দুর্নীতিকে আড়াল করার পদ্ধতির নাম ধর্ম

বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল এবং হুজুরদের বয়ানে সমকামিতা ( Homosexuality ) এর কারণে কেবলমাত্র লুত জাতির ধ্বংসের বর্ণনা অনেকবার শুনেছি । কিন্তু আরো কয়েকটি কারণে বিভিন্ন জাতি ধ্বংস হয়েছিল যাহা আমাদেরকে জানানো হয় না। নিম্নে সেগুলো উল্লেখ করা হলো:

১ - সুরা হুদের ৮৪,৮৫,৯৫ নম্বর আয়াতে বর্ণিত আছে 'মাদইয়ান জাতি' ধ্বংস হওয়ার ঘটনা । এ জাতি চুরি, রাহাজানি ও ধর্ষণের মত অপরাধের সাথে লিপ্ত ছিল। ওজনে কম দেওয়া ও লোক ঠকানোর মত কাজও তারা করত । তাই অগ্নিবৃষ্টি বর্ষণ করে তাদের ধ্বংস করা হয়েছে।

বর্তমান টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ,চুরি-ডাকাতি, ধর্ষণ, সন্ত্রাসী, কার্যকলাপ এবং লোক ঠকানো অহরহ ঘটছে ।

২- সুরা আল ফাজরের ৬ থেকে ১৪ এবং ১৭ থেকে ২০ নম্বর আয়াতগুলোতে বর্ণিত আছে 'আদ জাতির ধ্বংস হওয়ার বর্ণনা । এদের একটি শ্রনী পাহাড় কেটে মনোরম অট্টালিকা গড়ে তুলেছিল । এই শ্রনীর শ্রেণীর লোকেরা ছিল অহংকারী । শোষন, শ্রেণীবৈষম্য ও দুর্বলের উপর অত্যাচারের মত অপরাধের সাথে তারা জড়িত ছিল । ফলে খরা, দুর্ভিক্ষ ও কয়েক দিনের প্রবল ঝড়ে তাদের ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

অহংকার, শ্রেণীবৈষম্য, অত্যাচার নানাবিধ উপায়ে শোষন এসব বাংলাদেশের এখন নিত্যদিনের ঘটনা ।

৩ -সুরা বাকারার ৬৫ নম্বর আয়াতে বর্ণিত আছে 'আসহাবুত সাবাত' নামক আরেকটা জাতি ধ্বংস হওয়ার ঘটনা । আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তারা হয়েছিল স্বার্থবাদী মুনাফালোভী । ফলে তাদের সবাইকে বানর বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার দুই একদিন পর সবাই মারা গিয়েছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের জন্য মালামাল মজুদ করা সহ নানাবিদ পন্থা অবলম্বন করা হয় ।

৪- আল্লাহ বলেছিলেন, আমি তোমাদের মনোরঞ্জনের জন্য নারীদের সৃষ্টি করিয়াছি । কিন্তু তারা ছিল সমকামী । সমকামিতার কারণে লূত সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল । লুত সম্প্রদায় ধ্বংস হওয়া থেকে শিক্ষা নিয়ে সমকামিতার বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেওয়া হয় এবং সমকামীতার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করা হয় ।

বাংলাদেশের অনেক মাদ্রাসাতেই শিশু নির্যাতনের ঘটনা অহরহ করতে দেখা যায় । তাহলে এদের অপরাধ সমকামীদের চেয়ে অনেক বেশী । কারণ এরা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এটি করছেন । জেহাদ প্রথমে এদের বিরুদ্ধেও হতে হবে । দ্বিতীয়ত প্রকৃত সমকামীরা বলাৎকার করে অন্যের ক্ষতি করে না এবং এটি অতি ক্ষুদ্র একটি শ্রেনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ । সুতরাং এইরকম একটি ছোট বিষয়কে নিয়ে জিহাদ ঘোষণা করার কি কোনো সার্থকতা থাকতে পারে ?


কোরআনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমূহ ধামাচাপা দিয়ে একটি অপেক্ষাকৃত গুরুত্বহীন বিষয়কে নিয়ে জিহাদ ঘোষণা করা এক প্রকার ভন্ডামি । আজ পর্যন্ত দেখলাম না রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি ও জালিয়াতি, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি জুলুম-নির্যাতন, অনিয়ম ,ঘুষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে আলেম সম্প্রদায় সোচ্চার হয়ে মিছিল,প্রতিবাদ সমাবেশ, মানববন্ধন, ঘেরাও কর্মসূচি, অনশন কর্মসূচি, কঠোর হুঁশিয়ারি,আল্টিমেটাম ইত্যাদি কর্মসূচি পালন করেছে ।

কিন্তু চীন, কাশ্মীর, আফগানিস্তান, প্যালেস্টাইন সমস্যা এবং পৃথিবীর কোন রাষ্ট্রে, কোন ব্যক্তি ইসলাম নিয়ে কি মন্তব্য করল তার প্রতিবাদ করতে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মমিন,আলেম ওলামা রাস্তায় নেমে পড়ে । এমনকি কুমিল্লায় আহমদিয়া সম্প্রদায়ের এক বাচ্চার লাশ কবর থেকে উঠানোর জন্য মোল্লাদের খুব রাগান্বিত হয়ে মাইকিং করতে দেখা গেছে ।

এর কারণ কি ? এই প্রসঙ্গে কাল মার্কস বলেছিলেন, পুঁজিপতিরা ধর্মকে দুর্নীতির হাতিয়ার রূপে ব্যবহার করেন । দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠা জনগণের চিন্তাধারাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে শান্ত রাখার একটি পদ্ধতির নাম হলো ধর্ম । এসব ঘটনাবলী থেকে এটাই প্রমাণিত হয়, অতীত কাল থেকেই দুর্নীতিবাজদের সাথে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের একটি গোপন আঁতাত রয়েছে ।

Enjoy
Free
E-Books
on
Just Another Bangladeshi
By
Famous Writers, Scientists, and Philosophers 
Our Social Media
  • Facebook
  • Twitter
  • Pinterest
Our Partners

© 2023 by The Just Another Bangladeshi. Proudly created by Sen