জয় শ্রী কৃষ্ণ

আমার ছোটবেলার বন্ধুর বাসা মফস্সল শহরে সুনামগঞ্জ থেকে একটু দূরে। আশেপাশে বাড়িঘর থাকলে ও ওদের বাড়িটা ছিল একদম জঙ্গলের মধ্যেই !

আশেপাশের বাড়ি গুলোর সাথে ও ছিলো জঙ্গল / বাঁশ বাগান ! কিন্তু বাড়ির পাশের রাস্তা গুলো ছিল পাকা!

(এখানে একটা কথা বলে রাখি,আশেপাশে বাড়ি থাকলে ও অনেক পরে পরে একেকটা বাড়ি ছিল...কারন একেক জনের বাড়ির সিমানা অনেক বড় হওয়াতে বাড়িঘর কম আর জঙ্গল বেশি ছিল। যার জন্য একটু বিকেল হলেই মনে হত যে সন্ধ্যা হয়ে গেছে ) তখন ঐ এলাকায় মুসলিম পরিবার অনেক কম ছিল। আমরা সহ ১০ জন হবো হয়তোবা ! তা ও অনেক দূরে দূরে । হিন্দু পরিবার ছিল অনেক বেশি। যাইহোক এখন আসি মূল গল্পে: ছোটবেলা কোনো সমস্যা হতো না আমাদের বাড়িতে । আমি যখন হাই স্কুলে পড়ি তখন থেকে একটু সমস্যা শুরু হয় ! আমার আম্মু সবাইকে ফ্রি তে আরবি শিখাতো । গ্রামের বাচ্চারা , তাদের আম্মুরা, মুরুব্বিরা (মহিলা) সবাই কোরান / কায়দা শিখতে আসতো! প্রতি সপ্তাহে তাদের বাড়িতে তালিম হত। (মানে ইসলামিক আলোচনা হত ) তার আম্মুর এই কাজ গুলো ভালো লাগতো। ঐসময়কার দিনগুলিতে আমার বন্ধুর বাবাকে প্রায় সময়ই বোবা তে ধরতো । আগেও হতো এমন কিন্তু তখন একদম বলতে গেলে প্রতিদিনই বোবাতে ধরতো বাবাকে । (আমার বাবাও যথেষ্ট ধার্মিক ছিলেন, ্মন্ত্র পরে ঘুমাতেন...তবুও এমন হতো কিছুদিন পরে ওর আম্মু কেও বোবাতে ধরলো একদিন । তবে বাবাকে খুব বাজে ভাবে ধরতো । অনেক জোরে জোরে গোঙ্গাতো(শব্দ করতো ) । এত জোরে গোঙ্গাতো যে পাশের ঘরে থেকে আমার ঘুম ভেঙ্গে যেত। আর ঘরে বাতাস /ফ্যান থাকা সত্বে ও বাবা খুব ঘেমে যেত । আর এর মধ্যে আবার তাদেরর বাড়ির ছাদ টিনের হওয়াতে প্রায়ই আওয়াজ শুনতাম যে কেউ হাটতেছে। খুব ভয় পেতাম...তার আম্মু আর সে সূরা (সূরা নাস) পরে ফু দিলেই আশ্চর্য ভাবে সাথে সাথে থেমে যেত! মানে সব সমস্যা এক সাথে শুরু হতে লাগলো। (আমি তখন হাই স্কুলে পরলেও এতটা বুঝতাম না যে বোবা কি/ কেন এমন হয় । এতটুকু বুঝতাম যে খারাপ জিনের / শয়তানের কাজ। তাই সব সময় সূরা নাস পরতাম। আয়াতুল কুরসি মুখস্ত হতোনা কেন জানি) ঐদিন তার আম্মু আমাকে এবং তার বাবাকে স্ট্রিক্টলি বলে দিছে যে আমরা যে যখনই বাহির থেকে ঘরে ঢুকবো ... সাথে সাথে যেন "আউযুবিল্লাহিমিনাশ-শাইতনির রযিম,বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম" পরে ঘরে ঢুকি । কিন্তু তাতেও কোন কাজ হচ্ছিল না,

একদিন অদের পাসের বাসার এক হিন্দু দিদি কথার ছলে বের হয়ে আসে এই সব ঘটনার কথা, তখন সেই দিদি বললেন, এই ধরনের প্রব্লেম তারাও ভোগ করেছেন এবং এর থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় হছে জয় শ্রী কৃষ্ণ বলে বলে ঘরে প্রবেশ করা আমি একদম ছোট বেলা থেকেই-বাসায় এসে/ বাহিরে যাওয়ার সময় সালাম দিতাম। সেই সাথে জয় শ্রী কৃষ্ণ ও যোগ হল। যাইহোক ....এইটা একদম একটা নিয়ম তৈরি করে নিছিলাম আমরা । আর এই ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট সতর্ক ছিলাম । যেমন আমি স্কুল থেকে বিকালে বাসায় আসলে আম্মু আমাকে মনে করায় দিতো "জয় শ্রী কৃষ্ণ" বলার জন্য। আবার রাতে তার বাবা আসলে বলতাম "জয় শ্রী কৃষ্ণ"বলা! "জয় শ্রী কৃষ্ণ" বলে তখন অন্যরকম একটা মনের শক্তি আর শান্তি পেতাম। মানে আমরা বুঝতে পারতাম যে এই আমলের জন্য ঘরে শয়তান আসতে পারতোনা। এভাবে মাস-বছর গেল.... এই ভাবেই আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছিলাম । এবং তখন থেকে অনেকদিন পর্যন্ত আর কেউ ভয় পেতাম না রাতে । আর তার বাবা-আম্মু কাউকেই কিছুদিন এসব সমস্যার সম্মুখ্যিন হতে হয়নি। আমরা (বিশেষ করে আমি) বলতে গেলে এই ব্যপারটা ভুলেই গেছিলাম !

Enjoy
Free
E-Books
on
Just Another Bangladeshi
By
Famous Writers, Scientists, and Philosophers 
Our Social Media
  • Facebook
  • Twitter
  • Pinterest
Our Partners

© 2023 by The Just Another Bangladeshi. Proudly created by Sen