তখন_দুপুর

পর

শু মৌলির জন্মদিন । এর জন্য তার ব্যস্ততার শেষ নেই।ক্রেপ পেপার আর ক্যান্ডেল আনা হয়ে গিয়েছে।আজ সকাল থেকে সে দু’বার তাগাদা দিয়ে গিয়েছে কেকের অর্ডার দেবার জন্য।জন্মদিনটা পরশু। সুতরাং পরশু সকালে অর্ডার দিলেই চলত। কিনতু তা চলবে না তার কারণ কে নাকি তার মাথায় ঢুকিয়েছে পরশু সকালে অর্ডার দিলে কেকটা সময় মতন পাওয়া যাবে না।

আমার এ বোনটা বেশ শান্ত আর লক্ষী।বাবা মায়ের ছোট সন্তানেরা সচরাচর জেদী আর আহ্লাদী হয় বলে যে ধারণা প্রচলিত রয়েছে,তা খুব সম্ভবত ঠিক নয়। কিংবা আমার ধারণা ভুলও হতে পারে। হয়ত সবখানে ওরকমই হয়।কেবল আমাদের এই মধ্যবিত্ত পরিবারে এসেই এর ব্যতিক্রম হয়েছে। হয়ত পেনশন ভোগী বাবার দিন দু’য়ের না কাটা সাদা খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি আর বড় ভায়ের বেকারত্ব দেখে মৌলির আহ্লাদীপনা লজ্বায় মুখ লুকিয়েছে। তবে একটা ব্যাপারে ও বেশ ভাগ্যবান,আর যাই হোক,ও অন্তত ওর জন্মতারিখটা জানে।যা কিনা আমরা অন্য ভাইবোনেরা জানি না। এটাকে আমরা স্বাভাবিক ভাবেই মেনে নিয়েছিলাম।কিনতু এই একটি মাত্র ব্যাপারে সে বাবার কাছে তার ছোট সন্তানসুলভ জেদ প্রকাশ করেছে। তার জেদের মুখে বাবা তাঁর সমুদয় পুরোনো জিনিসের স্টক ঘেঁটে প্রায় এক যুগ আগের চামড়ার মলাট দেওয়া একটি ডাইরী বের করেন।যার জুন মাসের সাত তারিখে দেখা যায় তিনি লিখেছেন,”আজ আমার একটি কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করিয়াছে। সকাল হইতেই প্রবল বৃষ্টি পড়িতেছিল।এই তুমুল বর্ষণের মাঝেই তাহার জন্ম। সুতরাং তাহার নাম বৃষ্টি বা বর্ষা রাখিব কিনা ভাবিতেছি।” মৌলির নামটা শেষ পর্যন্ত অবশ্য বাবা দিতে পারেন নি।নামটা দিয়েছিলাম আমি। মৌলি নামটি কেন যেন আমার ভীষণ ভাল লাগত।ঘুম ভেঙ্গেছে অনেক্ষণ।কিনতুুুু উঠছি না। কারণটা আলসেমি।কিনতু না এবার উঠতেই হয়।আমার বাবা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মতনই ভয়ংকর।জানালা দিয়ে দেখছি তিনি ভোরের বাজার সেরে ফেরার পথে গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে এক প্রবীণ সৌম্যকান্তি ভদ্রলোকের সঙ্গে আলাপ করছেন। তাঁরা কি নিয়ে আলাপ করছেন , এত দূর থেকে তা শুনতে না পেলেও অনুমান করতে পারছি। খুব সম্ভবত বাবা আমাকে তাঁর ছেলে বা জামাই এর অফিসে ঢুকিয়ে দেবার জন্য অনুরোধ করছেন । এখন বাবা বাসায় ফিরে আমাকে এই ভাবে যদি শুয়ে থাকতে দেখেন,তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা যে আমার মাথাতেই বেজে উঠবে সে ব্যাপারে আমার কোনই সন্দেহ নেই । ২ ———-- ঘুম ভেঙ্গে প্রথমেই বারান্দার এই আয়নাটার সামনে এসে দাঁড়াই ।অভ্যেসটা আজকের না,বহুদিনের পুরোনো। প্রথম যখন একটা ছেলে সৌন্দর্য সচেতন হয়ে উঠে সেই সুদূর কৈশোরের। আয়নাটার জায়গায় জায়গায় অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে পেস্টের দাগে। তবু আমি সেই ঘোলা পারদ চটে যাওয়া আয়নাটার দিকে তাকিয়ে কবে শেষ শেভ করেছি ,তার হিসেব করি।দেখতে আমি সুন্দর না হলেও একেবারে কুৎসিত বোধ হয় নই। শেভ টেভ করে মাঞ্জা মেরে বের হলে কলেজ ভার্সিটি গামী মেয়েরা চোরা চোখে চায়। কিন্তু ওরা জানে না ,ওদের এই মোহনীয় চোখের মুগ্ধ চাহনীর চেয়ে আমার কাছে অনেক বেশী কাম্য ,একটা ভদ্র ভাল বেতনের মাঝারী গোছের চাকরি। যার জন্য বাবা হাসিমুখে কথা বলেন না,মা দুধ ডিম খাবার উপদেশ দেন না। কবিগুরুর মত লিখতে টিখতে পারলে এত দিনে নিশ্চয় লিখে ফেলতাম,তোরা যে যা বলিস ভাই,আমার সোনার চাকরি চাই।

৩ ————- গেট দিয়ে বের হয়ে প্রথমেই গলির মোড়ের পান সিগারেটের দোকানটার দিকে তাকাই।দোকানটার মালিক এক বৃদ্ধ। সে আমার কাছে বেশ কিছু টাকা পায়। বুড়োটাকে দেখলেই আমার বুকটা ধ্বক করে উঠে। বেকার ছেলেরা বাবা মা ছাড়া আর যাদের এড়িয়ে চলতে চায় ,তাদের মধ্যে অন্যতম হল এইসব পাওনাদার পান সিগারেট ওয়ালা । আজ ও মাথা নীচু করে পান পাতা দুভাগ করার কাজে ব্যস্ত। আমাকে লক্ষ্য করছে না। আজ ওর পাশ দিয়ে বুক ফুলিয়ে মাথা উঁচু করে চলে যাওয়া যায়।

দিলকুশার যে অফিসটাতে আজ আমার ইন্টারভিউ ছিল, একগাদা সিঁড়ি ভেঙ্গে তার ওয়েটিং রুমে পৌঁছতেই দেখি আমার নাম ডাকা হচ্ছে।আর একটু হলে এটাও মিস হয়ে গিয়েছিল।বছর খানেক আগে এরকম একটা ইন্টারভিউ মিস করেছিলাম। সেটা ছিল কাতারের একটা চাকরির ইন্টারভিউ।সেটা মিস না করলে জীবন হয়ত অন্যরকম হয়ে যেত।পাওনাদার সিগারেটওয়ালা বুড়োকে দেখে আর পালিয়ে পালিয়ে বেড়াতে হত না।

একেবারে ডানদিকে বসা টাক মাথার ভদ্রলোকই প্রথম প্রশ্ন করলেন। “ইকনমিক্স তো ভাল সাবজেক্ট।তাছাড়া আপনার রেজাল্টও তো খারাপ না।তাহলে চাকরি পাচ্ছেন না কেন ?” ‘ এরকম ন্যাকা ন্যাকা প্রশ্ন শুনলে গা জ্বলে উঠে।মনে হয় মুখের উপর বলি ,আপনারা চাকরি দিচ্ছেন না বলে।একদল অপদার্থ মামাদের ভাগ্নে বলে ,যাদের কোনই ক্ষমতা নেই।কিন্ত মুখে কিছুই বলি না।কারণ এরা প্রথম থেকেই ভাল ব্যবহার করছে। এখানে একটা চাকরির ব্যবস্থা হলে হয়েও যেতে পারে। ইন্টারভিউ বোর্ডের একমাত্র মহিলা সদস্যা,যিনি এতক্ষণ চুপচাপ বসে আমাদের কথা শুনছিলেন,এবার তাঁকে নড়েচড়ে বসতে দেখা গেল।তিনি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বল্লেন

“আউট বই পড়ার অভ্যাস আছে কি?” “অবশ্যই।” “কোথাকার লেখা বেশী পড়েন?এপার বাংলার নাকি ওপাড়ের?” “দুদেশের লেখাই পড়ি। তবে এপাড়ের লেখাই বেশী পড়া হয়।” “আচ্ছা আপনি কি বলতে পারবেন ,কবি আসাদ চৌধুরীর শেষ কাব্য গ্রন্হ কি বেড়িয়েছে?” এ রকম প্রশ্ন শুনলে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। এরা কি বোঝে না,পয়সার অভাবে যে বাসার বৃদ্ধ বাবার পথ্যের যোগাড় হয় না,বোনকে ঈদে নতুন জামা দেবার সামর্থ হয় না,সে বাড়ির এক বেকার ছেলের নিউ মার্কেটের বই পাড়ায় গিয়ে আসাদ চৌধুরীর সর্বশেষ কাব্যগ্রন্হ কি বের হয়েছে,তার খোঁজ করা মানায় না।এদেশে সব কিছু বাড়ে।চালডালের দাম বাড়ে,রিক্সার ভাড়া বাড়ে,এমনকি বাড়ে গ্যাসের বিলও।শুধু এইসব উচ্চ পদস্হ আমলাদের বুদ্ধি বাড়ে না। জেমস ওয়াট এক সকালে নাস্তার টেবিলে বসে কেতলির নল দিয়ে বাষ্প বের হওয়া দেখছিলেন।তার খালা তাকে আর কাল ক্ষেপন না করে অবিলম্বে পড়তে যেতে বলেন। সেদিনের সেই সামান্য কাল ক্ষেপন পরবর্তীতে মানব জাতির কল্যাণে আসে। এর কয়েক বছর পর তিনি বাষ্পীয় ইন্জিন আবিষ্কার করেন।আমিও এক ছুটির দুপুরে ভাত ঘুম দেবার আগে শুয়ে শুয়ে পত্রিকার পাতা উল্টাচ্ছিলাম। সেখানে এক প্রকাশনা সংস্হা তাদের প্রকাশিত সব কাব্যগ্রন্হের তালিকা প্রকাশ করে।বাবা সেখানে এসে আমাকে কাল ক্ষেপন করার জন্য তিরষ্কার করবার আগেই আমি জানতে পারি আসাদ চৌধুরীর সর্বশেষ কাব্য গ্রন্হের নাম।আজ সেটি কাজে লেগে গেল। ইন্টারভিউ বোর্ডের একদম মাঝখানে মোটা ফ্রেমের চশমা পড়া যে ভদ্রলোক বসেছিলেন তিনি এবার এক অদ্ভুত প্রশ্ন করলেন যার জন্য আমি মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না। “H.M.V. বা HIS MASTER’S VOICE নামে যে রেকর্ড কম্পানিটা আছে,আপনি কি তার নাম শুনেছন?” “জ্বী।” “মনোগ্রামটা দেখেছেন কি?” “ঐ যে একটি কুকুর রেকর্ড প্লেয়ারের সামনে বসে রয়েছে সেটা তো?”

“আপনি ঠিকই ধরেছেন। আচ্ছা বলুন তো ঐ কুকুরটার লিংগ কি হবে? স্ত্রী নাকি পুরুষ? “

এই রকম একটি প্রশ্ন ইন্টারভিউ বোর্ডে কেউ করতে পারে এইটা আমার ধারণার বাইরে ছিল, তবুও আমি চিন্তা করে দেখলাম নামটিতে হিজ শব্দটি যখন রয়েছে তখন কুকুরের পুরুষ হবার সম্ভাবনাই বেশী।

“পুরুষ”

“আপনি ঠিকই ধরেছেন। এবার আপনি আসুন। “ “আমার চাকুরীটা কি হবে? “ “এখন কি করে বলবো? সবার ইন্টারভিউ শেষ হোক। আপনি বরন্চ পরশু একবার যোগাযোগ করুন। “ “পরশু কখন? “ “লান্চের পর পর।এই ধরেন দুটোর দিকে। সিঁড়ি দিয়ে উঠলে হাতের বাঁ দিকে যে উডেন চেম্বার রয়েছে, সেটাই আমার। “ ৪ ইন্টারভিউ দিয়ে খুব ফুরফুরে মেজাজে বের হয়ে এলাম। কেন যেন মনে হচ্ছে এবারের চাকরিটা হয়ে যাবে। আসলে অনেক তো কষ্ট করলাম, তার কিছু না কিছু ফল তো নিশ্চয়ই আমার পাওনা হয়ে রয়েছে জীবনের কাছে। মনটা খুশি হবার আরো একটি কারণ রয়েছে! আজকে বহু দিন পর নিশির সংগে দেখা হবার কথা আছে। মিডনাইট সান রেষ্টুরেন্টে। নিশি এমন একটি মেয়ে যাকে দেখলেই আমার মনটা এক অদ্ভুত আনন্দে ভরে উঠে। যদিও বেকারদের যা কখনোই থাকা উচিৎ না কিন্তু প্রায় প্রতিটি বেকারেরই একটি করে থাকে তা হলো একজন সুন্দরী প্রেমিকা।কলেজের গেটে ছেলেদের ভীড় জমানোর মত ভয়ংকর সুন্দরী একটি মেয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করে বসে রয়েছে,এর মাঝে আমি এক ধরনের থ্রিল অনুভব করি।আমি যে কারণে রিক্সা না নিয়ে পথটুকু দীর্ঘতর করি তার কারণ কিন্তু এটা নয় যে আমি আমার এই একান্ত অনুভূতি টুকু দীর্ঘ সময় ধরে উপভোগ করতে চাই! আসলে দিলকুশা থেকে জোনাকির মোড় পর্যন্ত যাবার রিক্সা ভাড়াই নেই আমার পকেটে। ৫ —— রেষ্টুরেন্টে ঢুকে দেখি নিশি একটি অন্ধকার কোন আলোকিত করে ৰসে রয়েছে। কে যে ওর নাম নিশি রেখেছিল কে জানে? তা সে যেই হোক, বড়ই অবিচার করা হয়েছে নিশির সাথে। কারণ ও ফর্সা, বেশ ফর্সা! আমাকে দেখে ওই প্রথম কথা বলে উঠল। “এত দেরী করলে কেন? আমি তো ভাবলাম আজ হয়তো আসবেই না!” “তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে? তুমি অপেক্ষা করে আছ,আর আমি আসব না,তা কি হয়?আজকে একটা চাকরির ইন্টারভিউ ছিল। “ “কেমন হয়েছে? “ “ভালোই!মনে হয় এবারেরটা হয়ে যাবে! “ “এত আত্মবিশ্বাস যে!” “আসলে আজকে সকালে সেভেন ও ক্লক ব্লেড দিয়ে শেভ করেছিতো ,তাই আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে। দেখ না টিভিতে এড দেয়, আত্মবিশ্বাসী পুরুষরা নাকি সেভেন ও ক্লক ব্লেড দিয়ে শেভ করে। “ “তুমি এখনো ফাজলামি করে চলেছ দীপু! জানো যে কোন দিন আমার বিয়ে ঠিক হয়ে যেতে পারে!সেই ভয়ংকর দিনটি সত্যি যে দিন এসে হাজির হবে, আমার খুবই দেখার ইচ্ছা সেই দিন তোমার সেন্স অফ হিউমার কোথায় যায়? “ আমি আর কথা না বাড়িয়ে সুপের বাটিটা নিজের দিকে টেনে নেই। ওর সতর্ক বাণী আমার মনে কোন প্রভাবই ফেলতে পারে না!কারণ এই কথাগুলো দিয়েই গত দু বছর ধরে ও কথা শুরু করে! মৌলির কেকের অর্ডার দিয়ে বাসায় পৌঁছতে পৌঁছতে সন্ধ্যা নেমে গেল।আরেকটু হলে বৃষ্টিতে আটকে যেতাম। টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ কেমন যেন একটা ঘুম পাড়ানিয়া পরিবেশের সৃষ্টি করে। আমার দুটো চোখ ভারী হয়ে আসছে ঘুমে। এই রকম একটি বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যা না ঘুমিয়ে কাটানোর পেছনে আমি কোন যুক্তিই দাঁড় করাতে পারলাম না!এতো যে প্রতিভাবান কবিগুরু, তিনি পর্যন্ত ঘুমের ঘোরে মগ্ন ছিলেন যখন বৃষ্টি নেমেছিল!আর আমি তো কোন ছার!বাবা বিকেলের হাঁটা শেষে বাসায় ফিরে আমায় এরকম অলস ভাবে শুয়ে থাকতে দেখলে আমার পরিণতি কি হতে পারে সেই দুশ্চিন্তা মাথা থেকে দূর করে আমি কাঁথাটা টেনে নিয়ে গুটিশুটি দিয়ে শুয়ে পড়ি! ৬ ____

ভদ্রলোকের কথায় আমি হতবাক হয়ে গেলাম। চাকুরীটা তিনি আমাকে দিতে পারছেন না।কাল সন্ধ্যায় পাওয়া সচিবালয়ের টেলিফোনের কারণেই নাকি আমার কপাল পুড়েছে।তাঁর অবশ্য আমাকেই নেবার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু একজন সচিব ফোন করলে নাকি তাঁর কথা শুনতে হয়! কপাল পুড়েছে তাতে দুঃখ নেই। কিন্তু আজকে নিশিকে গিয়ে আবারো একটি পরাজয়ের কথা বলতে হবে ভাবতেই মনটা ছোট হয়ে যাচ্ছে। ৭ ———— নিশি আজও সেই কোনার টেবিলটিতেই বসে রয়েছে। কিন্তু সেদিনের সেই মিষ্টি মেয়েটির সাথে আজকের মেয়েটির কোথায় যেন একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। অন্য দিনের মত আজ ও কথা চাকরি দিয়ে শুরু করল না। “দীপু কাল সন্ধ্যায় আমার এনগেজমেন্ট হয়ে গেল! আমি এই ভয়টাই এতদিন পাচ্ছিলাম। প্রতিবার বিয়ের কথা আসলে কোন না কোন ভাবে কাটিয়ে দেই। কিন্তু কাল সন্ধ্যায় আমাকে দেখতে আসা ভদ্রমহিলার জন্য চা নিয়ে ঘরে ঢুকতেই উনি আমার আংগুলে আংটি পড়িয়ে দিলেন। পরে জানতে পারি ইনিই ছেলের মা।ছেলে অবশ্য দেশে থাকে না।বস্টনে পি এইচ ডি করছে। গ্রীষ্মের ছুটিতে দেশে এসেছে বিয়ে করতে। “ আমি তখন সূক্ষ্ম একটা ঈর্ষাবোধে ভুগি। পাশের বাসায় ইলেকট্রিসিটি আছে, অথচ নিজের বাসায় নেই, এর মাঝে মানুষ যেমন ঈর্ষা অনুভব করে, অনেকটা সেই রকম। ও অবশ্য তখনো কথা বলে চলেছে। “আচ্ছা দীপু গত শীতে আমরা বোটানিকাল গার্ডেনে যে কিছু ছবি তুলেছিলাম, সে গুলোর কি হবে? “ “তুমি চাইলে সে গুলো তোমায় দিয়ে দিব। “ আমার কথায় ওকে খুবই আশ্বস্ত মনে হল। কাল সারা রাত ওর হয়তো ভালো ঘুম হয়নি ছবি গুলোর কথা ভেবে। কিন্তু ও কি ভেবেছিল?কি করতাম আমি সেই ছবিগুলো দিয়ে? ও আমাকে ছেড়ে যাচ্ছে তাতে আমি যতটা না কষ্ট পেলাম, তার চাইতে অনেক বেশী কষ্ট পেলাম এই ভেবে যে ওর ধারণা আমি ওর ক্ষতি করতে পারি। রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে দেখি ঈশান কোনে বেশ কাল করে মেঘ জমেছে।মেঘ জমেছে এই মনটাতেও! সব দুঃখ কষ্ট ধুয়ে মুছে যায় এমন একটি বর্ষণের এখন বড়ই প্রয়োজন।

Enjoy
Free
E-Books
on
Just Another Bangladeshi
By
Famous Writers, Scientists, and Philosophers 
Our Social Media
  • Facebook
  • Twitter
  • Pinterest
Our Partners

© 2023 by The Just Another Bangladeshi. Proudly created by Sen