top of page

প্রশ্নঃ কিবলামুখী হয়ে পেশাব-পায়খানা না করা কি বৈজ্ঞানিকভাবে যুক্তিসঙ্গত ?

এই প্রশ্নটা খুবই হাস্যকর মনে হলেও প্রশ্নটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ এ বিষয়ে একাধিক সহীহ হাদিস বর্ণিত আছে।

তাই এই লেখাটাতে আমরা দেখানোর চেষ্টা করবো যে মুসলিমদের ধারণ করা হাদিসের ওই কথাটা কতটুকু বিজ্ঞানসম্মত। তার আগে প্রথমেই আমরা এ বিষয়ে কয়েকটি হাদিস দেখে নিই -


১) আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদের জন্য পিতৃতুল্য, তোমাদেরকে আমি দ্বীন শিক্ষা দিয়ে থাকি। তোমাদের কেউ পায়খানায় গেলে কিবলামুখী হয়ে বসবে না এবং কিবলার দিকে পিঠ দিয়েও বসবে না, আর ডান হাতে শৌচ করবে না। তিনি তিনটি ঢিলা ব্যবহারের নির্দেশ দিতেন এবং গোবর ও হাড্ডি দ্বারা শৌচ করতে নিষেধ করতেন।

[ সূনানে আবু দাউদ (তাহকীককৃত)---> অধ্যায় ১--> পরিচ্ছদ ৪---> হাদিস নং ৮ ও ৯ ]


২) আবূ আইয়ুব আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন শৌচাগারে যায়, তখন সে যেন কিবলার দিকে মুখ না করে এবং তার দিকে পিঠও না করে, বরং তোমরা পূর্ব দিক এবং পশ্চিম দিকে ফিরে বসবে (এই নির্দেশ মাদ্বীনার বাসিন্দাদের জন্য)।

[ সহীহ বুখারী (তাওহীদ) ---> অধ্যায় ৪ ---> পরিচ্ছদ ৪/১১ ---> হাঃ নং ১৪৪ ]


৩) আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ... সালমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একবার তাঁকে বলা হল, তোমাদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে সব কাজই শিক্ষা দেন এমনকি পেশাব পায়খানার পদ্ধতিও! তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি আমাদেরকে নিষেধ করেছেন, পায়খানার বা পেশাবের সময় কিবলামুখী হয়ে বসতে, ডান হাত দিয়ে ইসতিনজা করতে, তিনটি টিলার কম দিয়ে ইসতিনজা করতে এবং গোবর বা হাড় দিয়ে ইসতিনজা করতে।

সহীহ মুসলিম (ইঃফাঃ) ---> অধ্যায় ২ ---> পরিচ্ছদ ১৭ ---> হাঃ নং ৪৯৯


এছাড়াও আরও অনেক হাদিসে একই বক্তব্য পাওয়া গেছে। লেখাটাকে দীর্ঘ না করতে এখানে সেগুলো উল্লেখ করলাম না। যাইহোক আমরা এবার দেখবো উপরোক্ত হাদিসে বর্ণিত কিবলামুখী হয়ে পেশাব-পায়খানা না করার বিধানটা কতটা বিজ্ঞানসম্মত।


ন্যাচারাল জিওগ্রাফি'র অধ্যয়ন থেকে আমরা জানি যে, আমাদের পৃথিবী হল গোলাকার (বিজ্ঞানীরা জিপিএস ও অন্যান্য স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইহা নির্ণয় করেছেন)। এই গোলাকার পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত বিভিন্ন মহাদেশীয় ভূখণ্ডে আমরা বাস করি।

ভৌগলিক অবস্থানের দিক দিয়ে সৌদি আরব হল এশিয়া মহাদেশের দক্ষিন পশ্চিমে অবস্থিত আরব ভূখণ্ডের একটি দেশ যা এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার সংযোগস্থলে অবস্থিত। আর কাবা, কাবাঘর বা কাবাশরিফ হল একটি বড় ঘন আকৃতির ইমারত, যা সৌদি আরবের মক্কা শহরের মসজিদুল হারাম মসজিদের মধ্যখানে অবস্থিত । প্রকৃতপক্ষে মসজিদটি কাবাকে ঘিরেই তৈরি করা হয়েছে। এর ভৌগোলিক অবস্থান হল ২১.৪২২৪৯৩৫° উত্তর গোলার্ধ এবং ৩৯.৮২৬২০১৩° পূর্ব গোলার্ধ।


এই কাবাঘরকে মুসলিমরা তাদের সবচেয়ে পবিত্র স্থান হিসেবে মনে করে এটি মুসলমানদের কিবলা , অর্থাৎ যে দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে বা সালাত আদায় করে।পৃথিবীর যে স্থান থেকে কাবা যে দিকে মুসলমানগণ ঠিক সে দিকে মুখ করে নামাজ পরেন। হজ্জ এবং উমরা পালনের সময় মুসলমানগণ কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করেন।


এখন আসি মূল আলোচনায়। আচ্ছা বাংলাদেশ কিংবা অন্যকোন মহাদেশের কোন দেশের মানুষ যখন কিবলার দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে তখন এটা কি সঠিক সেন্স অনুসরণ করে?

এই যেমন ধরেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের অবস্থানের দিকে তাকালেই বিষয়টা বুঝা যায়।


আমরা জানি, বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে। এটি ২০°৩৪´ উত্তর থেকে ২৬°৩৮´ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে এবং  ৮৮°০১´ থেকে ৯২°৪১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। অন্যদিকে সৌদি আরবের কাবা শরিফের ভৌগোলিক অবস্থান হল ২১.৪২২৪৯৩৫° উত্তর গোলার্ধএবং ৩৯.৮২৬২০১৩° পূর্ব গোলার্ধ।

অর্থাৎ সহজেই বুঝা যাচ্ছে যে, বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ও সৌদি আরবের অবস্থানের স্থানাংক এক না।


এবার আমরা নীচের ছবিটার দিকে তাকাই। ছবিতে দেখা যাচ্ছে একজন লোক কিবলামুখী হয়ে নামাজ পড়ছেন।

কিন্তু তার দিকটা কি আসলেই কিবলার দিকে যাচ্ছে নাকি মহাশূন্যের দিকে যাচ্ছে ?

আশা করি বিষয়টা আপনারা ধরতে পেরেছেন।

যাইহোক পরিশেষে এ বিষয়ে এক্সপার্ট মুমিন ভাইদের নিকট কয়েকটি প্রশ্ন করলাম। আশা করি আপনারা আমাকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন।


১) আমরা জানি উত্তর মেরু বা দক্ষিন মেরুতে সাধারণ কম্পাস কাজ করে না। সেখানে সব দিকেই উত্তর বা সব দিকেই

দক্ষিণ। তাহলে কেউ যদি উত্তর মেরুতে বা দক্ষিণ মেরুতে অবস্থান করে তাহলে সে কিবলার দিক নির্ণয় করবে কিভাবে?

২) পৃথিবী যেহেতু গোলাকার তাই সবদিক থেকেই কাবায় গিয়ে পৌঁছানো যাবে। তাহলে হাদিসে উল্লেখিত কিবলার বিশেষ সেই দিক বলতে আসলে কি বুঝানো হয়েছে? এই যেমন কেউ যদি খোলা মাঠে বসে পায়খানা করে তাহলে তো সেটা কাবার দিকেই মুখ করে হল।


৩) আগে যখন মানুষ পৃথিবীর অাকৃতি সম্পর্কে জানতো না, অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, গোলার্ধ ইত্যাদি ভৌগলিক টার্মের সাথে মানুষ পরিচিত ছিল না এবং কম্পাসও আবিষ্কার হয় নি, তখন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ কিবলার দিক নির্ণয় করতো?

৪) ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে অবস্থান করা কোন নভোচারী কিংবা কোনো মহাকাশযানের ভেতরে অবস্থান করা নভোযাত্রী অথবা চন্দ্রের বুকে অবস্থান করা নভোযাত্রী কোন দিকে ফিরে নামাজ পরবেন?

৫) অনেক মুসলিম স্কলার উত্তর দেন যে, আপনি পৃথিবীর যে প্রান্তেই অবস্থান করেন না কেন, যেদিক থেকে কাবার অবস্থান সবচেয়ে কাছে সেটাই হবে কিবলার দিক। কিন্তু এই তথ্যটা কি কোরান হাদিসের কোথাও আছে? নাকি তারা নিজেদের ইচ্ছামতো ফতোয়া দিয়েছেন?!!

0 comments

댓글


Enjoy
Free
E-Books
on
Just Another Bangladeshi
By
Famous Writers, Scientists, and Philosophers 
click here.gif
click here.gif

Click Here to Get  E-Books

lgbt-bangladesh.png
bottom of page