পুরুষ মানুষ


অরুণ থাকতেন আমাদের পাশের ঘরে।পুরো নাম অরুণ দেব।একটা এনজিওর উপজেলা শাখার ক‍্যাশ ম‍্যানেজার ছিলেন। সকাল আটটায় যখন দাদা হাল্কা আকাশী রঙের জমিনের ছোট ছোট সাদা ফুলওয়ালা শাড়িটা পড়ে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে ঘর থেকে বের হতেন তখন জালনা দিয়ে আমি তাকাতাম। দাদা কানে লতার মতো ঝুলে থাকা স্বর্ণের মত লম্বা চুল ,ফর্সা কপালের উপর পূর্ণ চাঁদের মতো একটা লাল বেন্ড আর সিঁথিতে লম্বা করে টেনে দেয় আছড়ান চুল দিকে তাকিয়ে আমার চোখ জ্বলসে যেতো।এইট ক্লাসের আমি ভাবতাম ঈশ্বর সৃষ্টি নিয়ে। ভাবতাম মানুষ সৃষ্টিই কেন শ্রেষ্ঠ হলো অন‍্য সৃষ্টি কেন নয়।অরুণ দা অবশ্য বের হওয়ার পরে কোন কোনদিন আমার জালনায় তাকাতেন, উঁকি দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসতেন। সেই হাসি আমার চোখে লেগে থাকতো সারাদিন।পড়তে বসে,খেতে বসে, স্কুলে যেতে যেতে আচমকা চোখে ভেসে উঠতো অরুণ-দা একটু রুষ্ঠ মিষ্টি হাসিটা।বাবার সাথে অবশ্য অরুণ-দা খুব ভালো একটা সম্পর্ক ছিল না। কারণা বাবা হিন্দু ধর্মের কাউকে সহ‍্য করতে পারতেন না। তাদের সাথে কথা বলতেও পছন্দ করতেন না। তাছাড়া অরণ-দার স্ত্রী দেবীর সাথে তার গভীর প্রেম আর খুনসুটি আমার বাবাকে তাঁতিয়ে তুলতো়ে বাবার অতীত তাকে খেপিয়ে তুলতো প্রচণ্ড ভাবে। ছোটবেলা থেকেইা মাকে দেখিনি আমি।মাই কষ্ট করে মানুষ করেছেন আমায়। মার কথা কোনদিন আমার কাছে গল্পও করেননি বাবা। কোনদিন যদি আমি জিজ্ঞেস করেছি তখন তিনি বলেছেন,'মা নেই।মা ছাড়াই জন্মেছিস তুই।' ছোট বেলায় মেনে নিয়েছিলাম মায়ের সেই কথা। কিন্তু বড় হয়ে বন্ধুদের সাথে মিশে জেনেছি পুরুষের স্পর্শ ছাড়া কোন নারী সন্তান দিতে পারে না। তখনও বাবাকে জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিলাম মার কথা। কিন্তু বাবা বলবেনা অথবা ধমক দিবে এই ভয়ে আর কোনদিন জিজ্ঞেস করা হয়ে উঠেনি তাকে। অরুন-দার স্ত্রীর নাম পরাগ দেবী।পরাগ দেবীকে আমি ডাকি দিদি বলে।দিদির চেহারা উজ্জ্বল নয়,একটু ফিকে। কিন্তু থাকে না এমন যে উজ্জ্বল রঙের ছেলেদের চেয়েও ফিকে রঙের ছেলেদের বেশি ভালো লাগে,তেমনটিই ছিলেন পরাগ ্দীর।পরাগদী ছিলেন আমাদের বাসার পাশের প্রাইমারি স্কুলের সহকারী শিক্ষক। তার কাছেই প্রাইমারি পড়েছি আমি।পরগদীর এক গুণ হলো ছাত্রদের না মেরেও তিনি মানুষ করতে পারেন। তিনি কখনো বলেন না তোমরা পড়া শিখে এসো, কিন্তু ছাত্ররা তার পড়া এমনিই শিখে আসবে।এটা বোধহয় তার ক‍্যারিজমাই হবে।বড় হতে হতে তার চুলের কাট, গোঁফের ছাঁট আর হাঁটার স্টাইল আমি খুব গভীর মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করতাম। আমি চাইতাম তার মতো হতে। পরাগদীর একটা মোটর বাইক ছিল।এইটটিন সিসি আর সেকেলে ধাঁচের। রাস্তায় যখন তিনি ছুটতেন সেই গাড়ি চেপে তখন তাকে পুরনো আমলের হিরো্যীন মতো লাগতো। তার গাড়ির স্পিড যদি সবচেয়ে বেশিটিও থাকতো তবুও রাস্তায় আমায় পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সাহস এ গাড়ির হতো না।আমায় দেখে একেবারে আমার শরীর ঘেঁষে গাড়িটা থামিয়ে নিতেন পরাগদা। অনেক দিন এমন হয়েছে যে আমি ভয় পেয়ে গেছি, ভেবেছি কেউ বুঝি আমায় মেরে দিল, পা টা কী চলেই গেল নাকি এই সন্দেহে যখন তাকাতাম তখন দেখতাম পরাগদা।হু হু করে হেসে উঠতেন পরাগাদী।হাসির সাথে বাতাসে তার অবাধ্য চুলেরা উড়ে যেতে চাইতো আর গলায় ঝুলে থাকা রুপার সাদা চেইনটা যার একেবারে নিচে একটা ইংরেজি 'ও'অক্ষর সেই চেইনটা সূর্যের তেজে ঝিকমিক করে উঠতো। আমি খেই হারিয়ে এসব দেখতাম আর ভাবতাম আদ‍্যপান্ত পরাগদাই হতে চাই আমি।পরাগদার হাসি শেষ হলে বলতেন,'কানন,ভয় পেয়েছো?' 'না দীদি, আমার খুব সাহস।একদম ভয় পাই না আমি।' বলে আমি সাহসী পুরুষ হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করতে বুক টান টান করে দাড়াতাম।দিদি বলতেন,'বুঝেছি তোমার অনেক সাহস। একেবারে ইঁদুরের মতন। এখন উঠো।' বলে দিদি আবার হাসতেন। আমি গাড়িতে উঠতে উঠতে ভাবতাম দিদি সব বুঝে ফেলেন কীভাবে।তার সত‍্যি সত‍্যিই ক‍্যারিজমা আছে। বিকেলে ছাদে ঘুরি উড়াতে গিয়ে কোনদিন দেখা হয়ে যেতো তাদের সাথে। আমি চুপচাপ যেতাম ছাদে।অভ‍্যাসবসত চিলেকোঠার দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে উঁকি দিয়ে দেখতাম কেউ আছে কিনা। আসলে বাসার মালিকের মেয়েটাকে আমার ভীষণ লজ্জা করতো।মেয়েটাও এমন যে লজ্জা নামক কোন সামগ্রী তার মাঝে নেই।কত কত দিন যে আমায় কাঁদিয়ে ফেলেছে তার কোন হিসেব নেই। একদিন করলো কী,আমায় খুব আদর করে কাছে ডেকে নিলো।আমি তখন ক্লাস ফাইভে পড়ি। শান্ত শিশুর মতো কাছে গেলাম। গিয়ে বললাম,'কী আপু?' 'তুই নাকি দীপাকে চুমু খেয়েছিস?' ওর কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে কেঁদে ফেলেছিলাম আমি।কী অসভ্য মেয়ে, নিজের আপন বোনের সম্পর্কে এমন একটা বাজে কথা বলতে পারলো কী করে সে। আমার মনে হলো সে নিজেই মানুষের সাথে এমন করে।গলা ছেড়ে বলতে চেয়েছিলাম,'আমাকে বলো কেন, তুমি নিজেই তো এমন করো বড় ছেলেদের সাথে।' কিন্তু বলার সাহস করতে পারিনি। তারচেয়ে সহজ কাজটাই করেছি।ভে ভে করে কেঁদে ছাদ থেকে নেমেছি।সে অবশ্য আমার পেছন পেছন নেমেছে। চিৎকার করে ডেকেছে।সোনা ভাই,দাদা ভাই,লক্ষ্মী ভাইও বলেছে।কাজ হয়নি।বাবার কাছে এসে বলে দিয়েছি,' মিতু আপু আমায় মেরেছে।' মিথ্যে কথা বলেছি।ওই কথাটা যে বাবার কাছে বলা যাবে না তাই!বাবা বলেছেন,'কেন মেরেছে,নিশ্চয় তুই দুষ্টুমি করেছিস!' আমি বলেছি,'না বাবা, দুষ্টুমি করিনি।' বাবা বিশ্বাস করেননি তবুও।মিতু আপু জালনার এক কোণে দাঁড়িয়ে থেকে শুনে গেছে সব কথা। তারপর সকালে বিকেলে যে সময় যেখানে পেয়েছে সেখানেই খেপিয়েছে। মূলত মিতু আপুর ভয়েই আমি চিলে কোঠায় উঁকি দিয়ে পরেই ছাদে যেতাম। কিন্তু এই উঁকি দিয়ে মাঝেমধ্যে অন‍্য কিছুও দেখতে পেতাম।অরুণ-দা সামনে থেকে জড়িয়ে ধরেছে পরাগদী।অরুণ-দা পরাগদীর জামার কলার চেপে ধরে দু হাতে টেনে ছিঁড়ে ফেলতে চায়ছে তার জামা।কী অদ্ভুত কান্ড। প্রথম প্রথম ভাবতাম ওরা ঝগড়া করছে। একজন অপরজনকে মারছে। আমার ভীষণ খারাপ লাগতো তখন। বাবার কাছেও আবার ওদের ঝগড়ার কথা বলা যাবে না বলে নিজের ভেতর চাপা দুঃখটা পোঁষতাম। কিন্তু যখন বড় হতে শুরু করেছি তখন বুঝেছি ওটা ঝগড়া নয়,প্রেম।দশ বছর সংসার করেও যদি কারোর মধ্যে এমন প্রেম জিইয়ে থাকে তবে আমার বাবা আজীবন অসংসারি থেকে কেন দুঃখবোধ করবেন না,কেনইবা ওদের হিংসে করবেন না!আমি জানি বাবা মিছেমিছি ধর্মের বেড়াজালে আমায় আটকে রাখতে চান।আসল কথা ধর্ম নয়, প্রেম। প্রেম বঞ্চিত কোন মেয়েই অন‍্য মেয়ের প্রেম সহ‍্য করতে পারে না। ' অরুণ-দা কিন্তু আমাদের সহ‍্য করতে পারতেন। তিনি সত‍্যি সত্যি ভাই ভাবতেন আমায়। তিনি জানতেন, তাই তিনি ভাই ফোঁটা উৎসবে আমায় ডেকে কপালে ফোঁটা দিতেন না ঠিক কিন্তু উৎসবের পরদিন আড়ালে ডেকে মিষ্টি করে হেসে বলতেন,'ধর্ম মানুষকে ভাগ করে দেয় না কানন?' আমি দাদার শক্ত কথা বুঝতাম না। অগোছালো ভাবে বড় বড় চোখ করে দাদার দিকে তাকিয়ে থাকতাম। দাদা আমার দুটো হাত তার মুঠোয় তুলে নিয়ে বলতেন ,'কানন,জানিস আমার আপন কোন ভাই নাই। আমি চেয়েছিলাম তুই আমার ভাই হয়ে থাকবি। তোকে আমি পাশে বসিয়ে অঙ্ক বুঝাবো,অঙ্ক করতে গিয়ে হিসেবে ভুল করলে কানমলা দিবো, হঠাৎ মন খারাপ হলে জড়িয়ে ধরে বলবো,'ভাই,তোর জন্য টুকটুকে একটা বৌ এনে দিবো, তখন তোর মন ভালো হয়ে যেতো ঠিক!' অরুণদার কথার কী উত্তর হয় আমি বুঝতে পারি না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতাম।বাইরে একটা পাতা ঝরার শব্দ হলেই দৌড়ে চলে যেতাম অন‍্য পথে,অন‍্য কোথাও। লুকিয়ে যেতাম কোন গাছের আড়ালে অথবা বাঁকা পথে হেঁটে বড় সড়কটার দিকে গিয়ে মিলিয়ে যেতাম একেবারে।যদিা বাবা দেখে ফেলে এই ভয়ে। তারপর এভাবেই সময় বয়ে যেতে লাগলো আর বাড়তে থাকলো দিদির প্রতি আমার গোপন ভালোবাসা আর দিদির আমার প্রতি।

তখন আমি ক্লাস টেনে পড়ি। সামনে টেস্ট পরীক্ষা। রাতদিন খাটুনি আর খাটুনি।এইটের রেজাল্ট আমায় আশাহত করেছিল। বৃত্তি পাইনি।বাবারও মন খারাপ হয়েছিল খুব। এবার আর ভুল করা যাবে না। ভালো পড়লে রেজাল্ট ভালো হবে এই আশায় রাতের পর রাত আমি জেগে থাকি।মা আমার পাশে শুয়ে ঘুমিয়ে যায়। আবার জাগে আবার ঘুমায়। আমি ঘুমাই না।জেদ চেপে পড়ি। একদিন হঠাৎ শুনতে পেলাম অরুদির গলা।অরুদি কাঁদছে।জোরে জোরেই কাঁদছে।কী হলো তাদের।বুকটা আমার মোচড় দিয়ে উঠে। অরুণদার এক যুগের সংসার আমি নিজের চোখে দেখেছি। কোনদিন ওদের ঘর থেকে জোরে ধমক দেয়া,ঝগড়া কিংবা কান্নার আওয়াজ ভেসে আসেনি।আসতো হাসির আওয়াজ, খিলখিল করে হাসতেন দিদি আর পরাগাদী খিল খিল করে। কিন্তু আজ দাদার হঠাৎ কী হয়ে গেল? ঘুমন্ত বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে দরজাটা চাপিয়ে সন্তর্পণে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় আমি। তারপর চলে আসি অরুণদার দরজার পাশে। দাদার ঘরের দরজাটা এখনও খোলা। বাতাসে হলুদ রঙের পাতলা পর্দাটা কাঁপছে। পর্দার ও পাশে দাদা। দাদা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন। পরাগ দীর কোন সাড়া পাচ্ছি না। ভাবলাম, ওদের হয়তো কোন বিপদ হয়েছে। আমি আর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। খুব কষ্ট হচ্ছিল আমার। ছটপট ঘরের ভেতর ঢুকেই দেখলাম অরুণদা বিছানায় শুয়ে বালিশের পেটে মুখ ডুবিয়ে কাঁদছেন। আমি কাছে গিয়েই ডাকলাম,'দাদা" অরুণদার মাথা তুলে তাকালেন।তার চোখ ফোলা ফোলা।আমায় দেখে দাদা কান্না আরো বেড়ে গেল। বললাম,'কী হয়েছে ? অরুণ দা চুপ করে শার্ট দিয়ে তার নাকের স্বর্দি মুছলেন। আমার কথার জবাব দিলেন না। আমিও নাছোড়বান্দা। কারণ আমার জানতেই হবে।আমি যে তার ভাই লাগি! ধর্মের গন্ডি যে বেঁধে রাখতে পারেনি আমায়!আদমের সন্তান সব ভাই- বোনই তো হয়।মুসলমানের ছেলেরাও যেমন দুটো চোখ থাকে হিন্দুর মেয়েরও ঠিক তাই ই। মুসলিম আঘাত পেলে কষ্ট পায় যেমন হিন্দুও কষ্ট পায়।এতো এতো বিষয়ে সাদৃশ্য থাকার পর তাকে বোন ভাবতে আমার বাঁধাটুকু কোথায়! বললাম,'দাদা,বলো না কী হয়েছে!' অরুণ দা কান্না থামালেন। ভেজা গলায় বললেন,'আমি অপয়া নারে কানন?' 'ছিঃ, এমন বলছো কেন!তুমি তো লক্ষ্মী।' 'নারে কানন না! আমি অপয়া,অলক্ষ্মী,নিঃসন্তান।' বলে আবার কান্নায় ভেঙে পড়লেন দাদা। আমি দাদার পাশে বসলাম।আস্তে করে তার মাথায় হাত বুলিয়ে বললাম,'দাদা,পরাগাদীকে কিছু বলেছে?' দাদা কাঁদতে কাঁদতেই বললেন,'পরাগাদী চলে গেছেরে তোর।অপয়ার সাথে কেন থাকবে সে? ওর জীবনটা আমি নরক করে ফেলেছি! তাকে সন্তান দিতে পারিনি আমি এই এক যুগেও।আমার জন্য কেন সে শুধু শুধু আটকোড়ের অপবাদ সহ‍্য করবে!' আমার খুব কষ্ট হতে লাগলো শুনে। বললাম,'সকাল হলেই চলে আসবে দেখো ,এই একটু রাগ করেছে হয়তো!' দাদা আমার কথা শুনলেন। একেবারে চুপ হয়ে গেলেন সে রাতে। ভাবলেন আসবে।

পরদিন সকালে দেবতার সামনে অর্ঘ্য সাজিয়ে পূজোয় বসলেন দাদা।আর প্রার্থনায় বললেন,'ঠাকুর,এ জীবনে অন‍্য কোন নাম নেই আমার। আমি শুধু তোমার পরে তাকেই চেয়েছি। তাকে ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারিনা আমি।বড় একা হয়ে যাবো আমি।মরে যাবো দম বন্ধ হয়ে। ফিরিয়ে দাও তুমি আমার নিকট।ঠাকুর, কবুল করো আমার প্রার্থনা।'প্রার্থনা করতে করতে ্দাদার গলা ভিজে এলো। চোখের কোল ছাপিয়ে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামলো। দাদার এ প্রার্থনা আর কান্না ঠাকুর ঘরের আড়ালে থেকে আমি শুনলাম কিন্তু দাদার দেবতা শুনলো না।বিধান লিখার সময় দেবতার কলমের আঁচড় হয়তোবা একটু বাঁকা পড়ে চলে গিয়েছিল অন‍্যদিকে।পুরনো আঁচড় আর মুছতে ইচ্ছে করলো না হয়তোবা দেবতার। কদিন পর সংবাদ এলো দাদার পতি দেব নতুন বিয়ে করেছেন। তার জন্য ডিভোর্স লেটারও পাঠিয়ে দিয়েছেন , খুব শীঘ্রই সে লেটার চলে আসবে দাদার কাছে। শুনে দাদার শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। একেবারেই চুপচাপ আর শান্ত হয়ে গেলেন। তার রুপের জৌলুস হারিয়ে যেতে থাকলো মুহূর্তেই। চোখের নিচে গাঢ় খালি জমে উঠলো।

আমার বাবার এখন আর ধর্মের বাঁধা ঠেকে না। তিনি রোজ এসে দাদার পাশে দাঁড়ান। দাড়িয়ে বলেন,'একদিন সব নারীই পুরুষ হারায়।কেউ শুরুতেই কেউ মাঝে আর কেউ কেউ শেষে!'

Enjoy
Free
E-Books
on
Just Another Bangladeshi
By
Famous Writers, Scientists, and Philosophers 
Our Social Media
  • Facebook
  • Twitter
  • Pinterest
Our Partners

© 2023 by The Just Another Bangladeshi. Proudly created by Sen