বিভিন্ন দেশে ইসলামী শাসন প্রত্যাখ্যান

ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া আমেরিকা,ভারত ইত্যাদি দেশে মানুষ সরকারের নীতিমালা পছন্দ না হলেই অতি সহজেই ও নির্ভয় হরতাল, মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশসহ নানাবিধ কর্মসূচি পালন করতে পারে ।

ইসলামিক রাষ্ট্র নয় এইরুপ দেশ যেমন বাংলাদেশ-পাকিস্তান, সিরিয়া,ইরাক ইত্যাদি দেশেও ইসলামের সমালোচনা করে অনেকেই নিজের জীবনটা হারিয়েছেন । অনেক ব্যক্তি ইসলামকে পছন্দ না করলেও ভয়ে মুখ খুলছেন না ।

কিন্তু সুদান,সৌদি আরব, ইরান ইত্যাদি খাঁটি ইসলামিক দেশ এবং সেখানে ইসলামিক দল ক্ষমতায় রয়েছে । জিহাদিরাও সেখানে রাষ্ট্রক্ষমতায় এবং পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণে । সুতরাং আন্দোলন করা মানে নিজের জীবনটাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে রাস্তায় নামা । যেকোন মুহূর্তে কঠোর দমন ও নির্যাতনে জীবনটাই চলে যেতে পারে অথবা গুম হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে ।

তাহলে বুঝতে হবে, কি পরিমান জুলুম-নির্যাতন শোষণ, অনিয়ম ,অবিচার হলে এইরকম স্বৈরাচারী ইসলামী সরকারের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে মানুষ আন্দোলনে নামতে পারে ? সোমালিয়ান জঙ্গিগোষ্ঠী শাবাব এর নাম শুনলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে । যাদের হাতে গভীর সমুদ্রে আমেরিকা, জাপান, বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশের শত শত পণ্যবাহী জাহাজ আটক হয়েছিল ।

যে আইন মানুষকে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি, প্রগতি ও আনন্দ দিবে সেই আইনের বিরুদ্ধে মানুষ বিদ্রোহ করতে পারেনা । নিশ্চয়ই ইসলামী আইন ও শাসনের মধ্যে গলদ রয়েছে । যে কারণেই ইতিপূর্বে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ইহা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে ।

এটি বড়ই লজ্জাজনক ব্যাপার । যদি ইসলামী দলসমূহের নেতৃবৃন্দ, আলেম-ওলামা , স্কলাররা অর্থলোভী, ক্ষমতালোভী, নির্লজ্জ না হইত তবে এই প্রত্যাখ্যানকৃত আইন ও শাষনব্যাবস্থা দ্বিতীয়বার বাস্তবায়নের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেশে আন্দোলন ,সংগ্রাম করতে পারত না । এরা প্রচার করছে পৃথিবীতে মানুষের মধ্যে ধর্ম বিশ্বাস তথা ইসলাম ধর্মের প্রতি আসক্তি দিনে দিনে বেড়ে যাচ্ছে । পশ্চিমা দেশের অনেকেই নাকি ইসলাম গ্রহণ করছে । কিন্তু বাস্তবতা হলো পৃথিবীর উন্নত দেশ সমূহের অপেক্ষাকৃত উন্নত জনগোষ্ঠীর ধর্মবিশ্বাস ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে ।

• চীনে ৬১ শতাংশ, সুইডেনে ৭৬ শতাংশ , চেক প্রজাতন্ত্রে ৭৫ শতাংশ, ইসরাইল ৮০ শতাংশ,ব্রিটেনের ৫৩ শতাংশ , হংকং ৬২ শতাংশে ,জাপানে ৬২ শতাংশ;,জার্মানিতে ৫৯ শতাংশ, ডেনমার্ক ৬৫ শতাংশ এবং অস্ট্রিয়া, স্পেন, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ইত্যাদি দেশের বড় অংশই হল নাস্তিক ।

সম্প্রতি সুদানে ইসলামী শাসন ও ইসলামিক আইন সুদানিরা ঘৃণা ভরে ছুড়ে ফেলছে! তিন দশকের ইসলামী শাসনের পর তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে পতন ঘটেছে ইসলামপন্থি ওমর আল বশিরের । ১৯৮৩ সালে প্রথম সুদানে ইসলামী আইন চালু করেছিলেন প্রেসিডেন্ট জাফর নিমেইরি। সম্প্রতি ইসলামী শাসনের অবসান হওয়ার পর বর্তমান আইনমন্ত্রী যে সমস্ত সংশোধনী এনেছেন তা নিম্নে বর্ণিত হলো:

১ - ইসলামের মতে, ইসলাম ধর্ম ত্যাগের শাস্তি হলো মৃত্যুদন্ড । তাই ধর্ম ত্যাগকে এতদিন অপরাধ হিসেবে দেখা হত । সম্প্রতি এই আইনে পরিবর্তন করা হইয়াছে । এখন থেকে সুদানের যে কেউ ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করতে পারবে । ২ - নারীদের খৎনা বাতিল করা হয়েছে এবং এখন থেকে খৎনাকে অপরাধ বলে গণ্য হবে । নারীর তথাকথিত সতিত্ব্ রক্ষার নামে আফ্রিকার দেশগুলোতে নারীদের যৌন অনুভূতিহীন করে তোলার জন্য খৎনা করা হয় যা ইসলাম ধর্ম মতে কোন দোষ নয় । ইউনিসেফের ২০১৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী সুদানে ৮৫ শতাংশ নারীকে খৎনা করে পঙ্গু করে ফেলা হয়েছে। ৩ - ইসলামের মতে একজন নারী তার আইনসম্মত অভিভাবক যেমন তার পিতা,ভাই, স্বামী এবং তার নিজস্ব পূত্র সন্তান ব্যাতীত একা কোথাও যেতে পারবেনা । এই শরীয়া আইন বাতিল করে এখন থেকে মহিলারা তাদের পুরুষ অভিভাবক ছাড়াই সন্তানদের নিয়ে ভ্রমণ করতে পারবেন । ৪ - এখন থেকে কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপকে বিধর্মী, অবিশ্বাসী, কাফের ইত্যাদি বলা যাবেনা ৷ এসব বলার কারণে সমাজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ তৈরি হয় । মুসলমানরা অন্যদের কাফের বলতে যে পরিমাণ ঘৃণা ও বর্ণবাদের চর্চা করে ,সুদানে সেটাই এখন থেকে বাতিল বলে গণ্য হবে । একই দেশে একই জাতিসত্ত্বা হওয়ার পরও শুধুমাত্র ধর্মের ভিন্নতার কারণে বিভেদ সৃষ্টি করা হয়েছে। সুদানিরা ইসলামী শাসনে আসার পুর্বে হাতে কলমে তাহা কখনোই বুঝতে পারেনি।

আফ্রিকার অনেকে দেশেই এক সময় ইসলামী শাসন ছিলো । তারপর সেখানে গৃহযুদ্ধ আর জঙ্গিপনায় গোটা জাতি ধ্ব্ংস হয়ে যায় । এরকম কিছু দেশে আজ বোরখা হিজাব আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে । ধর্ম ত্যাগের অনুমতি দেয়া হয়েছে । বহু মসজিদ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে জিহাদের আস্তানা হিসেবে চিহ্নিত করে । শরীয়া শাসনে ইসলামের আসল চেহারা মোবারক না দেখলে কি ঐসব দেশের মুসলমানদের হাত ধরেই এই পরিবর্তনগুলো আসতে পারত ?

আজ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ আমাদের থেকে জ্ঞানে, গুনে ,সভ্যতায,শিক্ষায় পিছিয়ে থেকেও কেবলমাত্র ইসলামী শাসনের অধীনে থেকে ইসলামের আসল চেহারা প্রত্যক্ষ করে পেরেছে । তাই তারা ইসলামকে প্রত্যাখ্যান করেছে । এই ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশ গ্রহণ করা বর্তমান পরিস্থিতিতে কোন ক্রমেই সম্ভব নয় । শুধু আলেম-ওলামা কেন এদেশের বহু উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিবর্গও এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমে পড়বে ।

আমরা কি ইসলামের নীতিগুলো অধ্যায়ন করে এবং আফ্রিকার এই দেশগুলোর দুর্দশা দেখে শিক্ষা গ্রহণ করব ? নাকি আমাদের দেশে ইসলাম কায়েম করে আফ্রিকার দেশগুলোর ন্যায় আমাদের দেশটি ধ্বংস করার পর ইসলাম সম্পর্কে জানব ও শিখব ?


Enjoy
Free
E-Books
on
Just Another Bangladeshi
By
Famous Writers, Scientists, and Philosophers 
Our Social Media
  • Facebook
  • Twitter
  • Pinterest
Our Partners

© 2023 by The Just Another Bangladeshi. Proudly created by Sen