাদের কল্পনার বাহিরে। তবে আমরা ইচ্ছা করলে আমাদের দৃশ্যমান এই মহাবিশ্বের সীমানা হিসাব করে বের করতে পারি-আমরা জানি মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৪ বিলিয়ন (বা ১৪০০ কোটি বছর) অর্থাৎ জোতির্বিজ্ঞানীগণ যখন মহাবিশ্বকে পর্যবেক্ষন করার উদ্দেশ্য তাদের টেলিস্কোপকে মহাবিশ্বের যেকোনো একদিকে তাক করেন তখন তারা এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের সর্বোচ্চ যে দূরত্ব দেখতে পান তা হল ১৪ বিলিয়ন আলোকেবর্ষ। এটাই হচ্ছে আমাদের দৃশ্যমান মহাবিশ্বের সীমানা। এখন আমরা যদি মহাবিশ্বকে একটা বিশাল গোলক হিসেবে কল্পনা করি এবং পৃথিবীকে ইহার কেন্দ্র হিসেবে ধরে নেই (প্রকৃতপক্ষে পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্র কিনা তা কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে পারবে না) তাহলে মহাবিশ্বের ব্যাস দাড়ায় ২৮ বিলিয়ন আলোকবর্ষ । কিন্তু এটাই মহাবিশ্বের প্রকৃত ব্যস হতে পারে না। কেননা বিজ্ঞানীরা ১৪ বিলিয়ন বছর আগের মহাবিশ্বের কোন বস্তুকণাকে পর্যবেক্ষন করার পর ও তো মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হতে থেকেছে (যেহেতু মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল)। ফলে সেই সময়ের বস্তুকণাটি এখন ৪৬ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে থাকবে। সবমিলিয়ে দৃশ্যমান মহাবিশ্বের ব্যাস দাড়াচ্ছে ৯২ বিলিয়ন আলোকবর্ষ।

নিচের ভিডিও টি দেখুন ক্লিয়ার হতে পারবেন।

https://youtu.be/vIJTwYOZrGU

আসল কথা হল আমরা কোনদিন জানতে পারবো না। এমনকি কল্পনাও করতে পারবো না আমাদের এই মহাবিশ্ব কত বড়। কেননা তা জানতে হলে আমাদেরকে আলোর চেয়ে দ্রুত গতির কোন যন্ত্র আবিষ্কার করতে হবে যার মাধ্যমে আমরা মুহূর্তের মধ্যেই অতীতে ও ভবিষ্যতে চলে যেতে পারবো । কিন্তু আইন্সটাইনের স্পেশাল থিওরি অফ রিলেটিভিটি'র সূত্র থেকে আমরা জানি, ভরযুক্ত কোনকিছু আলোর গতিতে চলতে পারে না, কারণ তাহলে ভর হতে হবে অসীম। তাই গোটা মহাবিশ্বটা আমাদের কাছে চিরকালই রহস্যময় থেকে যাবে। তবে আমরা যদি এই মহাবিশ্বকে কল্পনা করতে চাই তাহলে প্রথমে আমাদেরকে জানতে হবে আমরা আসলে কত ছোট?

পৃথিবীর সাথে অন্যদের তুলনা করলেই সেটা বুঝা যাবে। আমাদের এই পৃথিবী, এর একেকটা শহর থেকে আরেকটা শহর, এক দেশ থেকে আরেক দেশ কত দূরের লাগে। অথচ এই সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি আমাদের পৃথিবী থেকে ১৩০০ গুন বড়। কত বড় গ্রহ ভাবা যায়? কিন্তু সূর্যের কাছে এই বৃহস্পতি গ্রহটা এ।কটা মার্বেলের মতো, আর সেক্ষেত্রে সূর্যের আকৃতি হবে একটা ফুটবলের সমান। এই সূর্য আবার আমাদের পৃথিবীর চেয়ে ১৩ লক্ষগুন বড়। সূর্যের মতো বা তারচেয়ে বড় এরকম প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ বিলিয়ন নক্ষত্র রয়েছে আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে। আবার মিল্কিওয়ে'র মতো বিলিয়ন বিলিয়ন গ্যালাক্সি রয়েছে আমাদের এই মহাবিশ্বে। নিচের ভিডিও টা দেখুন বিষয়টা একটুখানি হলেও কল্পনা করতে পারবেন। https://www.facebook.com/100005821900320/posts/1289708541233197/?app=fbl

মহাশূন্যে এলিয়েনদের অস্তিত্ব অনুসন্ধানে প্রেরিত মহাকাশযান ভয়েজার' যখন শনি গ্রহের কক্ষপথ পার করে পৃথিবী থেকে ৩.৭ বিলিয়ন মাইল দূরে ছিলো তখন বিজ্ঞানী 'কার্ল সেগান' এর অনুরোধে ভয়েজারকে পৃথিবীর দিকে তাক করে তার একটি ছবি তোলেন নাসা (২য় কমেন্টে প্রদত্ত )

ছবিতে Earth চিহ্নিত বিন্দুটি হল আমাদের এই পৃথিবী । কি ভাবতে অবাক লাগছে? হ্যাঁ এটাই আমাদের পৃথিবী, আমাদের বসত, আমরা এটাই। এই ছবিটির দিকে তাকালেই বুঝা যায় মহাবিশ্বে কত ছোট আমরা। মহাজাগতিক সমুদ্রের বেলাভূমিতে ভাসমান আমাদের পৃথিবীকে একটি অতিক্ষুদ্র ধূলিকণার সমান ও মনে হয় না। মহাশূন্য থেকে দেখলে আমরা একে নক্ষত্রগুলোর বিশাল জগতে এক ভঙ্গুর নীল অর্ধচন্দ্রের মতো ম্লান হতে হতে এক অস্পষ্ট আলোকবিন্দুতে পরিণত হতে দেখবো।

যাইহোক আবেগের বশবর্তী হয়ে আলোচনা দীর্ঘায়িত করে ফেলেছি।


এতক্ষণে আমাদের প্রশ্নের উত্তর আমরা অলরেডি পেয়ে গেছি। তারপর ও আরেকবার বলি সংক্ষেপে। যেহেতু কোরানের সৃষ্টিতত্ত্ব আধুনিক বিজ্ঞানের সৃষ্টি তত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, কাজেই আধুনিক জোতির্বিজ্ঞানের আলোকে পৃথিবী থেকে কল্পিত প্রথম আসমানের দূরত্ব কিংবা সেখান থেকে ওহী আসতে জিব্রাইলের কত সময় লাগতো, এসব নিয়ে চিন্তাভাবনা করাটা শুধুই আমাদের সময়ের অপচয় ও বোকামি হবে। কেননা, আধুনিক জোতির্বিদ্যা অনুযায়ী আমরা জানি, মহাবিশ্বের কোন স্তরই নেই এবং আমাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী গ্যালাক্সির কেন্দ্রে যেতেই আমাদের লেগে যাবে প্রায় ২৮০০০ Light Year। ব্যাপারটা ভাবা যায় ? মহাবিশ্বে আলোর গতিই সর্বোচ্চ। আর এই আলোর গতিতে ভ্রমণ করলেও মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে যেতে আমাদের সময় লেগে যাবে প্রায় ২৮০০০ light year । অথচ হাদিসে কিনা বলা হচ্ছে পৃথিবী থেকে কল্পিত প্রথম আসমানের দূরত্ব মাত্র ৫০০ বছরের রাস্তা। কিন্তু যেহেতু আমরা জেনেছি যে, ফেরেশতারা আলোর তৈরী, তাহলে বিতর্কের খাতিরে আমরা মেনে নিলাম যে, তারা আলোর গতিতে মুভমেন্ট করতে পারে। তাহলে আমরা এটাও ধরে নিলাম যে, পৃথিবী থেকে প্রথম আসমানের দূরত্ব ৫০০ আলোকবর্ষ। কিন্তু তারপরও আমরা এটাকে আধুনিক এস্ট্রোনোমির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করতে পারি না। কোথায় ২৮০০০ আর কোথায় মাত্র ৫০০ বছর। তাছাড়া সবচেয়ে শক্তিশালী যে প্রশ্নটা আমাদের মস্তিষ্কে খেলে যায়, সেটা হল - প্রতিবারে ৫০০ আলোকবর্ষ দূরত্ব অতিক্রম করে ফেরেশতা জিব্রাইল মাত্র ২৩ বছরে কিভাবে সমগ্র কোরান নিয়ে আসলেন ?


প্রশ্নটা মুমিন ভাই বোন ও প্রসিদ্ধ আলেমদের নিকট l আশা করি, আপনারা এর একটা সুন্দর ও গ্রহনযোগ্য উত্তর দিবেন।

--------------------------০---------------------------

তথ্যসূত্রঃ

★ বাংলা তাফসীর কুর'আনুল কারীম (দারুস সালাম প্রকাশনি), অনুবাদকঃ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মুজীবুর রহমান

★ আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া (ইঃফাঃ), ১ম খন্ড, সাত যমীন প্রসঙ্গ

★তাফসীরে ইবনে কাসির (ইঃফাঃ),

অনুবাদকঃ অধ্যাপক আকতার ফারুক


https://youtu.be/vIJTwYOZrGU

https://www.universetoday.com/21998/the-diameter-of-the-milky-way/


https://www.universetoday.com/65601/where-is-earth-in-the-milky-way/


https://www.space.com/24054-how-old-is-the-universe.html


https://www.forbes.com/sites/startswithabang/2019/12/10/this-is-how-astronomers-know-the-age-of-the-universe-and-you-can-too/



Enjoy
Free
E-Books
on
Just Another Bangladeshi
By
Famous Writers, Scientists, and Philosophers 
Our Social Media
  • Facebook
  • Twitter
  • Pinterest
Our Partners

© 2023 by The Just Another Bangladeshi. Proudly created by Sen