নাস্তিকদের অন্ধবিশ্বাস।

অধিকাংশ নাস্তিকরাই মনে করে থাকেন যে, তারা সত্যের পক্ষে আছেন। এটা খুবই আশ্চর্যজনক! যদি তাদের সাথে একমত হয়ে ধরেও নেই যে, 'স্রষ্টা থাকার কোন প্রমাণ নেই।'

তারপরও তো তাদের এগনোস্টিকের ভুমিকা পালন করার কথা, নাস্তিকের ভুমিকার তো কোন যৌক্তিকতা নেই। কারণ স্রষ্টা নেই এই কথারও তো কোন প্রমাণ নেই। প্রমাণ ছাড়া আপনি বেশির চেয়ে বেশি বলতে পারেন 'আমি জানিনা স্রষ্টা আছে কি নেই' কিন্তু এটা না করে স্রষ্টা নেই বলে দাবি করাটা কি অযৌক্তিক নয়? কারণ 'স্রষ্টা থাকার কোন প্রমাণ নেই' এটা স্রষ্টা না থাকারও কোন দলিল নয়। সুতরাং প্রমাণ নেই বলে আস্তিকদের আপনি মিথ্যার পক্ষপাতী বানিয়ে দিচ্ছেন। অথচ প্রমাণ না নিয়ে সেই আপনিই কীভাবে সত্যের পক্ষে আছেন!?


এক্ষেত্রে নাস্তিকদের অবস্থান একেবারেই অর্থহীন, অজ্ঞেয়বাদকে টপকে নিজেদের নাস্তিক বলে দাবি করেও তারা প্রমাণের দায় এড়াতে চায়।

এ বিষয়টা যে তারা বুঝেনা এমন নয়। তারাও তাদের এই অন্ধ বিশ্বাসটাকে 'কোন প্রমাণ ছাড়াই স্রষ্টা নেই দাবি করাটা' প্রমাণ করার জন্য নানা ভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে গেছে এবং যাচ্ছে। ইতিহাস সাক্ষী।

স্রষ্টা নেই এ ধারণাকে পাকাপোক্ত করার জন্য নিরীশ্বরবাদীদের প্রয়োজন ছিল এটা প্রমাণ করা যে, বিশ্বজগতের কোন শুরু নেই এবং শেষ নেই অর্থাৎ বিশ্বজগত অনন্তকাল ধরে চলছে এবং চলবে। এর মানে হলো বিশ্বজগতের কোন স্রষ্টার প্রয়োজন নেই।

খুবই স্পষ্ট যে, যদি বিশ্বজগতের শুরু শেষ না থাকে তাহলে তার স্রষ্টার প্রয়োজন নেই। এ কারণেই নিরীশ্বরবাদ দার্শনিকরা এটাকে তত্ত্ব আকারে প্রচার প্রসার করতে লাগলো এবং করেও ফেললো।

বিখ্যাত জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট ঘোষণা করেন, এই বিশ্বজগত অনাদি ও অনন্ত কোনকিছুই এই বিশ্বজগতের বাইরে নয়। উনবিংশ শতাব্দী যখন শুরু হলো তখন ব্যাপকভাবে এ ধারণা গৃহীত হয়ে গেছে যে, এই বিশ্বজগতের কোন শুরু নেই এবং শেষও নেই। এবং একে সৃষ্টিও করা হয়নি। পরবর্তীকালে কার্লমার্স ও এঙ্গেলস এর মতো বস্তুবাদিরাও এধারণাকে সমর্থন করেন।

অনাদি ও অনন্ত বিশ্বের ধরণা সবসময়ই নিরীশ্বরবাদের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল। বিশ্বজগত কোন এক সময় শুরু হয়েছিল- এ ধারণা মেনে নেয়ার অর্থ একজন স্রষ্টাকে মেনে নেয়া। তাই বৈজ্ঞানিক কোন ভিত্তি না থাকা সত্বেও- দাবি করা হলো বিশ্বজগত অনাদি ও অনন্ত। এ দাবি যারা করতেন তাদের মধ্যে ছিলেন জর্জেস পলিটজারও।

তিনি বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে principes Fondamentaux de philosophie ( The fundamental principles of philosophy) নামক গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে বস্তুবাদ ও মার্কসবাদের একজন গোড়া সমর্থক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। উক্ত বইতে তিনি লেখেন, "বিশ্বজগত কোন সৃষ্ট বস্তু নয়। এটি সৃষ্ট হলে অবশ্যই একে শূন্য থেকে তাৎক্ষণিকভাবে একজন স্রষ্টা কর্তৃক সৃষ্ট হতে হতো। সৃষ্টির ধারণা মেনে নিতে হলে একথাও মেনে নিতে হয় যে, এমন একটা সময় ছিল যখন বিশ্বজগতের অস্তিত্ব ছিল না। এবং আরও মেনে নিতে হয় যে, শূন্য থেকে কোন কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব। অথচ এগুলো এমন কথা যা বিজ্ঞান মেনে নিতে পারে না।"

সৃষ্টির ধারণার বিপক্ষে এবং অনাদি ও অনন্ত বিশ্বজগতের ধারণার পক্ষে থেকে বস্তুবাদী ও নিরীশ্বরবাদীরা ভেবেছিল বিজ্ঞান তাদের পক্ষে আছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল- না, বিজ্ঞান তাদের পক্ষে নেই। সহসাই বিজ্ঞান আবিষ্কার করলো বিশ্বজগতের একটা শুরু ছিল এবং শেষও আছে। আর বিশ্বজগতের শুরু যখন অাছে তখন পলিটজারের মতো বস্তুবাদিদের বিচারেই- একজন স্রষ্টার অস্তিত্ব স্বীকার না করে উপায় থাকে না।

কিন্তু না, সৃষ্টি তত্ত্ব মেনে নিলেও স্রষ্টার অস্তিত্ব মেনে নেই নি তারা। কারণ সৃষ্টিতত্বকে অস্বীকার করা মূলত তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। এটাকে অস্বীকার করে 'স্রষ্টা নেই' এই অন্ধবিশ্বাসটাকেই কিছুটা প্রমাণ করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল। যেহেতু তাদের উদ্দেশ্য পন্ড হলো অর্থাৎ বিজ্ঞান তাদের মনগড়া তত্ত্বকে সমর্থন করলো না বরং সৃষ্টি তত্ত্বের প্রমাণের মাধ্যমে উল্টো স্রষ্টার অস্তিত্ব মেনে নেওয়া আবশ্যক হচ্ছে, তখন তারা নিজেদের কথাকেই প্রত্যাখ্যান করলো।

১৯২৯ সালে আমেরিকার জ্যোতির্বিদ এডউইন হাবল লক্ষ করেন যে বিশ্বজগতের গ্যালাক্সিগুলো পরস্পর থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। অন্যভাবে বললে তিনি আবিষ্কার করলেন, বিশ্বজগত ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে।

এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হতে বাধ্য করলো। সিদ্ধান্তটি হলো- এই বিশ্বজগত সৃষ্টি হয়েছে একটি একক পয়েন্ট (single point) থেকে। শুরুতে গোটা বিশ্বজগত একত্রিত ছিল। এর ধারাবাহিকতায় আবিষ্কার হলো বিগব্যাং থিওরি।

নিরীশ্বরবাদীরাও মেনে নিতে বাধ্য হলো বিশ্বজগতের একটা শুরু আছে, কিন্তু তাদের কথা অনুযায়ী শুরু থাকলে যে একজন শুরু করনেওয়ালা থাকতে হবে সেটা মানতে অস্বীকার করলো।

পরিশেষে কোরআনের একটি আয়াত উল্লেখ্য করছি। বলবো না যে, এটি বিগব্যাং থিওরির প্রতি ইঙ্গিত করছে। বা এর মাঝে কোন অলৌকিকত্ব রয়েছে। কারণ কিছু নাস্তিকরা এতটাই অজ্ঞতার পরিচয় দেয় যে,বলার বাহিরে। নিজেরাও কোরআন বুঝবেনা যারা বুঝে তাদেরটাও মানবে না। অতএব আমি শুধু শাব্দিক অর্থটা উল্লেখ্য করবো। অতঃপর আপনারাই বলবেন - এই আয়াত দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে।


أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا ۖ وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ ۖ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ

কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী একত্রে মিলিত ছিল , অতঃপর আমি সেগুলোকে পৃথক করে দিলাম। এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?(আল আম্বিয়া - ৩০)

আমরা কখনোই দাবি করি না যে কোরআন থেকে দেখে বিজ্ঞানীরা কোনকিছু আবিষ্কার করে। বরং বিজ্ঞানীদের আবিষ্কারের ফলেই মূলত আমরা জানতে পারি যে কোরআনে বিভিন্ন তত্ত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে। আর এজন্যই তো আল্লাহ কোরআনের যায়গায় যায়গায় বলেছেনঃ 'এতে রয়েছে জ্ঞানীলোকদের জন্য নিদর্শন।' নিদর্শনটা যে কী?সেটা বুঝে আসে এই জ্ঞানীলোকদের আবিষ্কারের ফলে। আর এটাই স্বাভাবিক। কেননা যেই স্রষ্টা বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছেন, তিনিই তো কোরঅানের লেখক।

Enjoy
Free
E-Books
on
Just Another Bangladeshi
By
Famous Writers, Scientists, and Philosophers 
Our Social Media
  • Facebook
  • Twitter
  • Pinterest
Our Partners

© 2023 by The Just Another Bangladeshi. Proudly created by Sen