বাংলাদেশে বর্তমানে অপরাধের ধরন পাল্টে গেছে।

অপরাধ শব্দটির মধ্যে একধরনের অপরাধী গন্ধ খুঁজে পাওয়া যায়। প্রকৃতপক্ষে শব্দটির কোনো দোষ নেই। আমরা এই শব্দকে নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করি।আমাদের সময় এক পাড়ার ছেলেদের অন্য পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে খেলা নিয়ে মারপিট করতে দেখা যেত। লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অন্যকে দৌড়ানি দেওয়া পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল মারপিটের ধরনগুলো।বেদমভাবে একে অন্যকে মারতে তখন দেখা যেত না। মারপিট হলেও খুব বেশি জখম হতে কখনো দেখিনি। বর্তমানে গ্যাং কালচার বিস্তারের কারণে এক গ্রুপের ছেলেদের অন্য গ্রুপের ছেলেদের রামদা দিয়ে কোপাতে দেখা যায়। এমনকি অস্ত্র দিয়ে হত্যা করতেও পিছপা হচ্ছে না। আমাদের সময় পাড়ার মুরুব্বিদের ভয়ে কিশোররা সবসময় ইতস্তত থাকত। গলির মোড়ের চা দোকানে চা পান করাটা অন্যায় বলে ধরে নেওয়া হতো। আর আজকাল পাড়ার মুরুব্বিরা কিশোরদের ভয়ে এলাকায় মাথা নত করে চলেন।


অপরাধী হওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ সময় হলো কিশোর বয়স। আজকাল আমাদের দেশে কিশোর অপরাধ খুব বেড়ে গেছে এবং কিশোর অপরাধ সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে।পারিবারিক কলহ কিশোর মনকে বেশি প্রভাবিত করে। পরিবার থেকে যদি শ্রদ্ধাবোধ না শেখে সে তো শ্রদ্ধাবোধ জিনিসটি শিখবে না। একজন শ্রদ্ধাবোধহীন বালকই সহজেই যেকোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। কারণ তখন তার চোখের লজ্জার পর্দা সরে যায়।

২০১৮ থেকে চট্টগ্রামে আলোচনার শীর্ষে কিশোর অপরাধ। পাড়ায় মহল্লায় হরেক নামে গড়ে উঠা কিশোর গ্যাং খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা, অস্ত্রবাজি, মার দাঙ্গায় জড়িয়েছে। সংঘবদ্ধ অপরাধের পাশাপাশি কিশোরের হাতে খুন, ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে বেশ কয়েকটি। পাড়ার বখাটে, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এমনকি ইংরেজি মাধ্যমের ছাত্ররাও এই গ্যাংয়ে শামিল হয়েছে। রাজনৈতিক বড়ভাইদের মদদে গড়ে উঠা এবং তাদের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাংয়ের লাগাম টানতে নানা উদ্যোগ নেয় পুলিশ। নগরীর ৩০০ স্পটে ৫৫০ কিশোর গ্রুপের তালিকা করা হয়। তবে অভিযানের মুখে বছরে শেষের দিকে দাপট কিছুটা কমলেও বন্ধ হয়নি কিশোর গ্রুপের অপতৎপরতা। গত কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রামে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে কিশোর অপরাধীরা। একের পর এক খুন, মাদক চোরাচালান, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও আধিপত্য বিস্তারে জড়িয়ে পড়ছে তারা। কিশোর অপরাধের বলি হয়েছে অনেকে।

সিএমপির তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে এসব গ্যাং কালচারের বিরুদ্ধে করা তালিকায় এরকম কথিত বড় ভাই রয়েছে ৪৭ জন। তারা প্রত্যেকেই একেকটি গ্যাংয়ের দলপতি ও শেল্টারদাতা। আর নগরীতে এসব গ্যাং কালচারে জড়িত কিশোরের সংখ্যা রয়েছে মোট ৫৩৫ জন। তবে সিএমপির কোতোয়ালী থানায় সর্বোচ্চ ১৫০ জন কিশোর এসব গ্যাং কালচারে সম্পৃক্ত থাকলেও পতেঙ্গা ও কর্ণফুলীতে এরকম কোনও কিশোর গ্যাংয়ের নাম উঠে আসেনি সিএমপির করা ওই তালিকায়।

২০১৮ সালে কোতোয়ালী থানার জামালখানে আদনান হত্যার পর নগর পুলিশ অপরাধচক্রে জড়িত কিশোর এবং অপরাধপ্রবণ এলাকার তালিকা করেছিল। তালিকায় প্রায় ৫৫০ জন কিশোরের নাম এসেছিল। যেখানে নিয়মিত বসে আড্ডা দেয় সেরকম অপরাধপ্রবণ স্পটের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০০টি। কোচিংভিত্তিক, রাজনৈতিক, স্কুল-কলেজভিত্তিক, চাকরিজীবী এই ধরনের অন্তত ১৫টি ক্যাটাগরির আড্ডার এই ৩০০ স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন স্পটে আড্ডারত কিশোর-তরুণ দেখলে আটকের কথাও ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল নগর পুলিশের পক্ষ থেকে। তবে কিছুদিন পুলিশ তৎপর থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেকটাই স্তিমিত হয়ে যায় পুলিশের সেই তৎপরতা।

কিশোর গ্যাংয়ের মোট কিশোরের সংখ্যা ৫৩৫ জন। আর তাদের গ্যাংয়ের সংখ্যা ৪৭টি। তাদের নিয়ন্ত্রক কথিত বড় ভাইদের বেশিরভাগই সরকার দলীয় রাজনৈতিক নেতা নামধারী। তাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের পদে না থাকলেও তারা সরকার দলীয় এমপি-মন্ত্রী ও সিনিয়র নেতাদের বিশ্বস্ত অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে থাকেন।

গত ২৯ মার্চ ২০২০ এর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য নগরের ৪১টি ওয়ার্ডের জন্য কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ২২০ জন।

তার মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন কিশোর গ্যাংয়ের গডফাদার হিসেবে পরিচিত অপরাধী চক্রের সাত পৃষ্ঠপোষক। তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মী ও সমর্থক। আলোচিত এই সাতজনের মধ্যে দুজন সরকারি দল-সমর্থিত প্রার্থী। বাকি পাঁচজন ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’। তাঁদের একজন কারাগারে বসেই নির্বাচন করছেন। প্রথম আলো।

কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে যুবলীগ নামধারী নূর মোস্তফা ওরফে টিনুকে অস্ত্রসহ গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর র‍্যাব গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টার পাঁচটি মামলা রয়েছে। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্র জানায়, সন্ত্রাসী টিনুর অনুসারীরা বাকলিয়া, বহদ্দারহাট, পাঁচলাইশ ও চকবাজার এলাকায় সক্রিয়। তাঁরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত। তাঁর দলের সদস্যদের বড় অংশ কিশোর–তরুণ। বাকলিয়ায় গত বছরের ৬ এপ্রিল এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা নিয়ে কিশোরদের দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়া মেটাতে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী লোকমান নিহত হন টিনুর সহযোগী সাইফুল ইসলামের গুলিতে। অবশ্য দুই দিন পর পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ওই সাইফুলও নিহত হন।

এই নূর মোস্তফা ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের (চকবাজার এলাকা) কাউন্সিলর পদপ্রার্থী। তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থন না পেয়ে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হিসেবে কারাগার থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁর মুক্তি দাবি করে এবং কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হতে চান জানিয়ে নগরের বিভিন্ন স্থানে পোস্টারও সাঁটানো হয়েছিলো।

র‍্যাব–৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেছিলেন, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষক নুর মোস্তফার কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করা দুঃখজনক। অস্ত্র মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে প্রথম আলো প্রত্রিকায় "চট্টগ্রাম সিটিতে কিশোর গ্যাংয়ের সাত গডফাদার কাউন্সিলর প্রার্থী" শিরোনামে একটা নিউজ ও পাবলিশার্স ও করা হয়।রাজনৈতিক আশ্রয়ে ২০২০ এ চট্টগ্রামে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে কিশোর অপরাধীরা। একের পর এক খুন, মাদক চোরাচালান, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও আধিপত্য বিস্তারে জড়িয়ে পড়ছে তারা।

সিএমপি এর তথ্যমতে গত ৬ মাসে চট্টগ্রামে কিশোর অপরাধীদের হাতে খুন হয়েছেন আরো ৬ জন। গত দেড় বছরে কিশোর অপরাধের কারণে নগরের বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে কমপক্ষে ২৫টি।

তুচ্ছ বিষয়ে কথা কাটাকাটি, ফেসবুক-মোবাইল, প্রেম, চুরি-ছিনতাইসহ নানা ইস্যুতে সামান্য মতানৈক্য হলেই এদের মাথায় খুন চাপে।

আবার মাদক বিক্রেতা থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ পর্যন্ত অনেকেই নিজেদের স্বার্থে কিশোরদের অপরাধ জগতে টানছে। ফলে এই কিশোররা পরিবারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। যারা শুধু পাড়া-পড়শি নয়, নিজের পরিবারের জন্যও মারাত্মক বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।

২০১৮ সালের ১৬ই জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর জামালখানে কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র আদনান ইসপারকে প্রকাশ্যে মাথায় গুলি করে হত্যার ঘটনার পর নগর দাপিয়ে বেড়ানো কিশোর অপরাধীদের নিয়ে নড়েচড়ে বসেছিল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ।

এ সময় পাড়ায়-পাড়ায় সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের তালিকাও করা হয়েছিল। কিশোরদের আড্ডায় নিয়মিত হানা দিয়েছিল পুলিশ। এতে সড়কের জনবহুল আস্তানা থেকে কিশোররা গা ঢাকা দেয় অলিগলির মোড়ে। কিন্তু এরপর কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই কার্যক্রম কার্যত থেমে গেছে। এ ছাড়া গত ৮ মাসে চট্টগ্রামে কিশোর অপরাধীদের হাতে খুন হয়েছেন আরো ৬ জন। গত দেড় বছরে কিশোর অপরাধের কারণে নগরের বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে কমপক্ষে ২৫টি।

সিএমপির তথ্য মতে, পারিবারিক অনুশাসনের অভাবে খুনসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে শিশু-কিশোররা। তুচ্ছ বিষয়ে কথা কাটাকাটি, ফেসবুক-মোবাইল, প্রেম, চুরি-ছিনতাইসহ নানা ইস্যুতে সামান্য মতানৈক্য হলেই এদের মাথায় খুন চাপে।

আবার মাদক বিক্রেতা থেকে শুরু করে রাজনীতীবিদ পর্যন্ত অনেকেই নিজেদের স্বার্থে কিশোরদের অপরাধ জগতে টানছে। ফলে এই কিশোররা পরিবারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। যারা শুধু পাড়া-পড়শি নয়, নিজের পরিবারের জন্যও মারাত্মক বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।

২০১৮ সালের ১৬ই জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর জামালখানে কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র আদনান ইসপারকে প্রকাশ্যে মাথায় গুলি করে হত্যার ঘটনার পর নগর দাপিয়ে বেড়ানো কিশোর অপরাধীদের নিয়ে নড়েচড়ে বসেছিল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ।

এ সময় পাড়ায়-পাড়ায় সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের তালিকাও করা হয়েছিল। কিশোরদের আড্ডায় নিয়মিত হানা দিয়েছিল পুলিশ। এতে সড়কের জনবহুল আস্তানা থেকে কিশোররা গা ঢাকা দেয় অলিগলির মোড়ে। কিন্তু এরপর কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই কার্যক্রম কার্যত থেমে গেছে। ফলে চট্টগ্রাম নগরীর পাড়ায়-পাড়ায় আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে কিশোর অপরাধ। কিশোররা গ্যাং গঠন করে মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে যুক্ত হচ্ছে। এমনকি নগরীর সরকারি-বেসরকারি স্কুল কলেজগুলোতেও সক্রিয় রয়েছে এই কিশোর গ্যাং।

গত ১৮ই জুলাই গভীর রাতে চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী থানার দক্ষিণ কাট্টলী এলাকায় একটি কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে অন্তদ্বন্দ্বের জেরে খুন হয়েছে এক তরুণ। পুলিশ জানিয়েছে, এই কিশোর গ্যাং চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। খুন হওয়া সদ্য কৈশোর পার করা তরুণসহ গ্যাংয়ের সব সদস্যই বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। গত তিন মাসে এই ধরনের আরো বেশ কয়েকটি ঘটনার পর চট্টগ্রাম নগরীতে কিশোর গ্যাং কালচার আবারো আলোচনায় এসেছে। মানবজমিন।

দিন দিন কিশোর অপরাধীদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধ যেন বাড়ছেই। শুধু আইনের প্রয়োগ দিয়ে কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে সরানো যাবে না। এ জন্য পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে হবে।

সন্তানরা কী করছে, কোথায় যাচ্ছে- অভিভাবকদের সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে, এবং সমাজের প্রত্যেক মানুষকে যে যার অবস্থান থেকে সতর্ক থাকতে হবে। যাতে কিশোরকে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে না দিই।

শুধু পুলিশি অ্যাকশন দিয়ে এ ধরনের সামাজিক অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য অভিভাবক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও ভূমিকা রাখতে হবে।

Enjoy
Free
E-Books
on
Just Another Bangladeshi
By
Famous Writers, Scientists, and Philosophers 
Our Social Media
  • Facebook
  • Twitter
  • Pinterest
Our Partners

© 2023 by The Just Another Bangladeshi. Proudly created by Sen