ম্যাজিক বা কালোজাদু সংক্রান্ত কিছু বাস্তব ঘটনাঃ ১ম পর্ব।

২০১৬ সালে পারিবারিক ভাবে আমার খালাত ভাইয়ের সাথে আমার বিয়ে হয়। তখন আমি ক্লাস টেন-এ পড়তাম। অল্প বয়স তাই আমার বিয়ে পড়িয়ে রাখে,এজন্য আমি আমার আব্বু-আম্মুর কাছেই থাকি। ssc পরীক্ষার আগ পর্যন্ত সব কিছু ঠিক-ঠাক ভালো মতই চলছিলো। আমার ssc পরীক্ষার পর থেকে শুরু হয় আমার সমস্যা।

কলেজে তখনও ভর্তি হই নাই। এজন্য অনেক বেলা করে ঘুম থেকে উঠতাম। এরকমই একদিন, সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বের হয়েছি,আর মনে হলো আমার হাতের ওপর পোকা এসে বসছে, কিন্তু আমি কোনো পোকা দেখতে পাইনি...!! আমার কাছে মনে হয়েছে পোকাটা অনেক ভারি ছিল।


ঘটনার শুরু এখান থেকেই।

এরপর কিছুদিন পরে সন্ধ্যাঁর সময় আমি টিভি দেখছিলাম। তখন আবার আমার মনে হয় একটা পোকা আমার ঘাড়ের কাছে পড়লো, সে পোকাটাও আমার কাছে অনেক ভারি লাগে।

আমি কম কথা বললেও সবসময় হাসিখুশি থাকতাম। কিন্তু এরপর থেকে অনেক মন মরা হয়ে যায়। কিচ্ছু ভালো লাগত না। অকারনেই আব্বু-আম্মুর সাথে রাগ দেখাতাম,উচ্চবাচ্চ করে কথা বলতাম। মাঝেমধ্যে গালি দিতাম, যেটা আগে কখনও করিনি। রাতে একদমই ঘুম হতো না আমার। এমনও হয়েছে ভোরের আজান শেষে আমি ঘুমিয়েছি। নামাজ-কালাম পড়তাম; কিন্তু পরে তাও আর পড়তাম না। পড়াশুনায় ভালো ছিলাম,কিন্তু পড়াশুনাও আর করতাম না। আমার সাথে কেউ একটু জোরে কথা বললেই কাদঁতাম। মনে হতো কেউ আমাকে ভালোবাসে না।

ধীরে ধীরে আমার শরীর খারাপ হতে থাকে। জ্বর নাই,কিচ্ছু নাই অথচ থেকে থেকে শরীরে অনেক কাপুঁনি শুরু হতে থাকে সাথে তীব্র শ্বাসকষ্ট। দিনে ৫/৭ বার করে এমন হতো। হঠাৎই একদিন খুব বেড়ে যায়। আমাকে মেডিকেলে নেওয়া হয়। মেডিকেলের ডাক্তার বলে রাজশাহী নিয়ে যেতে। অক্সিজেন দিয়ে আমাকে রাজশাহী নেওয়া হয়। রাজশাহীর ডাক্তার পরীক্ষা করে জানান আমার থাইরয়েডের সমস্যা। ঔষধ দেন। কিন্তু ফলাফল শূন্য।

রাতে ঘুমালে খারাপ খারাপ স্বপ্ন দেখতাম। ঘুমের মধ্যে মনে হতো কেউ আমার গলা টিপে ধরেছে। স্বপ্নে বেশির ভাগ সময় বাদুড় দেখতাম। প্রথম দিকে কেউ বিষয়টি আমলে না নিলেও খারাপ স্বপ্ন দেখতাম এজন্য আমার মেজ চাচির দূর-সম্পর্কের এক ভাইয়ের কাছে থেকে আমাকে একটা তাবিজ এনে দিয়েছিলো। কিন্তু ধর্মের সঠিক দিক ও নির্দেশনা বিবেচনা করে আমি তাবিজ খুলে রেখেছিলাম।

একদিন সকালে প্রাইভেট যাবার জন্য রেডি হয়েছি,প্রাইভেটের সময় দেরী হয়ে যাচ্ছিলো তাই আম্মু বলে “মানুষ প্রাইভেটের সময় এতো দেরী করে গেলে স্যারে কী বলে”। ব্যাস, শুরু হয়ে গেলো আমার কাপুঁনি, শ্বাসকষ্ট আর কান্না। এসময় কান্না করলে শুধু বলতাম কেউ আমায় ভালোবাসে না,কেউ আমায় ভালোবাসে না, আমি মরে যাবো, আমি মরে গেলে তোমরা সবাই শান্তি পাবে - এগুলো বলতাম আর কাদঁতাম। আর বলতাম আমার কিছু ভালো লাগছে না,মাথা খুব জ্বলছে। আমার ভয় করছে। চোখ খুব শক্ত করে বন্ধ করে রাখতাম,তাকাতে ভয় করতো।আমার এরকম সমস্যা দেখে আমার আম্মু আমার শশুরকে ফোন দিয়ে আসতে বলে। ( উল্লেখ্য যে, আমার শশুর একজন আলেম, মওলানা )

আমি এমন করছি দেখে কী যেন মনে করে,আম্মু আমার শশুর কে বলে, “ভাই তাবিজটা মিথীর গলায় দিয়ে দি”;

কিন্তু যখনই তাবিজ আমার কাছে আনে আর আমার হাতের সাথে যখনই তাবিজের স্পর্শ হয় আমি চিল্লায় উঠি আর বলি জ্বলে যাচ্ছে সরাও এটা। যেহেতু আমার শশুর একজন মওলানা এবং এরকম বিষয়ে তার ধারণা আছে, তাই তিনি বুঝে যান এবং আমার আম্মুকে বলেন আমার উপসর্গ গত সমস্যা হয়েছে।

ঐ দিন রাতেই ঘুমের মধ্যে আমি দেখি আমার রুমের ভিতর অনেক গুলো বাদুড় আমার দিকে উড়ে আসছে, ভয়ে আমি চিল্লাই উঠে বসি। আমি তখন অনেক ঘেমে ছিলাম। এটা দেখে আমার ফ্যামেলী থেকে তাড়াতাড়ি আমাকে কবিরাজ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

নাটোরে এক কবিরাজকে দেখালে উনি বলেন যে আমার পিছনে জ্বীন লেগেছে, যে আমার ক্ষতি চায়, আমাকে মেরে ফেলতে চায়। ঐ দিন কবিরাজ দেখিয়ে বাসায় আসার সময় থেকেই আমি অনেক গম্ভীর হয়ে যায়। বাসায় আসার পর হাত মুখ না ধুঁয়ে, বোরকা না খুলেই আমি বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। দুপুরে খাবার জন্য ডাকলে প্রথমে আমি খাবো না বলি,তারপর যখন আমাকে খেতে জোর করছিলো তখন নাকি আমি বলি, রক্ত খাবো, রক্ত দে। Husband কে তুই করে বলি; কিন্তু কখনও আমি আমার husband কে তুই করে বলি না। যখন খাইতে চাইনি তখন আমার husband বলে আমি তোমাকে খাওয়ায় দি? কিন্তু আমি না করি, তবুও যখন ও জোর করছিলো আমি ওর হাতেই খায়। খাবার সময় নাকি মাথাটা অনেক নিচু করে, চোখ বন্ধ করে খাচ্ছিলাম। যে আমি ২পিছের বেশি মাংস, ১প্লেটের বেশি ভাত কখনও খাইনি, সেই আমি নাকি ঐ দিন ৮পিছ মাংস আর ৩প্লেট ভাত খেয়েছিলাম। খাবার পর আবারও ঘুমিয়ে যাই। যখন আমাকে ঘুম থেকে ডাকে, আমি নাকি অনেক রাগি চোখে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ উঠে বসে ঝুলতে থাকি। খাটটা অনেক জোরে জোরে নাড়াতে থাকি। যখন আমাকে জিজ্ঞাসা করে কি হয়েছে,.তখন নাকি আমি বলি তোরা ওখানে কেন গিয়েছিলি? আমাকে তাড়াইতে পারবি না, আমি রক্ত খাবো, তোর মেয়েকে (আমাকে) নিয়ে যাবো, ওর রক্ত খাবো। এরকম আরও অনেক কথা। এর কিছুক্ষণ পর আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাই।

কি হয়েছিল, কি বলেছি তার কিছুই আমার মনে থাকে না। যে কথা গুলো বললাম তা আমার family members দের কাছে থেকে শোনা। ২মাসেরও বেশি সময় প্রতিদিন এমনটা চলতো, দিনে ৪/৫ বার করে এমন হতো। সে সময়ের কোনো কথা আমার মনে থাকতো না। তখন ঐ কবিরাজ বলে তাকে (ঐ জ্বীনকে) হাজির করতে হবে এবং তাকে ভোগ দিতে হবে। এজন্য কবিরাজটা আমাদের বলে এক দামে কিনা কলা, একদামে কিনা ১/৩লিটার দুধ, পাচ রকমের ফল, ১/৩/৫ রকমের মিষ্টি ইত্যাদি নিয়ে যেতে। যথারীতি আমরা নাটোরে ঐ কবিরাজের কাছে যাই। কবিরাজটা আমার ওপরে জ্বীন হাজির করায়। তার ( জ্বীনটার ) নাম, কোথা থেকে আসছে, কেন আমার ওপর ভর করেছে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে সে বলে তার নাম আলতাব, আমাদের বাড়ির পিছনের বড়পুকুরের সাথে আম গাছে থাকে। আমাকে তার ভালো লেগেছে তাই এসেছে ইত্যাদি। কিন্তু তার ( জ্বীনটার ) এ সবগুলো কথা-ই ছিল মিথ্যা। যা পরে প্রমাণিত হয়। এরপর ঐ কবিরাজটা আমাকে একটা তাবিজ, এক বোতল গোলাপ জল আর পানি পড়া দিয়ে বলে আর কোনো সমস্যা হবে না।

৪/৫ মাস ভালোই ছিলাম। কিন্তু এরপর আবার সমস্যা গুলো শুরু হয়। মাথা ভার হয়ে থাকা, শরীরে কোনো শক্তি না পাওয়া। একটুতেই রেগে যাওয়া, পড়াশুনা না করা। মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া, কান্নাকাটি করা, ঘুমের মধ্যে গোঙানো, ঘুমের মধ্যে চিল্লাই ওঠা, কেউ আমার সাথে একটু জোরে কথা বললেই আত্মহত্যা করতে যাওয়া। এ পর্যন্ত আমি ১০ বারের ও বেশি বার আত্মহত্যা করতে গিয়েছি। সমস্যা গুলো আবার শুরু হবার পর আমার family members রা বলে ঐ কবিরাজ কোনো কাজের না; শুধু শুধু আমাদের অনেক গুলো টাকা খেয়েছে কিন্তু সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। তাই তারা সিদ্ধান্ত নেয় অন্য কাউকে দেখাবে। আমার husband এর পরিচিত এক বড় হুজুর আছেন, তাকেই দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তাকে ফোন করে আমার সমস্যার কথা বললে তিনি বলেন, আমার ওপর শুধু জ্বীনেরই নজর না, সাথে মানুষেরও কু-নজর আছে। এজন্য আমাদেরকে তার বাসায় যেতে বলে। তার কাছে গেলে তিনি বলেন, আমার ওপর কুফরী করা হয়েছে,,সাথে বদ জ্বীন চালান করা হয়েছে। যে জ্বীনটাকে আমার ওপর চালান করেছে সে ইফ্রিত গোত্রের (শয়তানের উপাসক)

আমার চুল,ব্যবহৃত জামার অংশ, মাসিকের সময় ব্যবহার করা প্যাড আর আমার বাবা-মায়ের নাম দিয়ে আমার ওপর কুফরী/কালো জাদু করছে..!! তারা আমার নামে কুফরী করে তাবিজ আর একটা পুতুল অনেক পুরাতন একটা কবরে লুকিয়ে রেখেছে। আর আমাকে কালোজাদু করেছে আমার husband এর আপন ফুপু, ফুপাতো ভাই-বোন, মিলে। তারা আমাকে কালো জাদু করেছে যাতে আমি অসুস্থ হয়ে যায়, পাগল হয়ে যায় আর পাগল হয়ে নিজেই নিজেকে খুন করি এজন্য।

যাতে আমি মারা গেলে ঐ মহিলা ( আমার husband এর ফুপাতো বোন ) আমার husband কে বিয়ে করতে পারে।

ঐ মহিলা নিজে বিবাহিত, তার ৭ বছরের একটা মেয়ে আছে। সে তার husband কে এখন আর সহ্য করতে পারছে না কারণ তার husband এর sexual power নাকি এখন আর নাই। নিজের যৌন ক্ষুধা মিটানোর জন্য আমার husband এর দিকে নজর দিয়েছে - এ কথা গুলো ঐ হুজুর আমাদের বলেছে।

আমরা বিশ্বাস করেছি কারণ যখন আমার সাথে আমার husband এর বিয়ের কথা চলছিল তখন নাকি ঐ মহিলা আর তার মা নিজে আমার শাশুড়ির কাছে, আমার ননদের কাছে বলেছে যে সে আমার husband কে পছন্দ করে

, বিয়ে করতে চায়। কিন্তু আমার শাশুড়ি-ননদ অমত জানায় না করে দেয়। ঐ মহিলা ( ফুপাতো বোন ) নিজে একজন আলেম, পর্দা করে, ইসলামিক জ্ঞান দেয়! তার মা ( ফুপু ) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, তার ভাই আল-কোরআনের ৩০ পারার হাফেজ। এরকম মানুষ যে কুফরীর মত এতো জঘন্য কাজ করতে পারে তা আমার কল্পনার বাইরে ছিল। আমাদের বিয়ের আগেও আমার husband এর ফুপু তার বিবাহিত মেয়ে যে কিনা এক বাচ্চার মা ! তার সাথে আমার husband এর বিয়ের প্রস্তাব দেয়!!

কিন্তু আমার husband না করে দেয়।

যাই হোক, ঐ হুজুর আমাদের কয়েকটা তদবির দেন। আমাদের বলেন যে, আমার ওপরে থাকা কালো জাদু কাটাতে ৫০১ টা তাবিজ লাগবে, যে গুলো পরে মাঝ নদীতে ফেলে দিতে হবে এবং এই....এই......

জায়গায় পুতে ফেলতে হবে; আমার নামে কুফরী করা যাবতীয় জিনিস তিনি তার কাছে থাকা জ্বীনের মাধ্যমে উদ্ধার করে সেগুলো নষ্ট করে ফেলেন। আর আমাকে একটা তাবিজ দেন, যেটা এখনও আমি গলায় পড়ে আছি। আল্লাহর রহমতে এখন আমি সুস্থ।

২০১৭, ২০১৮ এই দুই বছর আমি এই সমস্যার মধ্যে দিয়ে দিন পার করেছি; এই দুই বছর আমার শারীরিক ও মানসিক অনেক ক্ষতি হয়। ঐ দুই বছরের অনেক সময়, স্মৃতি,কথার অনেক কিছুই আমার মনে নেই যে গুলো আমি পরে আমার মা,

husband, ফ্যামিলি মেম্বার্সদের কাছ থেকে শুনেছি।

Enjoy
Free
E-Books
on
Just Another Bangladeshi
By
Famous Writers, Scientists, and Philosophers 
Our Social Media
  • Facebook
  • Twitter
  • Pinterest
Our Partners

© 2023 by The Just Another Bangladeshi. Proudly created by Sen