ইসলামীকরণ ও সংখ্যাতত্ত্ব

কোনো দেশের জনসংখ্যার বিন্যাসে যখন শতকরা 16 % হয়ে যায়, তখন সেই দেশের ইসলামিকরণ রোধ করা প্রায় অসম্ভব





শিক্ষিত বাঙ্গালি মাত্রই বিশ্ববিশ্রুত 'হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়' সম্পর্কে অত্যন্ত উচ্চ ধারণা পোষণ করেন ।

যথার্থই হার্ভার্ড আধুনিক পৃথিবীর বহুবিধ সমস্যা সম্পর্কে গহন অনুসন্ধান ও গবেষণা করে চলেছে । পৃথিবীব্যাপী ইসলামিকরণ সম্পর্কিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে উঠে এসেছে, যা সকলের জানা অত্যন্ত প্রয়োজন ।

গত 22 জুন, 2019 ঐস্লামিক বিশেষজ্ঞ Nicoletta Incze হাঙ্গেরির জাতীয় টিভিতে এক ভাষণে যে তথ্য পেশ করেছেন, তা এখানে বঙ্গানুবাদের মাধ্যমে পাঠকের সামনে পরিবেশনের প্রয়াস করা হয়েছে ।

Incze বলছেন, বর্তমান সময়ের বহু ইসলামিক স্টেট আদতে খ্রীষ্ট মতাবলম্বী দেশ ছিল কিছুদিন আগে পর্যন্ত । উদাহরণ স্বরূপ, টার্কি, ঈজিপ্ট, সিরিয়া, এই দেশগুলি আদতে খ্রিস্টান দেশ হিসাবেই পৃথিবীতে সুপরিচিত ছিল ।

অন্য কিছু দেশে ইসলাম ভিন্ন ধর্মের ওপর নিজ ধর্ম সংস্কৃতি জোর করে চাপিয়ে দিয়েছে, আমূল পরিবর্তন করে আজ সেগুলিকে পূর্ণ রূপেন ইসলামি দেশ করে তুলেছে, উদাহরণ স্বরূপ, পাকিস্তান আদতে ছিল হিন্দু ভূমি, আফগানিস্তান (গান্ধার) ছিল বৌদ্ধ মতাবলম্বী, স্মরণ করুন, বামিয়ান বুদ্ধ মূর্তি যুগলের কথা, ধৃতরাষ্ট্র পত্নী গান্ধারীর কথা, ইরান যা ছিল জুরাষ্ট্রিয়ান, আজ পৃথিবী তাকে ইসলামী দেশ হিসাবেই চেনে ।

Incze এর মতানুসারে, কোনো দেশের জনসংখ্যার বিন্যাসে যখন শতকরা 16 % হয়ে যায়, তখন সেই দেশের ইসলামিকরণ রোধ করা প্রায় অসম্ভব । পরবর্তী 100 থেকে 150 বছরে সেই দেশ সম্পূর্ণভাবে ইসলামিক হয়ে যেতে বাধ্য ।

ডক্টর পিটার হ্যামন্ড-এর লেখা বই 'Slavery, Terrorism and Islam'-তে বলেছে,

"ইসলাম শুধুমাত্র একটি ধর্ম নয়, কোনো উপাসনা পদ্ধতিও নয়, এর পূর্ণ বিকাশে, এটি একটি 100 % ভাগ সম্পূর্ণ জীবনশৈলী, system of life.

ইসলামের নিজস্ব প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয়, আইনি, রাজনৈতিক, আর্থিক, সামাজিক এবং সামরিক অনুষঙ্গ রয়েছে ।"

পৃথিবীর সমস্ত উদার, মুক্ত ও জনগণতান্ত্রিক সমাজ, ইসলামী আগ্রাসনের বিশেষ শিকার । হ্যামন্ড বলছেন, "যখন রাজনৈতিকরূপে আদর্শ, সহিষ্ণু, সাংস্কৃতিক ও ভাষিক বিবিধতায় সমৃদ্ধ সমাজ, প্রাথমিক ভাবে মুসলিমদের ধার্মিক অধিকারের স্বীকৃতি দেয়, ধীরে ধীরে অন্যান্য অনুষঙ্গ সেই সহিষ্ণু সমাজকে গ্রাস করতে শুরু করে ।

এর আগ্রসনের একটা বিশেষ (পরিকল্পিত) ধরন আছে ।

যতদিন মুসলিম জনসংখ্যা কোনো দেশের মোট জনসংখ্যার 2 % এর নিচে থাকে, ততদিন তারা মোটামুটি শান্তশিষ্ট সংখ্যালঘু সেজে দেশের অন্যান্য নাগরিকদের জন্য কোনরকম 'আপদ / সঙ্কট' সৃষ্টি না করে বসবাস করে । যেমন ধরুন এখনকার :

ইউএসএ -- 0.6%

অস্ট্রেলিয়া -- 1.5%

কানাডা -- 1.9%

চায়না -- 1.8%

ইটালি -- 1.5%

নরওয়ে -- 1.8%

একবার মুসলিম জনসংখ্যা 2% থেকে 5% পৌঁছনো মাত্র তারা সেদেশের তুলনামূলক ভাবে সংখ্যালঘু (মূলনিবাসী) ভূমিপুত্র, অসন্তুষ্ট জনগোষ্ঠী আর সড়কছাপ মাওয়ালীদের মধ্যে থেকে ধর্মান্তরণের মাধ্যমে দলভারি করা শুরু করে । যেমন চলছে এখন ::

ডেনমার্ক -- 2%

জার্মানি -- 3.7%

ইউনাইটেড কিংডম -- 2.7%

স্পেন -- 4%

থাইল্যান্ড -- 4.6%

ডক্টর হ্যামন্ড বলছেন, একবার মোট জনসংখ্যার 5% হয়ে উঠলেই তারা নানাভাবে প্রভাব আর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে, অন্যদের ওপর । যেমন, বাজারে ইসলামী মতে গ্রাহ্য 'হালাল' মার্কা খাদ্যসামগ্রী রাখার জন্য প্রশাসনের কাছে চাপাচাপি করবে । মলে, দোকানের তাকে 'হালাল ব্র্যান্ড (সার্টিফায়েড)' খাবার-দাবার রাখতে চাপ সৃষ্টি করবে, প্রয়োজনে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দেবে ।

ঠিক এমনটাই ঘটছে এখন ::

ফ্রান্সে -- 8%

ফিলিপিন্সে -- 5%

স্যুইডেনে -- 5%

স্যুইৎজারল্যান্ডে -- 4.3%

নেদারল্যান্ডসে -- 5.5%

ত্রিনিদাদ তোবাগো -- 5.8%

এরপরই তারা সেই দেশের মধ্যেই নিজেদের সম্প্রদায়ের (মুসলিম অঞ্চলে) ওপর (ইসলামিক) শরিয়া আইন প্রচলিত করার জন্য সেদেশের সরকারের কাছে দাবি জানাতে শুরু করে ।


জনসংখ্যার 10% পৌঁছনো মাত্রই তারা প্রাথমিক ভাবে নিজেদের ধর্মাবলম্বীদের নানান অসুবিধার কথা তুলে সেদেশের আইন শৃঙ্খলা ভাঙ্গা শুরু করে । ডক্টর হ্যামন্ড বলছেন, "ঠিক এই ঘটনাই ঘটছে বর্তমানে প্যারিসের রাস্তাঘাটে, আমরা ইতিমধ্যেই গাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনা দেখছি । যেকোনো অমুসলিম কার্যকলাপই মুসলিমদের রোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়.......(পশ্চিমবঙ্গেও ঠাকুর বিসর্জন, সরস্বতী পূজা, জন্মাষ্টমী পালন, শাঁখ বাজানো, দূর্গোৎসব, অমুসলিম, বিশেষতঃ হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান (উৎসব নয়) ঘিরে নানা আছিলায় বাধাবিঘ্ন সৃষ্টি মানুষ প্রত্যক্ষ করছেন)...............এবং সেই রোষ থেকে হুঁশিয়ারি, তর্জন-গর্জন, হিংস্র প্রদর্শন, সামুদায়িক গণআন্দোলন (ভারতেও CAA/NRC ঘিরে সদ্য প্রত্যক্ষদৃষ্ট) ছড়িয়ে পড়ছে...

....যেমন ঘটছে আমস্টারডামে । ধর্মীয় প্রফেটের ব্যঙ্গচিত্র, ধর্ম সম্পর্কিত সিনেমা" ইত্যাদি উপলক্ষ্যে নিত্যদিনের গন্ডগোল হচ্ছে ।

যেমন ::

গায়ানা -- 10%

ভারত -- 13.4%

ইজরায়েল --16%

কেনিয়া -- 10%

রাশিয়া -- 15%

20%-এ পৌঁছে হিংস্র আন্দোলনের ঘটনায় ক্রমাগত বৃদ্ধি ঘটে । 20% ছাড়াতেই ভয়ংকর দাঙ্গা, জেহাদি কার্য্যকলাপ, বিক্ষিপ্ত খুন-জখম-ধর্ষণ, ধর্মস্থলের পবিত্রতা নষ্ট করা, অগ্নিসংযোগ প্রাত্যহিক জীবনের ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন হয়ে ওঠে ।

উদাহরণ -- ইথিওপিয়া - 32.8%

জনসংখ্যার 40% এ গিয়ে দেশের মূলনিবাসী জনগণের অভিজ্ঞতা হবে, গণহত্যা, লাগাতার রক্তক্ষয়ী সন্ত্রাস, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সংঘাত, গোষ্ঠী কোন্দল নয়, সামুদায়িক যুদ্ধ, যেমন চলছে :

বসনিয়া -- মুসলিম 40%

চাড -- মুসলিম 53.1 %

লেবানন - মুসলিম 59.7%

60% এ পৌঁছনোর পরবর্তী পদক্ষেপ হলো অমুসলিম অবিশ্বাসী 'কাফের'-দের খতম অভিযান শুরু হবে, শুরু হয় 'এথনিক ক্লিনজিং', গণহারে খতম অভিযান, চূড়ান্ত উৎপীড়ন, জিজিয়া ট্যাক্স, মেয়েদের শ্লীলতাহানি, জোর করে ধর্মান্তরণ, বিয়ে করা ::

রোজ ঘটছে :

আলবানিয়া -- 70%

মালয়েশিয়া -- 60.4%

কাতার -- 77.5%

সূদান -- 70%

যখন মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে অমুসলিম জনগণের মুখোমুখি হতে হবে প্রাত্যহিক ধমকি, জেহাদ, রাষ্ট্র মদতে গণহত্যা, কারণ অবিশ্বাসী কাফেরদের উৎখাত করে গড়ে তুলতে হবে 100% মুসলিম জনসংখ্যাবহুল পূর্ণ ইসলামী রাষ্ট্র....যার বাস্তবায়ন দেখা গেছে :

বাংলাদেশ - মুসলিম 83%

ঈজিপ্ট - মুসলিম 90%

গাজা - মুসলিম 98.7%

ইন্দোনেশিয়া - মুসলিম 86.1%

ইরান - মুসলিম 98%

ইরাক - মুসলিম 97%

জর্ডান - মুসলিম 92%

মরোক্কো - মুসলিম 98.7%

পাকিস্তান - মুসলিম 97%

প্যালেস্টাইন - মুসলিম 99%

সিরিয়া - মুসলিম 90%

তাজিকিস্তান - মুসলিম 90%

টার্কি - মুসলিম 99.8%

ইউনাইটেড আরব এমিরেটস 96%

এবার 100% জনবসতি বহুল মুসলিম সমাজ তাদের মতো করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে - যাকে 'ইসলামী শান্তি' বলে - 'দার-এস-সালাম'-এর প্রতিষ্ঠা করা শান্তি, যেখানে শান্তি অর্থ হচ্ছে সকলেই যেহেতু মুসলিম, সেখানে শান্তি প্রত্যাশিত, যেখানে স্কুল মানেই মাদ্রাসা, একমাত্র ধর্মীয় শব্দ হলো 'কোরআন' । যা আজ বাস্তব ::

আফগানিস্তানে 100%

সৌদি আরব 100%

সোমালিয়া 100%

ইয়েমেন 100%

ডক্টর হ্যামন্ডের মতে "এই ইসলামিক ধারণা সম্ভবতঃ কখনোই বাস্তবায়িত হয় না, দুর্ভাগ্যবশত 100% জনসংখ্যায় পৌঁছে কট্টরপন্থী জেহাদী গ্রুপেরা নানাবিধ কারণে তাদের রক্তপিপাসা মেটাতে তুলনায় কম কট্টর মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংহার শুরু করে....

একটা বিষয় পরিষ্কার করে বোঝার আছে , যেসব দেশে মুসলিম জনসংখ্যা 100% এর অনেক কম, যেমন ফ্রান্স, যেখানে সংখ্যালঘু মুসলিমরা ঘেরা ঘুপচি অঞ্চলে একত্রে বসবাস করে, যে অঞ্চলে মুসলিমরাই 100%, আর তাদের সেই ঘেরাটোপের মধ্যে তারা সকলে শরিয়ত আইন অনুযায়ী জীবন যাপন করে ।"

হ্যামন্ড জনসংখ্যার বিন্যাস নিয়েও চিন্তিত । "তাঁর কথায়, বর্তমানে 1.5 বিলিয়ন মুসলিম সমুদায় পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার 22% হয়ে দাঁড়িয়েছে".... তিনি আরও বলছেন,....."কিন্তু তাদের জন্মহার খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদি, অন্যান্য সমস্ত ধর্মাবলম্বী মানুষের চেয়ে ঢের বেশি । তাদের জনসংখ্যা এই শতাব্দীর শেষে গিয়ে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার 50% পেরিয়ে যাবে ।"


Enjoy
Free
E-Books
on
Just Another Bangladeshi
By
Famous Writers, Scientists, and Philosophers 
Our Social Media
  • Facebook
  • Twitter
  • Pinterest
Our Partners

© 2023 by The Just Another Bangladeshi. Proudly created by Sen