জাত বাওন বনাম ব্রহ্মজ্ঞানী ব্রাহ্মণ.



বর্তমানে যারা নিজেদের জন্মসূত্রে ব্রাহ্মণ দাবি করেন; তাদের জন্য সম্পূর্ণভাবে তাদের দায়ী করা চলে না। জন্মের থেকেই যা শেখানো হয়েছে তারা সেটাই জেনে এসেছেন-মেনে এসেছেন।




এক্ষেত্রে তারা কিছুটা সিস্টেমের স্বীকার + বাকিটা তাদের নিজেদের বিবেক-বিবেচনার সদ্ব্যবহার করতে ব্যর্থ হবার ফল।


কখনোবা অন্ধ বিশ্বাসের কবলে পড়ে ভন্ড গুরুদেব নামক পেট পূজক বাবাদের দ্বারা ব্রেইন ওয়াশের স্বীকার হয়ে জন্মগত ভাবেই বর্ণ নির্ধারণ করে আসছেন।


এক্ষেত্রে তারা জন্মান্তর এবং কর্মফলের উদাহরণ টেনে বলেন -পূর্বজন্মের কর্মের ফলেই তারা ব্রাহ্মণ (বর্তমানে জাত বাওন) পরিবারে জন্ম নিয়েছেন।


কিন্তু তারা এই বাস্তবতাটা উপলব্ধি করতে পারেন না যে,


পূর্বজন্মে কেউ ডাক্তারের ঘরে জন্ম নিলেই এই জন্মেও ডাক্তারের ঘরেই জন্ম নিবেন! কিংবা কেবল ডাক্তারের ঘরেই ডাক্তার সন্তান জন্ম নেবে! কিংবা ডাক্তারের ঘরে জন্ম নিয়ে সার্টিফিকেট ছাড়াই মাতৃগর্ভ থেকে স্টেথোস্কোপ গলায় পেচিয়ে ডাক্তার হয়ে বের হবেন, এমনটা জন্মান্তর বা কর্মফল কখনো বলে বুঝায় না।


ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার যেমন যেকোন পরিবারের সন্তানই হতে পারে, তেমনি ডাক্তার পরিবারের সন্তান ডাক্তার হবে এমন খুবই কম হয়। বরং ডাক্তার না হয়ে অন্য কোন পেশা কিংবা চোর গুন্ডা বদমাশইও হয়।


ডিগ্রি অর্জন ব্যতীত কেউ যদি নিজের নামের আগে Eng. বা Dr. ব্যবহার করে, আমরা তাকে বলি ভুয়া ডাক্তার বা ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার ইত্যাদি..


এক্ষেত্রে তাদের অর্জন ভুয়া ব্রাহ্মণ পদবী + অজ্ঞতার ফলে অহংকারের পাহাড়।


শাস্ত্রজ্ঞ ব্রহ্মজ্ঞানী ব্যক্তিকে যদি ব্রাহ্মণ বলে সম্মোধন করাই ধর্ম সঙ্গত হয়; আবার পৈতার প ও না বুঝে কেবল গুটিসুতা + পদবীধারী ব্যক্তিকেও যদি ব্রাহ্মণ বলে সম্মোধন করি সেটা কি ব্রাহ্মণ তথা ব্রহ্মজ্ঞানীদের অসম্মান নয়!?


এই দুইয়ের পার্থক্য বুঝাতে যারা জন্মগত ভাবে নিজেদের ব্রাহ্মণ দাবি করে তাদের জাত বাওন, আর প্রকৃত শাস্ত্রজ্ঞানী তথা ব্রহ্মজ্ঞানীদের ব্রাহ্মণ সম্মোধনের প্রস্তাব রাখছি।


কারন বর্তমানে বাওন পরিচয় শুধুমাত্র পিতৃপ্রদত্ত পদবী এবং কয়েক প্যাচ সাদা গুটিসুতায়ই সীমাবদ্ধ।


অবস্থার পরিবর্তন চাইলে ঐ দুটো বিষয়ই তাদের সীমাবদ্ধতার কথা মনে করিয়ে দিতে হবে।


এটা কোন প্রকার ঘৃনা থেকে নয়, বরং সনাতন সমাজের একতার স্বার্থে এখন থেকে কেউ নামের শেষে চক্রবর্তী/শর্মা/ভট্টাচার্য ইত্যাদি বলে পরিচয় দিলে সাথে সাথে তাকে জিজ্ঞেস করুন আপনি কি জাত বাওন!? নাকি প্রকৃত ব্রাহ্মণ!?


আসা করি এমন সম্মোধনে চক্ষুলজ্জার ভয়ে হলেও তারা নিজেদের সুপিরিয়র ভাবাটা বন্ধ করবে, ফলে জাতিভেদ কিছুটা হলেও কমবে।


বর্ণপ্রথা সনাতন সমাজের অভিশাপ। বাওন-শুদ্দুর সহ বর্ণ বৈষম্যের অবসান হোক।


জাত বাওনকে ব্রাহ্মণ সম্মোধন করে ব্রহ্মজ্ঞানীর অপমান অসম্মান আর নয়।



0 comments
Enjoy
Free
E-Books
on
Just Another Bangladeshi
By
Famous Writers, Scientists, and Philosophers 
click here.gif
click here.gif

Click Here to Get  E-Books

lgbt-bangladesh.png