কুরআনে সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব?



আধুনিক ইসলামিস্টরা কুরআনের বৈজ্ঞানিক মিরাকলের নামে যেসব অপপ্রচার করেন তার মধ্যে সহজ সরল ধর্মান্ধ মুসলিমদের মধ্যে জনপ্রিয় একটি অপপ্রচার হচ্ছে, “কুরআনের আয়াত ৫১:৪৭ অনুযায়ী, আল্লাহ্ মহাবিশ্বকে সম্প্রসারণ করেন”।

এবার আসুন সত্য/মিথ্যা যাচাই করে দেখি।

প্রথমে যে আয়াতটিকে কেন্দ্র করে কথিত বৈজ্ঞানিক মিরাকলের দাবি সেই আয়াতটি তুলে ধরছি,

51:47

وَ السَّمَآءَ بَنَیۡنٰہَا بِاَیۡىدٍ وَّ اِنَّا لَمُوۡسِعُوۡنَ ﴿۴۷﴾

English – Sahih International

And the heaven We constructed with strength, and indeed, We are [its] expander.

Bengali – Bayaan Foundation

আর আমি হাতসমূহ দ্বারা আকাশ নির্মাণ করেছি এবং নিশ্চয় আমি শক্তিশালী।

Bengali – Mujibur Rahman

আমি আকাশ নির্মাণ করেছি আমার ক্ষমতা বলে এবং আমি অবশ্যই মহাসম্প্রসারণকারী।

আসুন, প্রখ্যাত ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তাফসীরকারক ইবনে কাসিরের তাফসীর দেখি,

আল্লাহ তা’আলা বলেন যে, তিনি আকাশকে স্বীয় ক্ষমতাবলে সৃষ্টি করেছেন এবং ওটাকে তিনি সুরক্ষিত, সুউচ্চ ও সম্প্রসারিত করেছেন। অবশ্যই তিনি মহাসম্প্রসারণকারী। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ), হযরত মুজাহিদ (রঃ), হযরত কাতাদা (রঃ), হযরত সাওরী (রঃ) এবং আরো বহু তাফসীরকার একথাই বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ আমি আকাশকে স্বীয় শক্তি বলে সৃষ্টি করেছি। আমি মহাসম্প্রসারণকারী। আমি ওর প্রান্তকে প্রশস্ত করেছি, বিনা স্তম্ভে ওকে দাঁড় করে রেখেছি এবং প্রতিষ্ঠিত করেছি। কুরআন ৫১:৪৭ তাফসীর ইবনে কাসির

এবার আসুন, তাফসীর আবু বকর জাকারিয়া দেখি,

[১] أيْيد শব্দের অর্থ শক্তি ও সামৰ্থ্য। এ স্থলে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু, মুজাহিদ, কাতাদাহ ও সাওরী রাহে মাহুমুল্লাহ এ তাফসীরই করেছেন। কারণ, এখানে أيد শব্দটি يَدٌ এর বহুবচন নয়। যদি শব্দটি يد এর বহুবচন হতো তবে তার বহুবচন হতো, أيديَ । বরং أيد শব্দটির প্রতিটি বর্ণ মূল শব্দ। যার অর্থই হলো শক্তি। অন্য আয়াতে এ শব্দ থেকে বলা হয়েছে, وَاَيَّدُنٰهُ بِرُوْحِ الْقُدُسِ “আর আমরা তাকে রুহুল কুদ্দুস বা জিবরালের মাধ্যমে শক্তি যুগিয়েছি”। [সূরা আল-বাকারাহ: ৮৭, ২৫৩] সুতরাং কেউ যেন এটা না ভাবে যে, এখানে أيد শব্দটি يد এর বহুবচন [দেখুন, আদওয়াউল বায়ান]। [২] মূল আয়াতাংশ مُوْسِعُوْنَ অর্থ ক্ষমতা ও শক্তির অধিকারী এবং প্রশস্তকারী উভয়টিই হতে পারে। তাছাড়া مُوْسِعُوْنَ শব্দের অন্য আরেকটি অর্থও কোন কোন মুফাসসির থেকে বর্ণিত আছে, তা হলো রিযিক সম্প্রসারণকারী। অর্থাৎ আল্লাহ তা’আলা বান্দাদের রিযিকে প্রশস্ততা প্রদানকারী। [দেখুন, কুরতুবী] তবে ইবন কাসীর প্রশস্তকারী অর্থ গ্ৰহণ করেছেন। তিনি অর্থ করেছেন, “আমরা আকাশের প্রান্তদেশের সম্প্রসারণ করেছি এবং একে বিনা খুঁটিতে উপরে উঠিয়েছি, অবশেষে তা তার স্থানে অবস্থান করছে।” [ইবন কাসীর]কুরআন ৫১:৪৭ তাফসীর আবু বকর জাকারিয়া

আলোচ্য আয়াতটি থেকে এরকম কোনো তথ্যের ইংগিত পাওয়া যায় না যে, ‘মহাবিশ্ব প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত হয়ে চলছে’। আয়াতটিতে মহাবিশ্ব নয়, বরং ‘আকাশ’ এর কথা বলা হয়েছে। আয়াতটি প্রকৃতপক্ষে প্রকাশ করছে, আল্লাহ্ আমাদের মাথার উপরে থাকা ছাদ-স্বরূপ আকাশকে নির্মাণ করেছেন এবং তা সম্প্রসারিত করেছেন। আকাশ বলতে আমরা যা বুঝি, মহাবিশ্ব বলতে আমরা তা বুঝি না। পুরো মহাবিশ্ব বলতে আমরা যা বুঝি তাকে আমরা আকাশ বলে প্রকাশ করি না। যারা দাবি করেছেন, কুরআন ১৪০০ বছর আগেই সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ইংগিত দিয়েছে, তারা মূলত ‘আকাশ’ এর জায়গায় পুরো ‘মহাবিশ্ব’ বসিয়েছেন।

সবচেয়ে বড় কথা, আয়াতটিতে যদি আকাশ নয়, বরং মহাবিশ্বের কথাই বলা হয়ে থাকে, তাহলেও ইসলামিস্টদের কথিত বৈজ্ঞানিক মিরাকলের দাবিটি সত্য নয়। কারণ আয়াতটি এমন কিছুই বলে না যা ইংগিত দেয় যে, ‘মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল’। আয়াতটি আমাদের ‘অতীতে ঘটে যাওয়া’ একটি ঘটনার কথা জানায়, ‘বর্তমানে চলছে’ এমন কোনো ঘটনার কথা নয়। আয়াতটি বলে না যে, ‘আল্লাহ্ প্রতিনিয়ত মহাবিশ্ব সম্প্রসারণ করেন বা করে চলেছেন’।


0 comments
Enjoy
Free
E-Books
on
Just Another Bangladeshi
By
Famous Writers, Scientists, and Philosophers 
click here.gif
click here.gif

Click Here to Get  E-Books

lgbt-bangladesh.png